কোয়ারেন্টাইনে ইউএনও, নাইক্ষ্যংছড়ি লকডাউন

৯ প্রবাসীর বাড়িতে লাল পতাকা

মাঈনুদ্দিন খালেদ, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ২৬ মার্চ, ২০২০ at ৪:৪২ পূর্বাহ্ণ
78

চকরিয়ার খুটাখালীতে এক বাসিন্দার শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবাণু শনাক্তের পর নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাকে মঙ্গলবার রাতে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। তিনি (ইউএনও’র) করোনায় আক্রান্ত বৃদ্ধা মহিলার দূর সম্পর্কীয় স্বজন। বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে কলেছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচি হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকলেও তিনি এখনও তার দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে সহায়তার জন্যে জেলা থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমদুল হককে নাইক্ষ্যংছতি পাঠানো হেেয়ছে। তিনি (মাহমদুল হক) বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় নাইক্ষ্যংছড়িতে পৌঁছেছেন।
এদিকে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে জনস্বার্থে পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাকে লকডাউন করা হয়েছে। যা ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে। বান্দরবান জেলা প্রশাসক আরো বলেন, করোনার বিস্তার রোধে জেলা থেকে ১০ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জনস্বার্থে। মঙ্গলবার থেকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেন আইন-র্শংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাশাপাশি এ উপজেলাকে লকডাউন করা হয়েছে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সূত্র জানায়, দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় নাইক্ষ্যংছড়িতেও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বিস্তার রোধে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধ পরিকর। সে লক্ষ্যে এ নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসন আর উপজেলা বাস্তবায়ন করেন।
এ নির্দেশনায় বলা হয়-নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সাথে পার্শ্ববর্তী সকল সড়ক যোগাযোগ নৌপথে যোগাযোগ বন্ধ থাকবে। অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, খাদ্যপণ্য সরবরাহকারী যানবাহন, হাসপাতাল, আইন শৃংখলা বাহিনী উক্ত বিজ্ঞপ্তির আওতামুক্ত থাকবে। ওষুধের দোকানসহ সেবা মূলক প্রতিষ্ঠানগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা যাবে।
সাপ্তাহিক হাট বন্ধ থাকবে। নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান খোলা রাখা যাবে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। কৃষি উৎপাদিত পণ্যও একই সময়ে বেচা-কেনা করা যাবে। সকল প্রকার সামাজিক অনুষ্ঠান, খাবার হোটেল, আবাসিক হোটেল বন্ধ থাকবে। এভাবে আরো বেশ নির্দেশনা নিয়ে এ গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার করে প্রশাসন।
বান্দরবান জেলা জেলা প্রশাসক এ প্রতিবেককে জানান, এ নির্দেশনা অবশ্যই মানতে হবে- না মানলে আইনী ব্যবস্থা। তিনি আরো জানান, করোনা ভাইরাস বিষয়ে সর্তকতার জন্যে উপজেলার যে ৯ প্রবাসীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়, তাদের বাড়িতে বাড়িতে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা যেন বাড়িথেকে বের না হয়। বর্তমানে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর এলাকা পুলিশী নিয়ন্ত্রণে। লকডাউন অনেকটা বাস্তবায়ন হয়েছে। পুরো উপজেলা দোকানপাট বন্ধ প্রযোজনীয়গুলো ছাড়া।
উল্লেখ্য, লকডাউন হলো কোন বিশেষ মুহূর্তে জনস্বার্থ রক্ষায় সরকার সিদ্ধান্ত নেন- লোকজন অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে যেন পা না রাখেন। নিজ এলাকার লোকজন অন্য এলাকায় প্রবেশ বা প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ করাই লকডাউন। আর দু’এর অধিক লোক সমাগম হবে না। দূরত্ব বজায় রাখবে তারা। অবশ্য এটি সর্তকতার জন্যে।