গুণ আছে হলুদে স্বাদ আছে ফুলে

মীর আসলাম : রাউজান

সোমবার , ২৬ আগস্ট, ২০১৯ at ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
152

বাঙলার তরুলতা গুল্ম জাতের একটি উদ্ভিদ হলুদ। হলুদের বৈজ্ঞানিক নাম ঈঁৎপঁসধ ষড়হমধ। তরি তরকারির মসল্লার উপদান হিসাবে হলুদ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমাদের দেশে হলুদ উৎপাদন হয় পার্ব্বত্য জেলার পাহাড় টিলার মত ঢালু জমিতে। আগেকার দিনে কিছু কিছু গ্রামে হলুদের চাষাবাদ দেখা গেলেও এখন তা আর দেখা যায় না। গত কয়েক বছর থেকে হলুদের ফলন উদ্বেগজনকভাবে কমতে শুরু করে। জানা যায় রান্নার এই উপকরণটি এখন ব্যাপক হারে আমদানি হওয়ার কারণে দেশিয় হলুদ উৎপাদনে কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছে। চাষীদের মতে পরিবেশ এখন হলুদ চাষাবাদে সহায়ক নয়। হলুদ এর গুণাগুণ সম্পর্কে যারা ধারণা রাখেন তাদের মতে প্রাচীনকাল থেকে হলুদ রান্না-বান্নাসহ মানুষের জীবনযাত্রায় বিভিন্নভাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। চাহিদার বিবেচনায় পাহাড় টিলার পাশাপাশি আগে গ্রামীণ মানুষের বাড়ী ভিটায়ও হলুদের চাষাবাদ হতো। আগের দিনে হাটবাজারের টনে টনে বিক্রির জন্য নিয়ে আসতো কাঁচা শুকনা হলুদ। কাঁচা শুকনা হলুদের পাশাপাশি হলুদ ফুলের রয়েছে অন্য রকম কদর। হাটবাজারে হলুদ ফুল কলাপাতা বিছিয়ে বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখার দৃশ্য এখনো কোনো কোনো সময় চুখে পড়ে। ফুল আর হলুদের কচি পাতা গৃহীনিরা তরকারি রান্নায় সুগন্ধির জন্য ব্যবহার করে থাকে। প্রবীণদের মতে আদিকাল থেকে কাঁচা, শুকনা, গুঁড়া হলুদ নানা কাজে ব্যবহার করছে মানুষ ঔষধি গুণের দ্রব্য হিসাবে। বলা যায়, রূপচর্চা, রান্না থেকে শুরু করে রোগ শোকেও এই হলদুদের জুড়ি মেলা ভার। এটি ভেষজ দ্রব্য মুখের রুচি বাড়ায়। কফ, বাতের ব্যথা, ব্রন, চর্ম রোগ, কৃমি ইত্যাদি সমস্যা মুক্তি দিতে পারে। হলুদ ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ভিটামিন কে, ক্যালসিয়াম, কপার, আয়রনের পাশাপাশি এতে আছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি অক্সিডেণ্ট, অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিকারসিনোজেনিক, অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান। হলুদ হজমে সমস্যা হলে রান্না ছাড়া শুধু হলুদ খেলে উপকার পাওয়া যায়। পেট ফাঁপা, গ্যাসে সমস্যা রোধ করে হজমশক্তি বৃদ্ধি করে থাকে। এটি চর্বি বিপাকে সাহায্য করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করে। হলুদ বাড়তি ওজন বা মেদ কমাতে সাহায্য করে। হলুদের মধ্যে থাকা রাসায়নিক পদার্থ কারকিউমিন, শরীরে খুব তাড়াতাড়ি মিশে যায়। এবং শরীরের ওজন বাড়তে দেয় না। হলুদে থাকা ‘পলিফেনল’ নামক উপাদান চোখের অসুখ ‘ক্রনিক অ্যান্টিরিয়ার ইউভেইটিস’ সারাতে কাজ করে। তাছাড়া হলুদ অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার উপশমেও কাজ করে। চর্ম রোগের জন্য হলুদ অনেক উপকারী। কাঁচা হলুদের সাথে কাঁচা দুধ মিশিয়ে শরীরে মাখলে একজিমা, অ্যালার্জি, চুলকানি থাকে না। ব্রনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কাঁচা হলুদ বাটা, আঙ্গুরের রস ও গোলাপ জল মিশিয়ে ব্রনের উপরে প্রলেপ দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেললে ব্রণ মিলিয়ে যায়। তবে এই হলুদ ব্যবহারে সতর্কবাণী রয়েছে। গলব্লাডারের রোগীরা হলুদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরী বলে অনেকেরই অভিমত। লিভারে সমস্যায় আক্রান্তও হলুদ ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় বলে কেউ কেউ বলে থাকেন।

x