খেলাপিরা ১৫% শোধ করলে নতুন ঋণ

সোমবার , ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ
82

সরকারের বিশেষ সুবিধা নিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল যারা করেছেন, তাদের নতুন ঋণ পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব গ্রাহক তাদের মোট বকেয়ার ১৫ শতাংশ পরিশোধ করলেই নতুন ঋণ নিতে চাইতে পারবেন। আর রপ্তানিকারকদের নতুন ঋণ পেতে হলে শোধ করতে হবে বকেয়া ঋণের সাড়ে ৭ শতাংশ। গত ৩ নভেম্বর হাই কোর্টের রায়ের আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার এক সার্কুলারে এই নির্দেশনা দিয়েছে।
দুই শতাংশ অর্থ আগাম পরিশোধ সাপেক্ষে খেলাপিদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারকে বৈধ ঘোষণা করে তার মেয়াদ ৯০ দিন বাড়িয়ে দেয় হাই কোর্ট। সেই সঙ্গে ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুযোগ বাড়ানো হয়েছে আরও ৯০ দিন। তবে এসব ঋণ গ্রহীতাদের নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২০১২ সালের ‘মাস্টার সার্কুলার’ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। খবর বিডিনিউজের। ঋণ খেলাপিদের দেওয়া বিশেষ সুযোগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এক রিট আবেদনে দেওয়া রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চ ওই রায় দেয়। রায়ে বলা হয়েছে, এই পুনঃতফসিলের সুযোগ গ্রহণ করে পরবর্তীতে ঋণগ্রহীতা যদি নতুন ঋণ নিতে চান, তাহলে ২০১২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের (বিআরপিডি) মাস্টার সার্কুলারের ৬(এ) এবং ৬ (বি) বিধি অনুসরণ করতে হবে। ২০১২ সালের মাস্টার সার্কুলারের ৬ এর (এ) তে বলা হয়েছে, পুনঃতফসিলের সুযোগ গ্রহণ করা ঋণ গ্রহীতাকে নতুন ঋণ নিতে হলে বকেয়া টাকার ১৫ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। আর ৬ এর (বি) তে বলা হয়েছে, রপ্তানিকারকদের এক্ষেত্রে পরিশোধ করতে হবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। হাই কোর্টের আলোচিত এই রায়ে ঋণ অনুমোদন ও আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর দুর্বলতা চিহ্নিত করে সম্ভাব্য সমাধানের জন্য ৯ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ‘সব ব্যাংকের ঋণে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা উচিৎ’ অভিমত দিয়ে রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলে, অর্থ হচ্ছে অর্থনীতির রক্ত। এই রক্তের সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখা দরকার। হৃদপিণ্ড যেমন মানব দেহেরে রক্ত সঞ্চালনকে নিয়ন্ত্রণ করে তেমনি অর্থনীতির রক্ত অর্থাৎ অর্থের সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে ব্যাংক। যদিও অস্বীকার করার উপায় নাই যে, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ কেলেঙ্কারি, আত্মসাত, অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে। আবার এসবের হোতাদের ধরে বিচারের আওতায় আনতে সরকার, দুর্নীতি দমন কমিশনও উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সেসব উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। ওই রায়ের আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সার্কুলারে বলা হয়েছে, ঋণগ্রহীতা কর্তৃক আবেদন করার সময়সীমা এই সার্কুলার লেটার জারির তারিখ থেকে ৯০ (নব্বই) দিন বৃদ্ধি করা হল। পুনঃতফসিল পরবর্তীতে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ পুনঃতফসিল সংক্রান্ত ২০১২ সালের ২৩ নভেম্বর জারি করা সার্কুলারের ৬ (এ) এবং ৬ (বি) এ বর্ণিত নির্দেশনা পরিচালন সাপেক্ষে নতুন করে ঋণ প্রদান করা যাবে। বিশেষ নিরীক্ষা ব্যতীত টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পের ঋণগ্রহীতাদের অনুকূলেও সার্কুলারে বর্ণিত সুবিধাদি প্রদান করা যাবে। ঋণগ্রহিতার নিকট থেকে প্রাপ্ত ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত আবেদন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদন করতে হবে।

x