খাগড়াছড়িতে এক মণ ধানে মিলছে শ্রমিক

ধানের মণ ৩শ, শ্রমিকের মজুরি ৪শ টাকা

সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি

বৃহস্পতিবার , ৭ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ
31

খাগড়াছড়ির সমতল অংশজুড়ে দিগন্ত বিস্তৃত আমনের সবুজ হলুদ খেত। হেমন্তের বাতাসে সোনালী ঢেউ। পাকা ধানে শীষে ভোরের শিশির বিন্দু । কার্তিকের মাঝামাঝিতে খাগড়াছড়িতে আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না কৃষক। প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ টাকায়। অন্যদিকে শ্রমিকের মজুরি দৈনিক মজুরী ৪শ টাকায়। সরকারিভাবে ধান কেনার কথা থাকলে তা উৎপাদানের তুলনায় খুবই অপ্রতুল । এদিকে ধানের দাম না পাওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছে কৃষকরা। ধান কাটা শুরু হলেও লোকসান গুনছে কৃষকরা। শ্রমিকের মজুরী বৃদ্ধি,সার ,কীটনাশক,বীজ এর দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। খরচ বাড়লেও বাড়েনি ধানের দাম ।
প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ টাকায়। লাভের পরিবর্তে উল্টো লোকসানের মুখে চাষীরা। এক মণ ধানে মিলছে একজন শ্রমিক। বাড়তি মজুরি দিয়েও ঠিকমত শ্রমিক মিলছে না।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মাইনী নদী সংলগ্ন জমিতে সাড়ে ৫ কানি (প্রতি কানিতে ২০ শতক) জমিতে ধান চাষ করেছে কৃষক ছালেহ আহমদ। তিনি জানান, ‘এই মৌসুমে মোট বিশ হাজার টাকা লোকসান হবে। ৫ শ টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩শ টাকায়।’
একই এলাকার কৃষি ধনজ্যোতি চাকমা জানান,‘ বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এবার ফলন কম হয়েছে। বাজারে এককেজি ভালো মাছের দাম ২৫০ টাকা ৩শ টাকা।আর ধানের দাম প্রতি মণ সাড়ে ৩শ টাকা। নিজেদের প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে ধান উৎপাদন করতে হচ্ছে। না হয় এই পেশায় ছেড়ে দিতাম। ’
ধান কাটার নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, মৌসুমের বেশীর ভাগ সময় বেকার থাকি। ধান কাটার মৌসুমে মাত্র ১৫ দিন কাজ থাকে । এসময় চুক্তি ভিত্তিকভাবে ধান কাটি। সারা দিন কাজ করে ৪শ টাকার মত পড়ে।
সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ ধান ১০৪০ টাকায় সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। খাগড়াছড়িতে চলতি মৌসুমে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে । তবে সরকারিভাবে এই চাল সংগ্রহের পরিমাণ উৎপাদনের তুলনায় অপ্রতুল। সরকারিভাবে ধান সংগ্রহের জন্য তালিকা করছে কৃষি বিভাগ। প্রতিটি ব্লকে ৫০ জন করে কৃষকের তালিকা করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
দীঘিনালা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ওঙ্কার বিশ্বাস‘এই মৌসুমে ধানের উৎপাদন ভালো হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে ৫ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক ন্যায্য মূল্যে ধান ক্রয় করা হবে। তবে যে পরিমাণ কৃষক রয়েেেছ সেই অনুপাতে ধান কেনা সম্ভব হবে না।’
আগামী এক মাসের মধ্যে সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ ধান কেনা শুরু হবে। সরকারিভাবে প্রতিকেজি ধান কেনা হবে ২৬ টাকায় এবং চাল সংগ্রহ করা হবে ৩৬ টাকায়।

x