ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন ইরফান পাঠান

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার , ৫ জানুয়ারি, ২০২০ at ৫:০২ পূর্বাহ্ণ

প্রচুর সম্ভাবনা নিয়ে ক্রিকেটে এসেছিলেন ইরফান পাঠান। শুরুও করেছিলেন দারুণভাবে। বয়সভিত্তিক দলগুলোতে যখন খেলছিলেন তখন থেকেই নজর কাড়েন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের। এরপর ভারতীয় দলে যোগ দিয়েও নিজেকে প্রমাণ করতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য। বেশিদিন ক্যারিয়ারকে দীর্ঘ করতে পারেননি। এবার সবধরনের ক্রিকেট থেকেই অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতীয় অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান।
দারুণ প্রতিভা নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে আবির্ভাব হয়েছিল ইরফান পাঠানের। বলে আহামরি গতি ছিল না, কিন্তু দুর্দান্ত সুইংয়ের কারণে সমীহ জাগানো এক পেসারে পরিণত হয়েছিলেন। একটা সময় তো তাকে তুলনা করা হতো ভারতের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার কপিল দেবের সঙ্গে। বাঁহাতি পেস অলরাউন্ডার ভারতের জার্সিতে ২৯টি টেস্ট, ১২০টি ওয়ানডে এবং ২৪টি টি-টোয়েন্টি খেলে মোট ৩০১টি উইকেট নিয়েছেন। ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে মাত্র ১৯ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাডিলেড টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ইরফানের। ওই টেস্টে ভারত জয়ও পেয়েছিল। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এক মাস পর ওয়ানডে অভিষেকও হয়ে যায় বাঁহাতি এই পেসারের। ওই ম্যাচে ১৬০ রান খরচ করে সাবেক অজি ওপেনার ম্যাথু হেইডেনের উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তবে ২০০৪ সালে পাকিস্তান সফর দিয়ে তিনি দলে নিয়মিত হওয়ার পাশাপাশি ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝিতে ভারতের জার্সিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০০৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট হ্যাটট্রিক পাওয়া ছিল ইরফানের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। এই সফরটাই ইরফানের ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত। করাচি টেস্টের প্রথম ওভারেই বল হাতে রীতিমত আতঙ্ক ছড়িয়েছিলেন তিনি। সালমান বাট, ইউনিস খান আর মোহাম্মদ ইউসুফকে টানা তিন বলে আউট করে ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন ইরফান। হরভজন সিংয়ের পর দ্বিতীয় ভারতীয় বোলার হিসেবে গড়েন টেস্টে হ্যাটট্রিকের কীর্তি। এরপর ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ম্যাচ সেরাও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ওই ম্যাচে ৪ ওভার বল করে মাত্র ১৬ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন তিনি। হন ম্যাচসেরা। ভারতের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার ছিলেন ইরফান পাঠান। দলের প্রয়োজনে ওপেনিং এবং তিন নম্বরেও ব্যাটিং করতে দেখা গেছে তাকে। ২৯ টেস্টের ক্যারিয়ারে ব্যাট হাতে তার গড় ৩১.৫৭। এই সময়ে ৪০ ইনিংসে তার ব্যাট থেকে ১টি সেঞ্চুরি ও ৬টি ফিফটিও এসেছিল। ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে তার ব্যাটিং যথাক্রমে ২৩.৩৯ এবং ২৪.৫৭। অলরাউন্ডার ইরফানের সেরা পারফরম্যান্সের দেখা পাওয়া যায় ২০০৭-০৮ মৌসুমের অস্ট্রেলিয়া সফরে। সেবার পার্থে অজিদের বিপক্ষে ভারতের ঐতিহাসিক জয়ে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন তিনি। ২০০০-এর দশকের শেষদিকে স্পিড আর সুইং নিয়ে সমস্যায় পড়ে যান ইরফান, যা দলে তার অবস্থান নড়বড়ে করে দেয়। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজের শেষ টেস্ট ম্যাচটি খেলেন তিনি। তবে স্বল্প দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। ২০১২ সালের অক্টোবরে নিজের শেষ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচও খেলে ফেলেন ইরফান দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটেও জায়গা হারাতে থাকেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৮৪ উইকেট, লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ২৭২ উইকেট আর ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে ১৭৩ উইকেট তার ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীরের হয়ে পেশাদার ঘরোয়া ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করা ৩৫ বছর বয়সী ইরফান ২০১৭ সালে সর্বশেষ আইপিএল খেলেছেন। এরপর টানা তিন মৌসুমে কোনো দল তাকে কেনার আগ্রহ দেখায়নি। তবে ছোট্ট ক্যারিয়ারে একেবারে কম অর্জন নিয়ে বিদায় বলছেন না ইরফান। গর্ব করার মতো রেখে গেছেন অনেক কিছু।

x