ক্বণন-এর ৩৪ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান

এপার-ওপারের শিল্পীদের প্রাণবন্ত আবৃত্তি

সাইমুম মুরতাজা

বৃহস্পতিবার , ১৬ জানুয়ারি, ২০২০ at ৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ
5

এ বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের ১ জানুয়ারী ক্বণন শুদ্ধতম আবৃত্তি অঙ্গন ৩৫-এ পা রাখলো। ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারী চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমীর সাবেক প্রধান প্রশিক্ষক এবং ক্বণন’র প্রতিষ্ঠাতা কর্ণধার ও সভাপতি মোসতাক খন্দকারের তত্ত্বাবধানে ক্বণন শুদ্ধতম আবৃত্তি অঙ্গন সাংগঠনিক যাত্রা শুরু করে। কেবল আবৃত্তি শিল্পেই নিবেদিত ছিল ক্বণন’র ৩৪ বছরের শ্রমনিষ্ঠ সাধনা। এই ৩৪ বছর পূর্তিকে উদযাপন করার লক্ষ্যে ৩ জানুয়ারী, শুক্রবার, বিকেলে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে ক্বণন’র এক বর্ণাঢ্য আয়োজন ছিল। ং
শুরুতেই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথামালা পর্বে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, আবৃত্তি রুচিশীল মানুষের শিল্প। এই শিল্প সুন্দরের চর্চা করতে শেখায়। সুন্দর ও শুদ্ধ করে কথা বলতে শেখায়। আমরা সবাই এখনও সুন্দর ও শুদ্ধ করে মাতৃভাষার উচ্চারণ করতে পারিনা। এক্ষেত্রে যা কিছু অগ্রগতি হয়েছে তাতে আবৃত্তি সংগঠনগুলোর আবৃত্তি প্রশিক্ষকদের অবদান রয়েছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ পাঠক কবিতা পড়তে পারেন না বা বোঝেন না। এ কাজটা আবৃত্তিকাররা সহজতর করে তুলেছেন। আর ক্বণন চট্টগ্রামে দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে কাজটা সাফল্যের সাথে করে যাচ্ছে, যা সত্যিই প্রশংসাযোগ্য। তিনি বলেন আবৃত্তি শিল্পীরা স্বপ্ন দেখতে এবং দেখাতে ভালবাসে। আমারও কথা হলো স্বপ্ন দেখতে জানতে হবে। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালামের মত বলতে চাই ঘুমের স্বপ্নের চেয়ে জাগরণের স্বপ্ন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ক্বণন সভাপতি, প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা ও প্রধান প্রশিক্ষক মোস্তাক খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন দেশের বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী ও গীতিকার শফিকুল ইসলাম বাহার এবং দুই বাংলার জনপ্রিয় কবি রামচন্দ্র পাল ও ভারতের খ্যাতিমান ও জনপ্রিয় আবৃত্তি শিল্পী শাশ্বতী গুহ। স্বাগতঃ বক্তব্য রাখেন ক্বণন কার্যকরী পরিষদ সদস্য সৌভিক চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ক্বণন কার্যকরী পরিষদ সদস্য আবৃত্তি শিল্পী রাশেদ মুহাম্মদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দেশের বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী ও গীতিকার শফিকুল ইসলাম বাহার বলেন, সাংস্কৃতিক আদান প্রদানের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরো বেশি সুদৃঢ় হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভারতের খ্যাতিমান কবি রামচন্দ্র