‘ক্যাসিনো’ চালানো যুবলীগ নেতা খালেদ গ্রেপ্তার

আগে যুবদল, এখন যুবলীগ

আজাদী অনলাইন

বৃহস্পতিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ১:১০ পূর্বাহ্ণ
578

রাজধানী ঢাকার ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাবে অবৈধভাবে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানের বাসা থেকে খালেদকে তারা গ্রেপ্তার করেছেন বলে জানান।

ওই বাসা থেকে একটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে দু’টি অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিডিনিউজ

এদিন দুপুরের পর গুলশান ২ নম্বরের ৫৯ নম্বর সড়কে খালেদের বাসা এবং ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে একযোগে অভিযান শুরু করেন র‌্যাব সদস্যরা।

সন্ধ্যায় ওই ক্লাব থেকে দুই নারীকর্মীসহ ১৪২ জনকে আটক করে উত্তরা র‌্যাব সদরদপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। ক্লাবে পাওয়া যায় মদ আর জুয়ার বিপুল আয়োজন। সেখান থেকে ২৪ লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয় বলে জানান সারোয়ার বিন কাশেম।

শাহজাহানপুরের রেলওয়ে কলোনিতে বেড়ে ওঠা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া ফকিরাপুলের ওই ক্লাবের সভাপতি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় যুবলীগ নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পর আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনটির প্রভাবশালী নেতা খালেদকে ধরতে অভিযান নামে র‌্যাব।

শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে চাঁদাদাবির অভিযোগে সমালোচনার মুখে থাকা রেজাওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা ‘শোভন-রাব্বানীর চেয়েও খারাপ’ বলে মন্তব্য করেন।

“প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবলীগের ঢাকা মহানগরের একজন নেতা যা ইচ্ছে করে বেড়াচ্ছে, চাঁদাবাজি করছে। আরেকজন এখন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলেন। সদলবলে অস্ত্র নিয়ে ঘোরেন। এসব বন্ধ করতে হবে। যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেন, তারা সাবধান হয়ে যান, এসব বন্ধ করুন। তা না হলে, যেভাবে জঙ্গি দমন করা হয়েছে, একইভাবে তাদেরকেও দমন করা হবে।”

যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট এবং সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়াকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী ওই কথা বলেছিলেন বলে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়।

সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে র‌্যাব কর্মকর্তা সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, এ ধরনের কোনো খবর তাদের কাছে নেই।

শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিতে বেড়ে ওঠা খালেদ ভূঁইয়ার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা খুব বেশি দিনের নয় বলে যুবলীগ নেতারা জানিয়েছেন।

২০০২ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল শাহরিয়ার রানা (কানাডা প্রবাসী) বলেন, ‘এই খালেদ মাহমুদকে আমরা বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় চিনতাম যুবদলের ক্যাডার হিসেবে। কোনো পদবি না থাকলেও খালেদ সব সময় যুবদলের নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকত। আমি মতিঝিল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায়ই কানাডা চলে আসি কিন্তু ২০১৩ সালে এই যুবলীগের কমিটি দেয়ার পর দেখি সন্ত্রাসী খালেদ যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন।‘

এরপরে দেশে ফিরলে খালেদ নানাভাবে তার ও তার পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে অভিযোগ করেন শাহরিয়ার রানা।

তিনি বলেন, ‘খালেদের মাধ্যমে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে সন্ত্রাসী, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সহযোগী ও ফ্রিডম পার্টির ক্যাডার ও যুবদলের নেতাকে টাকার বিনিময়ে যুবলীগের পদ দেওয়া হয়েছে।’

স্থানীয় কয়েকজন ও যুবলীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতাও খালেদের আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যুবলীগে সক্রিয় হওয়ার কথা জানান।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মতিঝিল এলাকার এক সময়ের সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিতি ফ্রিডম পার্টির মানিক-মুরাদের সহযোগী ছিলেন খালেদ। এলাকায় আধিপত্য নিয়ে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠা মানিক-মুরাদ চারদলীয় জোট সরকার আমলে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীদের’ তালিকায় চলে আসেন। এরপরেও গা ঢাকা দেন তারা।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মানিক-মুরাদের প্রভাবাধীন এলাকা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। মতিঝিল, কমলাপুর, শাহজাহানপুর, বাসাবো, খিলগাঁওসহ আশপাশের এলাকায় প্রভাব তৈরি হয়েছিল তার।

খালেদকে গ্রেপ্তারের তার বাসার একজন প্রহরী বলেন, ‘স্যার আজকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসায় আসেন, পরে দুপুর ২টার দিকে একদল র‌্যাব সদস্য এসে বাসায় ঢোকে এবং পুরো বাড়িরর আশপাশে অবস্থান নেয়।’

খালেদ ভূঁইয়া অন্য সময়ও সকালে বাসায় ফিরতেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্যার অনেক সময় রাত ২টা, ৩টা, ৪টা অথবা সকাল ৮টা-৯টার দিকে বাসায় ফেরেন। ওনার বাসায় আসা-যাওয়ার কোনো ঠিক ঠিকানা নেই।’

x