খাতুনগঞ্জে উপচে পড়ছে পেঁয়াজ তবু খুচরায় চড়া দাম

জাহেদুল কবির

সোমবার , ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:০৬ পূর্বাহ্ণ

খাতুনগঞ্জের বাজারে পেঁয়াজবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি। শ্রমিকদের এসব পেঁয়াজ নামানোর কাজে ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা যায়। গত এক সপ্তাহ ধরে খাতুনগঞ্জে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের সরবরাহ। দোকান গুদামগুলোতেও উপচে পড়া পেঁয়াজ। অনেক আড়তদার জায়গার অভাবে দোকানের সামনেও পেঁয়াজের বস্তা রাখেন। তবে সরবরাহ বাড়লেও খুচরা পর্যায়ে এখনো চড়া পেঁয়াজের দাম। খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। এর প্রভাবে পাইকারিতে মিয়ানমার, মিশর, তুরস্ক ও চীনা পেঁয়াজের দামও কেজিতে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে বাজারে বেচাবিক্রি কম। অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা জানান, পাইকারী বাজারে দাম কমলে তারাও দাম কমিয়ে দেন। এছাড়া এখন ভোক্তারাও পেঁয়াজ কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে না পারার কারণে অনেক পেঁয়াজও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে তারা জানান। গতকাল খাতুনগঞ্জের পাইকারী বাজারে সরেজমিন দেখা গেছে, প্রতিটি দোকান-গুদামে পেঁয়াজের বস্তার স্তুপ। এমনকি দোকানের সামনের পেঁয়াজের বস্তা থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন আড়তদাররা। কয়েকজন আড়তদারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল খাতুনগঞ্জে মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকায়, মিশরের ১২০ টাকা, তুরস্কের ১১০ টাকা ও চীনের বিক্রি ৭০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস দৈনিক আজাদীকে বলেন, বাজারে এই মুহূর্তে প্রচুর পেঁয়াজ। পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ার কারণে দামও কিন্তু কমে আসছে। চীনের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে একশ টাকার নিচে। বাজারে চাহিদা থাকার কারণে মিয়ানমারের পেঁয়াজের দর কিছুটা চড়া। তবে আগের তুলনায় কমেছে। টিসিবি খোলা বাজারে ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করায় ভোক্তারা ওইসব স্পট থেকেও পেঁয়াজ কিনছেন। এদিকে নগরীর খুচরা বাজারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একেক দোকানে একেক দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। এখনো মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। তবে কমেছে চীন ও মিশরের পেঁয়াজ। চীনের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি একশত টাকায়। এছাড়া মিশরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা এবং তুরস্কের পেঁয়াজ ১২০ টাকায়।
ফজলুল আমিন নামের একজন ভোক্তা জানান, পেঁয়াজের বাজার নিয়ে আসলে তেমন কিছু বলার নেই। তবে পেঁয়াজের এই পরিস্থিতি
আমাদেরকে বিশাল শিক্ষা দিয়েছে। অপরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আমাদের দেশে যখন কৃষক পেঁয়াজ তোলে, তখন ভারতীয় রপ্তানিকারকরা পেঁয়াজের দর কমিয়ে দেয়। এতে করে কৃষক মূল্য পেত না। কৃষক মূল্য না পেলে স্বাভাবিকভাবে পেঁয়াজ চাষে নিরুৎসাহিত হবেন। হয়েছেনও তাই। কৃষকরা র্পেঁয়াজের উৎপাদন অনেকটা ছেড়েও দিয়েছেন। তাই সরকারের উচিত হবে, কৃষক যখন পেঁয়াজ ঘরে তুলবে, তখন অন্তত আমদানি যেন বন্ধ রাখা হয়।তবে সরকার প্রতি কেজি ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করায় ভোক্তারা উপকৃত হচ্ছেন।

x