খাগড়ছড়িতে বন্যায় ক্ষতি ৩১ কোটি টাকা

সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি

রবিবার , ২১ জুলাই, ২০১৯ at ৫:০০ পূর্বাহ্ণ
47

খাগড়াছড়িতে টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে গেছে গ্রামীন কাচাঁ ও পাকা সড়ক। বন্যার পানি কমে যাওয়ায় দৃশ্যমান হচ্ছে ভাঙন। এতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৯ কোটি টাকা। বন্যা পরবর্তী এলজিইডি’র প্রকৌশলীরা ক্ষতি নিরূপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধায়কের প্রকৌশলী ববারব প্রেরণ করেছে। প্রেরণকৃত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়,জুলাই মাসের বন্যায় ও ভারী বর্ষনে এলজিইডির আওতার বিভিন্ন রাস্তা,ব্রীজ কালভার্ট ভেঙে গেছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ি সদর,রামগড়, গুইমারা, মাটিরাঙা, দীঘিনালা ও পানছড়ির উপজেলার প্রায় ২২ টি সড়কের ১৫ কিমি গ্রামীণ সড়ক ভেঙে গেছে। এতে প্রায় ৮ কোট ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সড়ক ছাড়াও বেশ কিছু ব্রীজ কালভার্ট ধসে গেছে। এর মধ্যে সবেেচয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার দুধকছড়া ব্রীজ। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ন ব্রীজে চলাচল করছে স্থানীয়রা।। পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রায় ১৩ টি ব্রীজ কালভার্টের ১৬৫ মিটার ক্ষতি হয়েছে। যার আনুমানিক ক্ষতির পরিমান প্রায় ৭ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা। এছাড়া অন্যান্য অবকাঠামোগত প্রায় ২ কোটি ১১ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
খাগড়াছড়ির স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আদনান আখতারুল আজম জানান, ভারী বর্ষনের কারণে পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে অনেকগুলো গ্রামীণ সড়ক ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্রীজ কালভার্ট ও সড়ক সংস্কারের বরাদ্দ চেয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের কাছে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের ৩৯৭ কিমি সড়কে বেশ কিছু এলাকায় সড়কের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বন্যায় প্রায় ১২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চট্টগ্রামের হাটহাজারী-ফটিকছড়ি-মানিকছড়ি-মাটিরাঙ্গা- খাগড়াছড়ি সড়কের একাধিক অংশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়কের মহালছড়ি অংশে সড়ক পানিতে প্রায় এক সপ্তাহ ডুবন্ত ছিল। হেঁয়াকো-রামগড়-জালিয়াপাড়া সড়ক ,মানিকছড়ি-লক্ষীছড়ি সড়ক, খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়ক ,দিঘীনালা-ছোটমেরুং-চংড়াছড়ি-লংগদু সড়ক, বাঘাইহাট-মারিশ্যা সড়ক, মাটিরাঙ্গা-তানাক্কাপাড়া সড়ক, দীঘিনালা-বাবুছড়া-লোগাং-পানছড়ি সড়কের একাধিক অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, ‘জুলাই মাসে ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ি সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে সড়কের নিরাপত্তায় এবং যানাবহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভারী বর্ষনে পাহাড়ি সড়কে প্রায় ১২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’

x