কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হচ্ছে না চবিতে

শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা বিবেচনা

চবি প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ২৬ মার্চ, ২০২০ at ৪:৩০ পূর্বাহ্ণ
87

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নির্মাণাধীন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলার প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার সরকারের এক আদেশে কয়েকটি শর্তে হলটিতে কোয়ারেন্টাইন করার সম্মত হলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল বুধবার রাতে বিষয়টি আজাদীকে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার। তিনি বলেন, দেশের ক্রান্তিকালে সরকার যখন চাচ্ছে চবিতে একটি সরকারি কোয়ারেন্টাইন করতে, তখন আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলকে কোয়ারেন্টাইন করতে রাজি হয়েছি। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর রাতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে শিক্ষকদের অনেকেই বিরোধিতা করেন এবং আন্দোলন শুরু করেন। এজন্য সবদিক বিবেচনা করে হলটিতে আর কোয়ারেন্টাইন করা হচ্ছে না।
এবিষয়ে গতকাল বুধবার উপাচার্য বরাবর চিঠি ও বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উদ্বিগ্ন এবং শঙ্কিত। কারণ,চট্টগ্রামের করোনা আক্রান্ত সন্দেহভাজনদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নির্মাণাধীন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলকে নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে সরকারের এবং দেশের পাশে দাঁড়ানো বিশ্ববিদ্যালয়ের ও শিক্ষকদের মানবিক দায়িত্ব। আমরা মনে করি- দেশের পাশে দাঁড়ানো যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন, তেমনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ হাজার ছাত্র, শিক্ষক- কর্মচারিও এ দেশেরই সম্পদ। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা চিন্তা করাটাও আমাদের নৈতিক ও পবিত্র দায়িত্ব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের সামপ্রতিক কোয়ারেন্টাইন বিষয়ক Infection Prevention and Control guidance for Long-Term Care Facilities in the context of COVID-19 নীতিমালায় সুস্পষ্ট ভাবে বলা আছে, কোয়রেন্টাইনের জন্য নির্ধারিত এলাকা হতে হবে জনবসতি থেকে দূরে এবং সুনির্দিষ্ট একটি দূরত্ব এক্ষেত্রে বজায় রাখতে হবে। আবাসস্থলে প্রতি রুমের সাথে সংযুক্ত শৌচাগার বা টয়লেট থাকতে হবে। কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উক্ত হলের খুব কম দূরত্বের মধ্যেই আশপাশে শিক্ষক ও কর্মচারিদের বসতি আছে এবং হলের রুমগুলোতে সংযুক্ত টয়লেট নেই, যা এর নীতিমালার ব্যতিক্রম। দ্বিতীয়ত, ষধহপবঃ গবেষণাপত্রে গত ২০ মার্চ এ মহামারী ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়- কোয়ারেন্টাইন সুবিধা তৈরিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা মেনে না চলা এবং জীবাণুমুক্তকরণ সুবিধা অনেক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ছিল না। এরকম সুবিধা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসেও নেই, তাই এটি কোনভাবেই করোনা আক্রান্তদের জন্য উপযুক্ত আবাস নয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থাপনা নেই, যা নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনে গত সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী করোনা আক্রান্ত রোগীদের কোয়ারেন্টাইনের একটি অত্যাবশ্যকীয় শর্ত। এ ক্ষেত্রে সেই বর্জ্য নিশ্চিতভাবে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়বে, যার দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়া বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মনে করে- বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে কোয়ারেন্টাইন থেকে সংক্রমণের সংখ্যা না কমিয়ে বরং বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এ সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ হাজার মানুষের সুরক্ষায় বাতিল ও পুনঃবিবেচনার জোরালো দাবি জানানো হয়। কোভিড-১৯ প্রতিরোধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বাংলাদেশ সরকার ও জেলা প্রশাসনের যে কোন উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে ও সহায়তা করতে প্রস্তুত।