ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের জন্য দরকার চিকিৎসা সহায়তা

সোমবার , ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ at ৪:২৯ পূর্বাহ্ণ
141

দিন দিন ক্যান্সার যেমন বাড়ছে, পাশাপাশি বাড়ছে এই রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা। ক্যান্সার মানেই যে আজ মৃত্যু নয়, সেটা মানুষ বুঝতে পেরেছে। সচেতনতার কারণে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সুযোগও বাড়ছে। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে এবং চিকিৎসা করলে ক্যান্সারকে নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয়। বাড়ন্ত অবস্থায় ধরা পড়লেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে রোগীর কষ্ট অনেকটা কমানো যেতে পারে। দৈনিক আজাদীতে গতকাল প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘প্রতি বছর বিশ্বে ১২ কোটিরও বেশি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। ক্যান্সার রোধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিতে পারলে ২০২৫ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে মারা যাবে প্রায় সাড়ে আট কোটি মানুষ। বেশ কয়েক বছর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই তথ্য দিয়েছে। আর ক্যান্সারের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন অব ইন্টারন্যাশনাল ক্যান্সার কন্ট্রোল (ইউআইসিসি)ও ডব্লিউএইচও’র উদ্যোগে ২০০৬ সাল থেকে প্রতিবছর ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ‘বিশ্ব ক্যান্সার দিবস’ পালন করা হয়ে থাকে।’ সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়েছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য উই ক্যান, আই ক্যান।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ‘এই মরণঘাতী রোগ নিয়ে চট্টগ্রামের চিত্র সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া না গেলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ধারণাবৃহত্তর চট্টগ্রামে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ। আর বছরে এ অঞ্চলে নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষ। তবে উদ্বেগের বিষয় যে, ক্যান্সার আক্রান্তদের প্রায় ৫০ ভাগ রোগীই কোনো ধরনের চিকিৎসা সেবা পায় না।’

ক্যান্সার কেন হয? সুনির্দিষ্টভাবে এই রোগের কারণ এখনও জানা যায় নি। তবে নানান কারণে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, ক্যান্সার বৃদ্ধির জন্য আমাদের বদলে যাওয়া জীবনযাপন অনেকাংশে দায়ী। উচ্চ ক্যালোরি যুক্ত খাবার, যেমন ফাস্টফুড এবং খাদ্যতালিকায় ফাইবার জাতীয় খাবার কম পরিমাণে থাকার কারণে ক্যান্সারের আশংকা বেড়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত পরিমাণে মিষ্টি জাতীয় খাবারের কারণে বয়স্ক ব্যক্তি এমনকি বাচ্চাদের মধ্যেও স্থূলতার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটাও ক্যান্সারের অন্যতম একটি বড় কারণ। এ ছাড়াও ধূমপানসহ বিভিন্ন তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ এবং পরিবেশ দূষণ ক্যান্সার বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য বিশেষভাবে দায়ী।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশে ক্যান্সারে ভুগছে এমন রোগীর সংখ্যা সম্পর্কে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমানে দেশে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা ১২ থেকে ১৪ লাখ। প্রতিবছর নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে প্রায় আড়াই লাখের মতো মানুষ। আর আক্রান্তদের মাঝে প্রতি বছর মারা যায় প্রায় ১ লাখ। পরিসংখ্যানে জানা যায়, সাধারণত প্রতি চার জন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে এক জন মারা যায়।

ক্যান্সারের শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে স্ক্রিনিং করে যদি বিষয়টি ধরা পড়ে তাহলে মৃত্যু এড়ানো সম্ভব বলে চিকিৎসাবিদরা আশ্বস্ত করছেন। তাঁরা বলেন, যখন ক্যান্সারের লক্ষণগুলো প্রকাশিত হয় তখনো চিকিৎসা করে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব। সাধারণত সাতটি বিষয়কে ক্যানসারের বিপদ সংকেত বলা হয়। যেমন : খুসখুসে কাশি, ভাঙা কণ্ঠস্বর, সহজে যদি ঘা না শুকায়, স্তনে বা শরীরে কোথাও কোনো চাকা বা পিন্ডের সৃষ্টি হলে, মল ত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন, ঢোক গিলতে অসুবিধা বা হজমে অসুবিধা, তিল বা আচিলের কোনো সামান্য পরিবর্তন। এই সাতটি বিপদ সংকেতের কথা সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক প্রচার পেলে অনেক আগে থেকে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে।

প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যান্সারকে অনেকাংশে নির্মূল করা সম্ভব হয় কিন্তু ক্যান্সার সহজে ধরা না পড়ার কারণে এ রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। চিকিৎসকরা বলেন, ক্যান্সার সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকলে এবং একটু সচেতন হলে ক্যান্সার থেকে বেঁচে থাকা যায়। রোগ বালাই বলে কয়ে আসে নাএরকম একটা কথা চালু আছে। যদিও কথাটা পুরোপুরি সত্য নয়। যে কোনো অসুখ মারাত্মক আকার ধারণ করার আগে নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। আমরা অনেক ক্ষেত্রেই সেসব উপসর্গকে গুরুত্ব সহকারে দেখি না। ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো যায় না। অথচ সামান্য একটু সচেতনতাই পারে যে কোনো অসুখ প্রকট আকার ধারণ করার আগে আরোগ্য লাভের ক্ষেত্রে সাহায্য করতে। তবে মানুষের সচেতনতার পাশাপাশি ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীরা যেন চিকিৎসাসেবা পায়, সে ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা দরকার।

x