খোলা বাজার ও গুদামে মিলছে বন্ডের পণ্য

জনবল সংকটে নজরদারিতে ধীরগতি, দাবি কাস্টমসের

জাহেদুল কবির

শনিবার , ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ
160

বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত কাঁচামাল দিয়ে পণ্য তৈরি করে তা শতভাগ রপ্তানি হওয়ার কথা। কিন্তু অনেক অসাধু ব্যবসায়ী এসব কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি করে দেন। ফলে একদিকে এসব পণ্যের বাণিজ্যিক আমদানি কমছে অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বন্ডের কাঁচামালের বেশিরভাগই পোশাক খাতের। কারণ রপ্তানিমুখী শিল্পের মধ্যে পোশাক খাতই সবচেয়ে বড়। তবে বন্ড কাস্টমসের নজরদারির অভাবে অনেক সময় বন্ড সুবিধার অপব্যবহার হচ্ছে। প্রত্যেক কারখানার বন্ডেড গুদামে পরিদর্শন করার মতো তাদের পর্যাপ্ত জনবল নাই। এছাড়া এখনো বন্ড ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন চালু করা যায়নি। ফলে ম্যানুয়ালি রেজিস্টারে পণ্যের হিসাব রাখতে হচ্ছে। এতে স্বচ্ছতার অভাব থেকেই যাচ্ছে। তবে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট চট্টগ্রামের কর্মকর্তারা জানান, সীমিত জনবলের মধ্যেও বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে অনেকগুলো কারখানার বন্ড লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলোর দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম বন্ধ তাদের লাইসেন্সও স্থগিত রয়েছে। সম্প্রতি নগরীর দেওয়ানহাট সুপারিওয়ালা পাড়া এলাকায় দুটি গুদামে অভিযান চালিয়ে বন্ড সুবিধায় আনা প্রায় ১০০ টন কাপড় জব্দ করে র‌্যাব। এসব কাপড়ের মধ্যে বস্তাভর্তি থান কাপড়, স্যুইটার-জ্যাকেট, শার্ট, প্যান্টসহ নানা ধরনের গার্মেন্টস সামগ্রী ছিল। গুদামগুলাতে উপস্থিত কর্মচারীরা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় বস্তাভর্তি কাপড়গুলো জব্দ করা হয়। এছাড়া গুদাম দুটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে জড়িত প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার পর প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়ে চূড়ান্ত তদন্তে যাওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে মামলা পর্যন্ত সময় লেগে যায় ছয় মাস বা তারও বেশি। এরপর বেশির ভাগ মামলা বিভিন্ন ধাপ পার হয়ে আপিল বিভাগ পর্যন্ত পৌঁছাতে পার হয়ে যায় কয়েক বছর। এর মধ্যে দুর্নীতিবাজরা নতুন নামে নতুন প্রতিষ্ঠান খুলে আবার একইভাবে দুর্নীতি চালাতে থাকেন।
পোশাক কারখানার মালিকরা জানান, আমরাও স্বচ্ছতার সাথে ব্যবসা করতে চাই। বিভিন্ন সময় বন্ড অপব্যহার হলেই সবচেয়ে বেশি দায় নিতে হয় পোশাক মালিকদের। আমরা প্রথম থেকেই বন্ড ব্যবস্থাপনায় অটোমেশনের দাবি জানিয়ে আসছিলাম।
জানতে চাইলে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট চট্টগ্রামের অতিরিক্ত কমিশনার সফিউজ্জামান দৈনিক আজাদীকে বলেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে আমরা কঠোর নজরদারি করে যাচ্ছি। গত দুদিন আগে দেওয়ানহাটে র‌্যাব যে অভিযান চালিয়েছে, এসব পণ্য বন্ড সুবিধায় আসছে কিনা সেটি পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে বলা যাবে না। তবে সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়েও দেওয়া যাবে না। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব এসব পণ্য জব্দ করে। পরে সেখানে আমাদের কর্মকর্তারাও উপস্থিত হন। যেহেতু আমরা মালিককে খুঁজে পাইনি, তাই আমাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এছাড়া আমরা প্রতি মাসেই বিভিন্ন কারখানাতে পরিদর্শন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। সেখানে কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে মামলা দিচ্ছি। এখন পর্যন্ত শতাধিক বন্ড সুবিধার কারখানার লাইসেন্স স্থগিত করেছি। এছাড়া ৯টি মতো লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করেছি। তবে বন্ড ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন সিস্টেম চালু হলে তখন পণ্যের আমদানি-রপ্তানি হিসেব রাখতে সবারই সুবিধা হবে। তখন অপব্যবহারও রোধ করা যাবে। আমাদের বন্ড অটোমেশন প্রজেক্টের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি, সামনে এর সুফল পাব।