খবরের ফেরিওয়ালা হকারদের প্রতি জানাই অভিবাদন

শনিবার , ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ

আপনি অধ্যবসায় শিখবেন,সময়নিষ্ঠ হবেন, ঝড়-ঝঞ্ঝাসহ তামাম প্রতিকূলতা জয়ের দীক্ষা নিবেন, এজন্য আপনাকে খুব দূরের বা ইয়া বড় নাম যশ আছে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক পড়ালেখার পাঠ নিতে হবে না। আপনার খুব আশপাশেই সে দীক্ষালয়টি প্রতিনিয়ত হাঁটাহাঁটি করছে। বৃক্ষ যেমন দোরের কাছে দাঁড়িয়েই নতি, শান্তি আর বিনয়ের বাণী প্রচার করে যায় নীরবে, ঠিক ওই দীক্ষালয়ও দোরের বাইরে থেকে আপনাকে প্রতিনিয়ত সেসব বিষয়ের শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে নীরব আর নিভৃতে। যেসব বিষয়ের জ্ঞানার্জনে আপনি নামীদামি লেখকের বিশাল বিশাল বইয়ের বহরে ঘর ভর্তি করে রেখেছেন এবং ঠেঙ্গা লাঠি হাতে একজন মাস্টার মশাইও রেখেছেন সে শিক্ষা যে একজন একেবারে মুফতে দিয়ে যাচ্ছে সে ব্যাপারে আপনি তো কিছু জানেনই না।
সে না জানার পেছনে অনেক কারণ আছে। আপনি বৃক্ষের দান বুঝতে পারেন কারণ বৃক্ষটি দোরের বাইরে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। কোনো না কোনো দিন সে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ হয়েছে বা আপনার মন খারাপের দিনগুলোতে যখন বইয়ের মাঝে ডুব দিয়ে জীবনের অর্থ খুঁজছিলেন তখন হয়তো বৃক্ষের দানের কথাটি মানসপটে গেঁথে গিয়েছিল।
কিন্তু আমি আজ যার কথা বলছি তাকে নিয়ে হয়তো সাহিত্যের আনন্দময় জগতে কষাকষি হয়নি, গীতিকারের গীতিতে ধরা পড়লেও সুরের আঁচড় পড়েনি, প্রতিনিয়ত দেখাদেখির ফাঁকে হয়তো একটু দিব্য দৃষ্টিতে কেউ দেখবে সে সৌভাগ্যও তাঁর হয়নি। তাইতো বানের পানি ঠেলে, আশ্বিনের জলজটে সিক্ত হয়ে, চৈত্রের রোদে পুড়ে, মাঘের সন্ন্যাসীর তীব্র ঠাণ্ডা ঠেলে ঠিক ভোরের আলো ফোটার আগে আগে আপনার বাসায় যে লোকটি পত্রিকা ফেরি করে সে পত্রিকাসেবী হকারের কথাই বলছি। ভদ্রসমাজে যার নাম দেয়া হয়েছে হকার। প্রয়াত বরেণ্য সাংবাদিক এ বি এম মূসা পত্রিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে ‘সাংবাদিক’ বলে উদার সম্বোধনে ভূষিত করে গেছেন। পত্রিকার ‘হকারদেরকেও’ তিনি সাংবাদিক অভিধা দিতে কুণ্ঠিত হননি। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে শরীরের ঘাম ঝরিয়ে যারা আপনার দোরগোড়ায় পত্রিকা পৌঁছে দিচ্ছেন তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করুন। ‘হকার’ বলে তাদেরকে তুচ্ছ করে দেখবেন না। তাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে কার্পণ্য করবেন না। মনে রাখবেন, এই ‘হকার’ লোকগুলো আছেন বলেই সাত সকালে আপনি সংবাদপত্রের সুঘ্রাণ পাচ্ছেন। খবরের ফেরিওয়ালা হকারদের প্রতি তাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও অভিবাদন জানাচ্ছি।
– মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম আইন কলেজ।

x