গ্রামীণ জনপদ ছেড়ে শহরেও দেখা মিলছে এখন ভেষজ সমৃদ্ধ থানকুনি পাতা

মাহবুব পলাশ : মীরসরাই

সোমবার , ৭ অক্টোবর, ২০১৯ at ৬:২৬ পূর্বাহ্ণ
62

গ্রামীণ জনপদে সকলের পরিচিত থানকুনি একটি নাম। চট্টগ্রামের অঞ্চলভেদে অনেকে ‘আদনি’ ও বলে থাকে। একসময় গ্রাম ছাড়া শহরে এর দেখা নাম মিললেও আজকাল কেউ কেউ বাণিজ্যিকভাবে চাষ করায় আজকাল শহরেও সহজলভ্য উঠেছে এই ভেষজ শাকপাতাটি। আবার পর্যাপ্ত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বাড়ছে না এর আবাদ চেষ্টা।
তবে শহরের থানকুনি পাতাগুলো আমাদের গ্রাম-গঞ্জে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো পাতার তুলনায় ৩ থেকে ৪ গুণ বড়। আলাপচারিতায় জানলাম এগুলো চাষের থানকুনি। চাহিদা ও বাজারমূল্য ভালো থাকায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশ, ভারতসহ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশের আর্দ্র এলাকায় থানকুনি ভালো জন্মে। বাড়ির ছাদ, টব সব আঙিনায়ও লাগানো যায় এই ঔষধিগাছ। বসন্তকালে থানকুনি লতার ফুল আসে এবং গ্রীষ্মকালে ফল পাকে। বীজের মাধ্যমে বা অঙ্গজ উভয়ভাবেই থানকুনির বংশবিস্তার হয়।
একসময় মীরসরাই উপজেলার প্রতিটি গ্রামের বাড়ির উঠোনের পার্শ্বে, পুকুর বাড়ে, পবিত্রস্থানে, খালপাড়ে, জমির আইলে সহ নানা স্থানে আদনি পাতা চোখে পড়তো সকলের। শহরে চাষ হলেও গ্রামীণ প্রাকৃতিক থানকুনি পাতার ভেষজগুণ অনেক বেশি সমৃদ্ধ। থানকুনি পাতা দেশের খুব পরিচিত একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। অঢ়রধপবধব পরিবারের এ উদ্ভিদটির ইংরেজি নাম Indian Pennywort আর ল্যাটিন নাম Centella aciatica. সংস্কৃতিতে থানকুনি ব্রাহ্মী নামে পরিচিত। অঞ্চলভেদে থানকুনি পাতাকে আদামনি, তিতুরা, টেয়া, মানকি, থানকুনি, আদাগুনগুনি, ঢোলামানি, মু্লকপনী, থুলকুড়ি, মানামানি, ধুলাবেগুন, টুনিমানকুনি ইত্যাদি নামে ডাকা হয়। তবে বর্তমানে থানকুনি বললে সবাই এটিকে চেনে। থানকুনি এক ধরনের বর্ষজীবী লতা। মাটির ওপর লতা বেয়ে বেড়ায় এবং লম্বা বৃন্তের ওপর গোলাকার খাঁজকাটা কিনারাযুক্ত পাতা ওপর দিকে মুখ করে থাকে।
থানকুনি ভেষজগুণে সমৃদ্ধ। থানকুনি পাতা সব ধরনের পেটের রোগের মহৌষধ। পাতা বেটে ভর্তা করে বা ঝোল করে খেলে বদহজম, ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিক ও পেটব্যথা দূর হয়। থানকুনির বলকারক, রুচিবর্ধক ও হজম বৃদ্ধিকারক গুণ রয়েছে। থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদান বেরিয়ে যায়। সর্দি ও জ্বরেও থানকুনি বেশ উপকারী। আলসার, হাঁপানি, চুলকানি ও অন্যান্য চর্মরোগ সারাতে থানকুনি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। থানকুনি পাতার সক্রিয় উপাদান মস্তিষ্কের কোষ সতেজ রাখতে সহায়তা করে। পুরনো ক্ষত সারাতে থানকুনি পাতা সেদ্ধ করে তার পানি দিয়ে নিয়মিত ধুলে সহজে নিরাময় হয়। নতুন ক্ষতে থানকুনি পাতা বেটে লাগালে উপকার পাওয়া যায়। থানকুনি পাতার রস খেলে মাথা থেকে চুল পড়া কমে। দাঁতের রোগেও থানকুনি উপকারী। দুই চামচ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মিশিয়ে সাত দিন খেলে সব ধরনের কাশি ভালো হয়ে যায়। থানকুনি পাতা চামড়া মসৃণ করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে পুনর্গঠনে সাহায্য করে। তবে একাধারে থানকুনি শাক বেশি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
মীরসরাই উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের জনৈক কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন মীরসরাই উপজেলা কৃষি বিভাগ আমাদের নানা ভেষজ সমৃদ্ধ শাক প্রজাতির এই থানকুনি বিষয়ে কখনো বলেনি। তিনি মনে করেন ভেষজ সচেতনতার উদ্যোগ নিলে আমাদের অনেক রোগব্যাধি প্রাকৃতিক উপায়েই প্রতিরোধ করতে পারি। এই বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন এই বিষয়ে আগামীতে আমরা আমলে আনার বিষয়ে ভাববো।

x