কে কী বলছে-টলছে আমার সম্পর্কে! – মৃণাল সেন

ব্রাত্যজন

মঙ্গলবার , ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ

 

 

গোটা ভুবন ছিল তাঁর আবাস। অথচ মহাপৃথিবীর সেই বাসিন্দার শেষ স্মৃতিটুকুও হারিয়ে ফেলতে চলছে তাঁর নিজের শহর। ‘কলকাতা ৭১’ পাড়ি দিচ্ছে লন্ডনে। তিলোত্তমায় ঠাঁই হচ্ছে না বিশ্ববরেণ্য পরিচালক মৃণাল সেনের কোনও চিত্রনাট্যের পাণ্ডুলিপি বা সিনেমার ব্রোমাইড ফিল্ম। এমনকী, যে ঘরে বসে তিনি একের পর এক কালজয়ী ছবির চিত্রনাট্য রচনা করে দেশকে সমৃদ্ধ করেছেন, দক্ষিণ কলকাতার সেই ফ্ল্যাটও এবার বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। কলকাতা থেকে ‘খারিজ’ হয়ে যাচ্ছে ‘পদাতিক’ মৃণালের শেষ চিহ্ন।” এরকম একটা খবর ছেপেছে ক’দিন আগে ওপার বাংলার এক পত্রিকা।

গত বছর ২৩ ডিসেম্বর কলকাতার যে ফ্ল্যাটে তাঁর জীবনাবসান হয়, বছর না ঘুরতেই সে বাড়ি বিক্রি করবার সিদ্ধান্ত নাকি নিয়েছেন তাঁর একমাত্র পুত্র কুনাল সেন। না, কুনাল সেনকে কোন বিতর্কে জড়ানো এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য নয়। ২০১৩ সালে গৌতম ঘোষ মৃণাল বাবুর একটা সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন, আর সে সময় তিনি যে শেষ প্রশ্নটি তাঁকে করেছিলেন, তার উত্তরটাই আজকের এই মৃণাল ভাবনাকে উসকে দিচ্ছে খুব।

ভারতীয় বাংলা সিনেমার তিন দিকপালকে নিয়ে তাঁদের জীবদ্দশায়তো কম জল ঘোলা হয়নি, এমনকী আজও সেই একই তর্ক আদি তরঙ্গেই প্রবাহিত হয়। যদিও আমরা প্রায়শই একই সাথে এঁদের নাম উচ্চারণ করে ফেলি সিনেমা বিষয়ক সালতামামিতে, কিন্তু সত্যজিৎঋত্বিকমৃণাল ভারতীয় চলচ্চিত্রের তিন মহীরূহই পরিচালনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আলাদা ঘরানার। খোদ সত্যজিৎ তা নির্দ্বিধায় স্বীকার করে লিখেছেন ‘ঞযবু ংঃধৎঃবফ ধঃ ধনড়ঁঃ ঃযব ংধসব ঃরসব ধং ও ফরফ, জরঃরিশ ধহফ গৎরহধষ’। কিন্তু এ কথাও বলেছেন পাশাপাশি ‘ঞযবু বিৎব সধশরহম ভরষসং াবৎু ফরভভবৎবহঃ ভৎড়স সরহব, াবৎু ফরভভবৎবহঃ, নঁঃ াবৎু ঢ়ড়বিৎভঁষ, ও ঃযরহশ’। বিশিষ্ট চলচ্চিত্র সমালোচক ধীমান দাশগুপ্ত ‘গণশিল্পী ঋত্বিককুমার ঘটক বনাম ঋত্বিক : নিঃসঙ্গ স্রষ্টা’ প্রবন্ধে চমৎকারভাবে ধরেছেন এই তিন দিকপাল শিল্পীর আন্তঃসম্পর্ককে। তাঁর মতে, “সত্যজিৎ সমন্বিত, সুষম, শীলিত, কমনীয়। ঋত্বিক মন্থর, তীব্র, শিথিল, অনমনীয়। অন্যদিকে মৃণাল দ্রুত, তীক্ষ্ণ তৎপর ও নমনীয়।” আর মৃণাল নিজে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন ‘ও ধস হড়ঃ ধ কঁৎড়ংধধি, ও ধস হড়ঃ ধ ঝধঃুধলরঃ জধু, ও ধস হড়ঃ ধ এড়ফধৎফ, যিড় নবষরবাব রহ ফৎধরিহম ংশবঃপযবং. ও পধহ্থঃ ফড় ঃযধঃ. ও পধহ্থঃ ফৎধ িধ ংরহমষব ষরহব. গু ভরষসং ধৎব ধ শরহফ ড়ভ ঃযবংরং।’

