গুচ্ছ কবিতা

কল্যাণ বড়ুয়া

শুক্রবার , ১ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ
30

ভালোবাসার নদীতে শরতের বৃষ্টি

তুমি কখনো মেঘ, কখনো বৃষ্টি,
কখনো রৌদ্র, কখনো ছায়া।
মেঘ-বৃষ্টি, রৌদ্র-ছায়ার মতো
জড়িয়ে আছো আমার জীবনে।

তোমার পরশ, তোমার ছায়া আমার
চলার পথে মৃত সঞ্জীবনীর
মতো।
মেঘ বৃষ্টির লুকোচুরিতে সৃষ্ট রঙধনুর
রঙে রাঙিয়ে দাও আমাকে বারে বারে।
তোমার অনুভবের ভাবনায় অস্থিরতার
ঝড়ে ম্রিয়মান হই কখনো, তবে দুর্বল
হই না।
হ্নদয়ের প্রকোষ্ঠে, মনের গভীরে
স্মৃতির কামড়ায় তোমার অগাধ বিচরণ,
আমাকে নিয়ে যায় তোমার ভালোবাসার
নদীতে বারে বারে।
আমার অবগাহনে, তোমার উচ্ছ্বাস
ভরা দৃষ্টিতে ভিজে যায় আমার
শরীর। অন্যরকম শিহরণে জেগে উঠে
আমার সত্তা। খুঁজে ফিরি আনমনে
অবলীলায় তোমাকে।
কিন্তু, কোথাও নেই। শরতের বৃষ্টির
মতো আচমকা ভেসে উঠে মনের পর্দায়
তোমার ছবি, অজান্তে ভেসে যায়
সাদা মেঘের ভেলায়। হাত বাড়িয়েও
ছোঁয়া হয় না।

স্বপ্নজাল

স্বপ্ন, স্বপ্নার প্রাণ।
স্বপ্নের রাজ্যে স্বপ্নার অগাধ বিচরন।
স্বপ্নের সমুদ্রে স্বপ্নার নাও ভেসে চলে
গন্তব্যহীন পথে।
বাস্তবের সাথে কল্পনার যে অসম ব্যবধাণ,
স্বপ্না তা ভুলে যায় বার বার।
নিদারুন কষ্টে চলার পথে স্বপ্নই স্বপ্নাকে
বাঁচিয়ে রাখে। আপনজনহীন সংসারে একা
পথে স্বপ্নার পথ চলা।
সুখের সংজ্ঞা কি স্বপ্নার জানা নাই।
খেয়ে না খেয়ে জীবন কেটে যায়
নিয়মের অনিয়মে।

স্বপ্নের যাত্রাপথে রাজপুত্তুর আসে
ঘোড়ায় চড়ে পাইক পেয়াদা নিয়ে।
বাদ্যের ঝংকারে প্রকম্পিত হয় আকাশ
বাতাস। বধু সাজে অপেক্ষায় স্বপ্না।
সাজানো গাড়িতে উঠার মুহূর্তে ভেঙে
যায় স্বপ্ন। ছেড়া কাঁথায় শুয়ে ঘুম চোখে
ক্লান্তির পরশ।

বসে থাকার উপায় নেই।
ক্লান্তির বাঁধা টপকে ছুটতে হবে কাজের সন্ধানে
নতুন ভোরে, নতুন দিনে।

বিমূর্ততা

ঝড়ো হাওয়ায় সবকিছু ওলট পালট।
টর্নেডোর হঠাৎ আঘাতে কিছু বুঝে উঠার
আগেই হৃদয় কোণে চাপা পড়া কান্নাভেজা
অস্থিরতার এলোমেলো বহি:প্রকাশ।
বাড়ির আঙিনায় শতবর্ষী গাছটা নুইয়ে
পড়েছে অবলীলায়।
যে গাছটি একটি বাড়ির পারিবারিক
ঐতিহ্যের ধারক বাহক, এতোদিন মাথা
উঁচু করে শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়িয়ে
বাড়িটিকে আগলে রেখেছিলো আপন
মহিমায় আত্মত্যাগের বিনিময়ে।
যে গাছটি অনেক ঘটনার সাক্ষী হয়ে নীরবে
নিভৃতে অশ্রুভেজা চোখে দন্ডায়মান ছিলো,
টর্নেডোর মর্মর আঘাতে ধসে পড়েছে
তার অহংকার।
আর কেউ তাকাবে না তার দিকে, মন্তব্য
করবে না তাকে নিয়ে।
কালের সাক্ষী হয়ে থাকা গাছটি ফাঁকা বাড়িটির
শূন্যতার একমাত্র সাক্ষীর শূন্যতায় ঘরময়
নিরেট অন্ধকার।
গাছটির নীরব কান্নার অশ্রুজলে সিক্ত
বাড়িটির মমতায় ভরা শূন্যতা কেঁদে যায়
নীরবে নিভৃতে।

x