গণতন্ত্র শেখার পাঠে স্কুল শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত ভোট

আর এন তমা

শনিবার , ৭ মার্চ, ২০২০ at ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
222

বাংলাদেশ এবং গণতন্ত্র একে অপরের পরিপূরক। পঞ্চাশ বছরের দোরগোড়ায় পা দেওয়া এই দেশটির সাথে জড়িয়ে আছে বার বার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একেকটি ইতিহাস। ২০২০ সালে এসে আমরা গণতন্ত্রকে দেখছি আরো কাছ থেকে। এই প্রত্যক্ষ করার সুযোগ আমাদের দিয়েছে স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন। বর্তমান সরকারের প্রশংসনীয় উদ্যোগগুলোর মধ্যে যা একটি। শিক্ষা জীবনের প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের গণতন্ত্র শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টিতে শিক্ষকদের সহায়তা করা, দক্ষ নেতা ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এ নির্বাচনের মূল লক্ষ্য।
২০১১ সাল থেকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ নির্বাচনে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৭টি পদে নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য শিক্ষার্থীরা ভোট প্রদান করে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় ২৩ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে দশম বারের মত অনুষ্ঠিত হয়ে গেল স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন।
মিরপুর থানাধীন জাহানাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচন প্রত্যক্ষ করে দেখলাম এখানে ভোটারের উপস্থিতি প্রায় ৯০ শতাংশ; যা অবিস্মরণীয়। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মহাসমারোহে চলেছে ভোটগ্রহণ। পর্যবেক্ষক থেকে শুরু করে আনসার বাহিনী সবাইকে দেখলাম। কথা হল নির্বাচনে বিভিন্ন পদপ্রার্থী কয়েকজন ক্ষুদে শিক্ষার্থীর সঙ্গে। বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ওরা কী করবে তা নিয়ে ওদের ভাবনা মুগ্ধ করার মত।
কথা হল জাহানাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন মোল্লার সাথে। তিনি বলেন, স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অন্যের মতামতকে গুরুত্ত্ব দেওয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্রের শিক্ষা লাভের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সুযোগ্য দেশনেতা হিসেবে গড়ে ওঠার প্রাথমিক গুণাবলী অর্জন করবে।
অন্যান্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকেও জানতে পারি, সারা দেশে এভাবেই উৎসবমুখর পরিবেশে হয়ে গেছে নির্বাচন। শিক্ষার্থীদের আগ্রহের মাত্রাও সব জায়গায় একই রকম। এখন শুধু অপেক্ষা আর আশা, এই ক্ষুদে নেতারা একসময় দেশের হাল ধরবে, মুক্তবুদ্ধির চর্চা করবে আর দুর্নীতমুক্ত সোনার বাংলা গড়বে।

সৌজন্যে : বিডিনিউজ