পাল বলেন, একটি আবৃত্তি সংগঠন চৌত্রিশ বছর টিকে থাকার এমন নজীর ভারতে নেই। এটাই বাংলা ভাষার ঐতিহ্য। কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গে বাংলাৎভাষা আজ বিপন্ন, অবহেলিত, অপমানিত। বাংলা ভাষা বেঁচে থাকবে এখানকার মানুষের জন্য। ভারত থেকে আগত আমন্ত্রিত শিল্পী শাশ্বতী গুহ বলেন, ভালবাসা না থাকলে শিল্প হয়না। ভাললাগার জায়গা বাংলাদেশ, তাই বারবার ছুটে আসি। তিনি ক্বণন সভাপতির প্রশংসা করে বলেন, একটা মানুষ নিরলস প্রচেষ্টায় , শুধু কবিতাকে ভালবেসে, মানুষের কাছে শুদ্ধ উচ্চারণ পৌঁছে দেবে, এই আশা বুকে নিয়ে অনেক ছেলেমেয়েকে কবিতার মধ্যে ডুবিয়ে রাখছেন। এটা আমাদের কাছে বড় প্রাপ্তি।
আলোচনাপর্ব শেষে আবৃত্তি প্রশিক্ষক মোসতাক খন্দকারের গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ‘মনে রেখো, মানুষই মরেছে’ শীর্ষক বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করে ক্বণন সদস্য শরীফ, সাইমুম, আকমল, হৈমন্তী, সূচনা, ফারুক, সুকন্যা, সোহেল, শুভ্রা, মেহরাজ, সুস্মিতা, আলাউদ্দিন, শারমিন। একক আবৃত্তি পরিবেশন করে সৌভিক চৌধুরী, রাশেদ মুহাম্মদ, শিমু বিশ্বাস, শরীফ মাহমুদ, মোহাম্মদ ওয়াসিম, আবসার তানিম, সাইমুম মুরতাজা, মার্টিনা সরকার, হৈমন্তী ধর, সূচনা দাশ, সুকন্যা ঘোষ, শুভ্রা চক্রবর্তী। এরপর আমন্ত্রিত শিল্পীদের মধ্যে আবৃত্তি পরিবেশন করেন দেশের বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী ও গীতিকার শফিকুল ইসলাম বাহার এবং ভারতের জনপ্রিয় আবৃত্তি শিল্পী শাশ্বতী গুহ। কবিকন্ঠে কবিতাপাঠ পর্বে অংশগ্রহণ করেন ভারতের খ্যাতিমান কবি রামচন্দ্র পাল এবং সবশেষে ক্বণন সদস্যদের অনুরোধে আবৃত্তি শিল্পী ও প্রশিক্ষক আবৃত্তি পরিবেশন করেন। সেদিনের আবৃত্ত্‌ি সন্ধ্যায় দর্শকভর্তি হল মাতিয়ে রাখেন ভারতের জনপ্রিয় আবৃত্তি শিল্পী শাশ্বতী গুহ। তিনি মা নিষাদ প্রতিষ্ঠাং ও কবিগুরুর ত্রাণ দিয়ে শুরু করে একে একে অনার্য্য মিত্র, রূপক চট্টরাজ, আহসান হাবীব, শামসুর রাহমান, শঙ্খ ঘোষ, মল্লিকা সেনগুপ্ত, রামচন্দ্র পাল, ভবানীপ্রসাদ, কৃষ্ণা বসু প্রমুখ কবির ১৫টি কবিতা আবৃত্তি করে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখেন দর্শকশ্রোতাদের। দেশের বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী ও গীতিকার শফিকুল ইসলাম বাহার স্বরচিত এবং মোফাজ্জল করিম, আনজির লিটন, ফারুক নওয়াজ ও আরিফ বিল্লাহর ছড়ার ছন্দে আর তবলার তালে দোলায়িত করেন শ্রোতাদের।
ক্বণন সভাপতি, আবৃত্তি শিল্পী মোসতাক খন্দকারের কন্ঠশৈলীতে আনিসুল হকের ‘মানুষ জাগবে ফের’ কবিতার অনবদ্য আবৃত্তি ংকরেন। এ ছাড়াও আবৃত্তি শিল্পী গড়ার এই কারিগর কবি ময়ুখ চৌধুরী ও ইয়াসিনুর রহমানের কবিতা আবৃত্তি করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, বিশেষ অতিথি দেশের বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী ও গীতিকার শফিকুল ইসলাম বাহার, কবি রামচন্দ্র পাল এবং আবৃত্তি শিল্পী শাশ্বতী গুহকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা তুলে দেন ক্বণন সভাপতি মোসতাক খন্দকার।