খেজুরের রস দুষ্প্রাপ্য

বৃহস্পতিবার , ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ

খেজুর রস দিয়ে শীত মৌসুমে পিঠা ও পায়েস তৈরীর প্রচলন থাকলেও শীতকালীন খেজুর গাছের রস এখন দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে। আগের তুলনায় খেজুর গাছ কমে গেছে। যা আছে তাও সঠিকভাবে পরিচর্যা না করা নতুন করে গাছের চারা রোপণ না করা এবং গাছ কাটার পদ্ধতিগত কারণে প্রতি বছর অসংখ্য খেজুর গাছ মারা যাচ্ছে। এক শ্রেণির অসাধু ইট ভাটা ব্যবসায়ী জ্বালানী হিসেবে খেজুর গাছ ব্যবহার করার কারণে ক্রমেই কমে যাচ্ছে খেজুর গাছের সংখ্যা।পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে জানা যায় সীতাকুণ্ডের সর্বত্র খেজুরের রসের মৌ মৌ ঘ্রাণ। জমজমাট হয়ে উঠেছে খেজুর রসের ব্যবসা। প্রতিদিন ভোরে বিক্রির জন্য খেজুরের রস ভর্তি কলস নিয়ে গ্রামের পথে নেমে পড়েন গাছিরা। শীত যত তীব্র হয় এই রসের চাহিদাও বেড়ে যায়। রসের সুমিষ্ট স্বাদ পেয়ে খুশীতে মাতোয়ারা হয়ে উঠেন সবাই। জানা গেছে সুদীর্ঘকাল ধরে চলে আসা এই রীতির কারণে সুমিষ্ট এই খাবারটি এখন গ্রামীণ ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে ক্রমবর্ধমান মানুষের বাড়ি-ঘর নির্মাণ আর নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে ক্রমেই খেজুর গাছের সংখ্যা কমে গেছে রাউজানসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়। ফলে মায়ের হাতে বানানো হরেক রকমের পিঠা পুলির খাওয়ার ধুম এখন আর নেই। খেজুর রসের পায়েস রসে ভেজা পিঠাসহ বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারের তো জুড়ি ছিল না। কিন্তু কালের বিবর্তনে প্রকৃতি থেকে আজ খেজুরের রস দিয়ে ভেজানো পিঠা খাওয়ার ধুম কমে যাচ্ছে। গ্রামের সাধারণ মানুষ শীতের সকালেঘুম থেকে উঠে কাঁপতে কাঁপতে ঠান্ডা খেজুর রস না খেলে যেন দিনটাই মাটি হয়ে যেতো। কিন্তু ইট ভাটার আগ্রাসনের কারণে আগের তুলনায় খেজুর গাছের সংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। ইট ভাটায় খেজুর গাছ পোড়ানো আইনত: নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও ইট ভাটার মালিকেরা সব কিছু ম্যানেজ করে ধ্বংস করে চলেছে খেজুর গাছ। ঐতিহ্যবাহী খেজুর রসের উৎপাদন বাড়াতে হলে টিকিয়ে রাখতে হবে খেজুর গাছের অস্তিত্ব।
এম এ গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x