ক্যাসিনোর তালিকা হচ্ছে

শুক্রবার , ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৪:২১ পূর্বাহ্ণ
628

অবৈধ ক্যাসিনো চালানোয় যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারের পরদিন ঢাকার পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ঢাকায় আর কোথায় কোথায় ক্যাসিনো আছে এবং কারা সেগুলো চালায় সেই তালিকা তৈরি করছেন তারা। এসব ক্যাসিনো মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছেন, তারা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সমপ্রতি দলীয় এক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগ নেতাদের ‘অপকর্ম’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পর গত বুধবার ঢাকার চারটি ক্লাবে অভিযান চালিয়ে জুয়ার সরঞ্জাম, প্রায় ৫০ লাখ টাকা এবং ১৮২ জনকে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ফকিরাপুলে ইয়ংমেনস ক্লাবে ক্যাসিনো চালানোয় গ্রেপ্তার করা হয় যুবলীগের ঢাকা মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ ভূঁইয়াকে। গতকাল বৃহস্পতিবার নিজের কার্যালয়ে এ বিষয়ে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম। খবর বিডিনিউজের।
জুয়ার সঙ্গে মাদকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব বন্ধ হলে মাদকের ব্যবহার বন্ধ হবে। আমরা ক্যাসিনো ও জুয়ার আস্তানার সন্ধান করছি।
তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। কারা পরিচালনা করে থাকে তাদের নামও তালিকায় আনা হচ্ছে। যত প্রভাবশালী হোক তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় এ রকম অন্তত ১০টি ক্লাবে নিয়মিত ছোট-বড় জুয়ার আসর বসে। এছাড়া গুলশান ও বারিধারা এলাকায়ও কয়েকটিতে ক্যাসিনোর আদলে জুয়া চলে।
এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি কয়েকদিন আগে ঢাকার পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রতিটি বিভাগের উপ-কমিশনারদের নিজ নিজ এলাকায় কী কী অবৈধ কাজ হয় তার একটি তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে। তারা তালিকা দেওয়া শুরু করেছেন।
ঢাকা মহানগরীতে কোনো ধরনের জুয়া বা ক্যাসিনো চলতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, মাদক ও জুয়ার বিষয়ে ‘জিরা টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে। মতিঝিল এলাকায় কতটি ক্লাবে ক্যাসিনো চালানো হয় জানতে চাইলে মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, আট থেকে ১০টি ক্লাবে এ ধরনের জুয়া চলে। সেগুলো আর চলতে দেওয়া হবে না। কোনো বাসা-বাড়ি বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এসব চলে কি না সে বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, তার এলাকার বনানীর আহমেদ টাওয়ারে যেটা চলত সেখানে বুধবার থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু মালামাল জব্দ করেছে। গুলশান ক্লাব ও বনানী ক্লাবে জুয়ার আসর বসত শুনেছি। তাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বারিধারায়ও কয়েকটি ক্যাসিনো চালানো হত, বুধবার অভিযানের পর সেগুলো বন্ধ রয়েছে। মতিঝিল এলাকায় গতকাল কয়েকটি ক্লাব ঘুরে সবগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
তিন মামলা, খালেদ সাত দিনের রিমান্ডে : এদিকে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে দুই মামলায় সাত দিন করে রিমান্ড চায় গুলশান থানা পুলিশ। এসময় মহানগর হাকিম মাহমুদা আক্তার অস্ত্র মামলার শুনানি নিয়ে খালেদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে মহানগর হাকিম শাহীনুল ইসলামের আদালতে মাদক মামলায় রিমান্ডের শুনানি হয়। এই মামলায় তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। পর্যায়ক্রমে তার এই রিমান্ড কার্যকর করা হবে বলে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান জানিয়েছেন। অর্থাৎ সাত দিন এই দুই মামলায় খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় গুলশানের বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে খালেদকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব। এরপর তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মুদ্রাপাচার আইনে তিনটি মামলা দায়ের করা হয় র‌্যাবের পক্ষ থেকে। এছাড়া মতিঝিল থানায়ও তার বিরুদ্ধে মাদকের একটি মামলা করেছে র‌্যাব। ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, খালেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক মামলার তদন্ত করবেন তারা। আর মানি লন্ডারিং মামলা তদন্ত ও দেখভাল করবে সিআইডি।
যা ছিল টর্চার সেলে : খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার অবৈধ ক্যাসিনো ছাড়াও ছিল বিশেষ টর্চার সেল। কমলাপুরের একটি ভবনে খালেদের সেই টর্চার সেলে অভিযান চালিয়ে নির্যাতনের নানা ধরনের উপকরণ জব্দ করেছে র‌্যাব।
সূত্র জানায়, যুবলীগ নেতা খালেদ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করতেন। কেউ তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে টর্চার সেলে এনে চালানো হতো অমানবিক নির্যাতন। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান জানান, নির্যাতনের শিকার এমন কয়েকজন ভুক্তভোগীর তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৬৪/৬৮, ইস্টার্ন কমলাপুর কমার্শিয়াল কমপ্লেঙের ৫ম তলার ৪০২ নম্বর কক্ষে টর্চার সেলটির সন্ধান পাওয়া যায়। তিনি জানান, খালেদের টর্চার সেল থেকে দুটি ইলেকট্রিক শক মেশিন, পাঁচটি লাঠি, দুটি অস্ত্রের তেলের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১৯০ পিস ইয়াবা, পাঁচ ক্যান বিয়ার, ৭শ গ্রাম সীসা, সীসা সেবনের জন্য ব্যবহৃত দেড় কেজি কয়লা, তিনটি মোবাইল, দুটি ল্যাপটপ ও নগদ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

x