‘গুলি খেয়ে রাস্তায় মরে যাইনি কেন?’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরের প্রশ্ন

আজাদী অনলাইন

বৃহস্পতিবার , ২১ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
260

দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে গত দেড় বছরেও আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারার জন্য নেতাদের দায় দেয়ার পাশাপাশি কর্মীদেরও সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তিনি বলেছেন, ‘উনি (খালেদা জিয়া) যে জেলখানায় গেছেন আমাদের মধ্যে ২/৪ জন ২০/৫০টা, ১০০টা গুলি খাইয়া রাস্তায় মরে যাইনি কেন?’

তাই গয়েশ্বর এখন ‘ডু অর ডাই’ আন্দোলন চান।

দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ড নিয়ে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। তার মুক্তির দাবিতে জোরাল আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারার জন্য নেতাদের সমালোচনা করে আসছেন গয়েশ্বর।

খালেদা জিয়ার ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি আবারও এই প্রসঙ্গ তোলেন। বিডিনিউজ

গয়েশ্বর বলেন, “কথার ফুলঝুরি দিয়ে তারেক রহমান বা আমাদের নেতৃবৃন্দকে খুশি করার জন্য যদি ব্যস্ত থাকি, প্রকৃত অর্থে খালেদা জিয়ার জেলখানা হবে চিরস্থায়ী এবং তারেক রহমানের দেশান্তর হবে চিরস্থায়ী। সেই কারণেই আজকে আমাদের মূল দায়িত্ব- ‘ডু অর ডাই’, ‘মরি আর বাঁচি’- একটা কিনারা হোক।”

রাজনৈতিক নেতা খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আইনি পথে ভরসা নেই গয়েশ্বরের।

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মতো একজন একজন আপসহীন নেত্রী জেলখানায় থাকবেন আর আমরা প্যারোল আর জামিন নিয়ে কোর্ট-কাচারিতে দৌড়াদৌড়ি করব কেন? আমরা আন্দোলন করব রাজপথে, যে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে আসবেন। দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য আন্দোলনই সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ।‘

দলের ব্যর্থতার দিকটি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রাস্তায় নামতে পারব না কেন? কী কারণে? খালেদা জিয়া জেলখানায় গেছেন, আমরা ১০/২০/৩০/৫০ হাজার, এক লক্ষ লোক জেলে থাকতাম, খালেদা জিয়াকে আমরা কোন মাপকাঠিতে রাখলাম? জয়ললিতা (ভারতের) একজন মুখ্যমন্ত্রী, তার জেল হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ১৩ জন নাই। তাহলে আমরা? আমাদের মতো নেতা, মন্ত্রী-এমপি, আরও অনেক কিছু হওয়ার পেছনে যার অবদান, তার (খালেদা জিয়া) জন্য কি আমাদের কিছু করার আছে? নাই? যদি থাকে তাহলে নিশ্চয়ই আমাদের মধ্যে যারা ধরেন সিদ্ধান্ত দেয়ার, আমরা যারা মনে করেন সিদ্ধান্ত দিচ্ছি না তাহলে আমাদেরকে ঘেরাও করেন না কেন? আমাদের বাড়ি ঘেরাও করেন না কেন?‘

গয়েশ্বর বলেন, ‘আমাদের সামনে বেশি সময় নাই। একটা ইস্যুর মধ্যে সব ইস্যু রয়েছে। সেটা হলো গণতন্ত্রের ইস্যু, খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যু। এই দুটা ইস্যু যদি ফয়সালা করতে পারি, বাকি ইস্যুগুলো ভবিষ্যতে মিটবে।’

‘সম্মিলিত ছাত্র ফোরাম’র উদ্যোগে সংগঠনটির আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কেন্দ্রীয় নেতা আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, সাবেরা নাজমুল, জাসাসের শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা বক্তব্য রাখেন।

x