গোমতি খালের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি

সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি

বৃহস্পতিবার , ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ at ৪:১২ পূর্বাহ্ণ
24

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় গোমতি খালের ভাঙনের কবলে বসতি বাড়ি, ফসলি জমি, গ্রামীণ সড়ক বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে খালের ভাঙন অব্যাহত থাকলেও ভাঙন রোধে কোন পদক্ষেপ নেই। খালের ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেকে ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে গ্রামীণ সড়ক। ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে বিষয়টিই জানে না বলে দাবি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলা থেকে গোমতি ইউনিয়নের গড়গড়িয়া গ্রামের দূরত্ব অন্তত ১৩ কিমি। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,‘ বিস্তীর্ণ সমতল ভূমির এই গ্রামে বেশীর ভাগই কৃষিজীবী। গড়গড়িয়ায় ফসলের মাঠজুড়ে আমন ধানের সোনালী ঢেউ।
স্থানীয়রা জানান ,কয়েক দশক ধরে খালের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। কয়েক বছর পর পর একূল ভাঙ্গে অন্যকূল গড়ে। খালের কারণে অনেকে জমি,বসতবাড়ি হারালেও সেখানে পরবর্তীতে চর গড়ে উঠেছে।
গড়গড়িয়া এলাকার বাসিন্দা জাফর মিয়া জানান. খালের অপর পাড়ে আমার বাড়ি ছিল। বর্তমানে সেখানে চর জমেছে। খালের ভাঙনে বসতবাড়ি ,ফসলি জমি হারিয়ে গেছে। খালের ভাঙনের কারণে খালের অন্যপাড়ে বসতি করেছি। বর্তমানে এখানেও খালের ভাঙন চলছে। ভাঙনের ঝুঁিকতে রয়েছে ফসলি জমি,অন্তত ৫০ পরিবার ও গ্রামীণ সড়ক। বসত বাড়ি সংলগ্ন ১শ ফুট দীর্ঘ মাটি ধসে খালে পড়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে খালের পাড়ের সবই বিলীন হবে।
গ্রামের বাসিন্দারা জানান,বর্ষা আসলে খালের স্রোত বাড়ে। পানি কমে আসার পর ভাঙন শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও তা রোধে কোন উদ্যোগ নেই। এভাবে চলতে থাকলেও খালে সব হারিয়ে যাবে।
গড়গড়িয়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘শিকস্তি’ আইন কার্যকর না হওয়ায় খালের ভাঙনের পর চর জেগে উঠলেও তার মালিকানা দাবি করা যায় না। খালের ভাঙনের কবলে পড়ে তারা সবকিছু হারাচ্ছে।’
গড়গড়িয়া এলাকায় কৃষক শফিক মিয়া জানান, আমাদের বসতি ছিল খালের ঐ পাড়ে। ভাঙনের কারণে এখানে এসেছি ৮ বছর। এখন নদী এদিকে ভাঙছে । বসত বাড়ি উঠানের একটি অংশ খালে বিলীন হয়েছে। খালের ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত। ’
খাগড়াছড়ি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিকেল চাকমা জানান, মাটিরাঙার গোমতি ইউনিয়নের খালের ভাঙনের বিষয়টি জানা নেয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা এলাকাবাসী বিষয়টি আমাদেরকে অবগত করেনি। এলাকাবাসী জানালে আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। তবে এই অর্থ বছরে খালের ভাঙন রোধে কোন অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার সুযোগ নেই। ’

x