গর্ভাবস্থায়ঙ চোখের সমস্যা

মো. আরমান বিন আজিজ মজুমদার

শনিবার , ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ
20

যে কোনো নারীর জীবনে গর্ভাবস্থা একটি বিশেষ সতর্কতার সময়। গর্ভবতী মায়ের শরীরে হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন, ইস্ট্রোজেন, প্রজেসটেরন, প্রোল্যাকটিন, রিল্যাক্সি ইত্যাদি হরমোনের আধিক্য থাকে, যা গর্ভস্থ শিশুর বিকাশ ও জন্মের জন্য প্রয়োজনীয়। এই হরমোনগুলির প্রভাবে গর্ভবতী মায়ের শরীরে নানা প্রকার উপসর্গ দেখা যায়, যেমন সকালে বমি বমি ভাব, খাদ্যে অনীহা, মুখে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কালো ছাপ পড়া, শরীরে পানি জমা ইত্যাদি।
গর্ভাবস্থায় চোখেরও বিভিন্ন উপসর্গ দেখা যায়। গর্ভাবস্থায় চোখ আলোতে বিশেষ স্পর্শকাতর হয়ে যায়। ফলে রোদে মাথা যন্ত্রণা করতে পারে, যাঁদের মাইগ্রেনের সমস্যা আছে তাঁদের সমস্যাটি গর্ভাবস্থায় বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ এই সময় খাওয়া উচিত নয়। রোদে সানগ্লাস ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। গর্ভাবস্থায় চোখের অশ্রু নিঃসরণ কমে যেতে পারে। ফলে চোখ লাল হয়ে চুলকাতে পারে। নিজে থেকে বা ওষুধের দোকানে জিজ্ঞাসা করে কখনোই চোখে কোনো ওষুধ দেয়া যাবে না। চোখের ডাক্তারের কাছে গিয়ে জানান যে আপনি গর্ভবতী। গর্ভাবস্থায় যেকোনো ওষুধ প্লাসেন্টার মাধ্যমে শিশুর শরীরে চলে যায়। কাজেই ওষুধগুলি শিশুর জন্য নিরাপদ হওয়া জরুরি। গর্ভাবস্থায় শরীরের অন্যান্য অংশের মতো চোখের কর্ণিয়াতেও পানি জমে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে।
যাঁরা আগে থেকে চশমা পড়েন বা কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, তাঁরা এই সময় আগের চশমা বা কনট্যাক্ট লেন্স দ্বারা ঝাপসা দেখতে পারেন। কর্ণিয়ায় পানি জমে বলে গর্ভাবস্থায় ল্যাসিক অপারেশন করা উচিত নয়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুর জন্মের পর এই ঝাপসা ভাব কেটে যায়। কিন্তু দৃষ্টিশক্তি অত্যাধিক কমে গেলে তা অন্য কোনো বড় সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে। দৃষ্টিশক্তি অত্যাধিক কমে গেলে আপনার গায়নোকলজিস্টকে জানান এবং পরবর্তীতে চক্ষু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হউন।
গর্ভাবস্থায় উচ্চরক্তচাপ, প্রিএকলাম্পসিয়া
এবং একলাম্পসিয়া
এই জটিল পরিস্থিতিগুলিতে গর্ভবতী মায়ের রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি হয়। পরিস্থিতিগুলি মা এবং শিশু উভয়র জন্যই বিপজ্জনক। দেরি না করে অতি দ্রুত গায়নোকলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই পরিস্থিতিতে যদি চোখে ঝাপসা দেখা যায়, চোখে বিদ্যুতের চমকের মতো আলো দেখা যায়, মাথা যন্ত্রণা করে তবে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অবশ্যই নিতে হবে।
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি
যেসব মায়েদের আগে থেকে ডায়াবেটিস ছিল বা যাঁদের প্রেগন্যান্সির জন্য রক্তে সুগার বেড়েছে, উভয় ক্ষেত্রেই চোখের রেটিনার সূক্ষ্ম রক্তবাহিকাগুলি ক্ষতিগ্রস্তহয়ে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি হতে পারে। এই অবস্থায় চোখের ডাক্তার দেখাতে হবে।

লেখক : লো-ভিশন ও কন্টাক্ট লেন্স বিশেষজ্ঞ