গুজবে লবণের বাজারে অস্থিরতা

আমদানিকারক চক্রের কাজ! কেনার হিড়িক, মিল মালিকরা জানালেন মজুদ পর্যাপ্ত

জাহেদুল কবির

বুধবার , ২০ নভেম্বর, ২০১৯ at ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ
404

পেঁয়াজের পরে এবার আলোচনায় এসেছে লবণের বাজার। লবণের দাম দুইশ টাকা হবে-এমন গুজবের পর খুচরা বাজারে লবণ কেনার হিড়িক পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার অনেক খুচরা বিক্রেতার মজুদও শেষ হয়ে গেছে। একেকজন ক্রেতা ৭/৮ কেজি লবণ কিনে নিয়ে যান। এই সুযোগ কিছু কিছু অসাধু বিক্রেতা প্রতি কেজি লবণে ১০-১৫ টাকা বেশি মুনাফা করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
তবে মিল মালিকরা বলছেন, গত মাসের শেষের দিকে সোডিয়াম সালফেট এবং লবণ আমদানি বন্ধ করার নির্দেশনা দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মূলত লবণ আমদানিকারক চক্রটিই গুজব ছড়িয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে। বর্তমানে দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। এ বছর দেশের ৫৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি লবণ উৎপাদন হয়েছে। বর্তমানে মজুদকৃত লবণ দিয়ে আগামী ছয় মাস নির্বিঘ্নে চলে যাবে। এছাড়া আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে নতুন লবণ আসবে বলে জানালেন তারা। এদিকে লবণের দাম বৃদ্ধির গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)। সংস্থাটি গতকাল এ ব্যাপারে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। বর্তমানে দেশে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি লবণ মজুদ রয়েছে। সমপ্রতি লবণ নিয়ে একটি অসাধু চক্র বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তা থেকে মুনাফা লুটের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
নগরীর কয়েকটি খুচরা দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল বিকাল থেকে লবণ বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। একেক ক্রেতা একসাথে সর্বোচ্চ ১০ কেজি পর্যন্ত লবণ কিনেছেন। ফলে অনেক খুচরা দোকানে হঠাৎ করেই লবণের মজুদ ফুরিয়ে যায়। দামপাড়া এলাকার খুচরা বিক্রেতা সাদেক রানা দৈনিক আজাদীকে বলেন, লবণের দাম বেড়ে যাবে-এমন গুজবের কারণে ক্রেতারা অধিক পরিমাণে লবণ কিনছেন। আমরা পাইকারদের সাথে কথা বলেছি, তারাও বলছেন বর্তমানে লবণের কোনো সংকট নেই। তারপরও বেশি বিক্রি হওয়ায় এখন বিকালেই লবণ শেষ হয়ে যায়। অথচ একদিনে যে পরিমাণ হয়েছে সেই পরিমাণ লবণ বিক্রি করতে আমাদের ৭-৮ দিন পর্যন্ত লেগে যায়। তবে আমরা আগের দরেই বিক্রি করেছি।
অভিযোগ রয়েছে, গুজবের ফলে লবণ বিক্রি বেড়ে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে কিছু কিছু পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা লবণের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে লবণের দাম কেজিতে ২ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির দৈনিক আজাদীকে বলেন, এই মুহূর্তে দেশে পর্যাপ্ত লবণ উদ্বৃত্ত আছে। শুধুমাত্র কঙবাজারে ৩ লাখ টনের বেশি লবণ উদ্বৃত্ত রয়েছে। মূলত সোডিয়াম সালফেট এবং অবৈধ লবণ আমদানিকারক চক্র লবণের বাজার অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। গুজব সৃষ্টি করাটা সেই পাঁয়তারার অংশমাত্র।
তিনি জানান, গত ২৪ অক্টোবর এনবিআর সোডিয়াম সালফেট এবং লবণ আমদানি বন্ধ করে দেয়। কারণ ওইসব লবণ আমদানির ফলে দেশের লবণ চাষিরা বারবার লোকসান গুনছেন। আমরা সরকারকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি, দেশে রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদন হয়েছে। বর্তমানে যে পরিমাণ লবণ উদ্বৃত্ত রয়েছে সেগুলো দিয়ে আগামী ৬ মাস চলে যাবে। এছাড়া সামনে আবার নতুন লবণ আসছে। আমরা আজকে (গতকাল) কঙবাজারে মিল মালিকরা সাধারণ সভার আয়োজন করেছি। সভায় দেশে পর্যাপ্ত লবণ উদ্বৃত্তের বিষয়টি উল্লেখ করেছি।
উল্লেখ্য, লবণ সংক্রান্ত বিষয়ে তদারকির জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিসিক প্রধান কার্যালয়ে ইতোমধ্যে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এর নম্বর হচ্ছে ০২-৯৫৭৩৫০৫, ০১৭১৫২২৩৯৪৯ ও ০১৬২৪২৭৬০১২। অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও কন্ট্রোল রুম খুলেছে। ফোন ০২-৫৫০১৩২১৮ এবং ০১৭৭৭৭৫৩৬৬৮। এছাড়া প্রয়োজনে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা নেয়ার কথা জানানো হয়েছে।
গুজবে কান না দিতে মেয়রের আহ্বান
লবণ নিয়ে গুজবে কান না দিতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, একটি মহল সুপরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। এ ধরনের গুজবে সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টসহ দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছে। প্রকৃতপক্ষে লবণের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

x