কুমার নদের ওপর কাঠের সেতু। পাশেই বাজার। বড় বড় লঞ্চ, গয়না নৌকা যাতায়াত করতো। পদ্মার ইলিশ বাজারে বিক্রি হচ্ছে। মনে হতো চকচকে জ্যান্ত ইলিশ। সেবার ফরিদপুর গিয়েছিলাম গীতাকে নিয়ে। তার প্রথম ফরিদপুর ভ্রমণ। আগে অনেকবার সে যেতে চেয়েছিল, হয়নি। আমি ঢাকায় এসে নানা অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থেকে ফিরে আসতাম কলকাতায়। ফরিদপুর গিয়ে ছবির মতো মনে পড়তে লাগল। দেখা হল অনেক পুরনো মানুষের সঙ্গে। বেঁচে ছিলেন না অনেকেই। আমার দাদা বলেছিলেন, ফরিদপুর গিয়ে অনাথদা্থর (অনাথের আচারের দোকানের প্রতিষ্ঠাতা) সঙ্গে যেন দেখা করে আসি। দেখা হল তাঁর সঙ্গে। তিনি প্রথমে চিনতে পারেননি আমাকে। তারপর মুহূর্তেই জড়িয়ে ধরলাম। আমার শিক্ষিকা কিরণদি’র সঙ্গে দেখা। এমন আবহ তৈরি হল আমার মধ্যে, এক দিনের ভ্রমণে আমি ভুলে যাচ্ছিলাম আমি ফরিদপুরের, নাকি কলকাতার। মানুষের জীবনে কখনো অতীত এসে এমনভাবে উপস্থিত হয়। সবকিছুকে তার প্রিয় ও আপন মনে হয় তাৎক্ষণিক ভাবে। অতীতকে আমি মনে করি। কিন্তু নিজেকে দুর্দশাগ্রস্ত হতে দিই না। আমি সিনেমার মানুষ। কাতর হয়ে গেলে শিল্প ক্ষুন্ন হয়, এটা আমি দেখেছি। চল্লিশে যখন কলকাতায় এলাম, ফরিদপুরে যেতে খুব ইচ্ছে হতো, কিন্তু মেনে নিয়েছিলাম কলকাতাকে।’

২০১৩ সালের ১৪ মে কলকাতার গোর্কি সদনে নাসির আল মামুনকে দেয়া সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে এভাবেই স্মৃতিচারণ করছিলেন প্রয়াত চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেন, আরও বলেছিলেন তাঁর আদিনিবাস ফরিদপুরে বসবাসকালীন সময়কার কথা, পল্লীকবি জসীমউদ্দিনের সাথে তাঁদের পারিবারিক বন্ধুত্বের কথা।

বাংলা সিনেমার প্রধান তিন শেরপা সত্যজিতঋত্বিকমৃণাল এ বিষয়টা এখন এতটাই চর্বিত চর্বন যে এখন ক্ষেত্রবিশেষে খুব ক্লিশে মনে হয় এই আলোচনা। বরং যদি এঁদের তিনজনের মধ্যে আলাদা কী বৈশিষ্ট্য ছিল এমন প্রশ্নে একটু নড়েচড়ে বসে ঠিক যে উত্তরটা হুট করে মাথায় আসে, তা হল সত্যজিৎ সেরা তাঁর পরিমিতি বোধের কারণে। ঋত্বিক এর ছিল তুমুল আবেগ, যে আবেগ দর্শককে বাধ্য করেছে ডুবে যেতে, আর মৃণাল এঁদের চাইতে যে দিকটায় আলাদা তা হল তাঁর নিরীক্ষার মেজাজ। তিনি কখনই কোন বিশেষ ঘরানায় আটকে থাকেননি। মৃণাল নিজে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন ‘ও ধস হড়ঃ ধ কঁৎড়ংধধি, ও ধস হড়ঃ ধ ঝধঃুধলরঃ জধু, ও ধস হড়ঃ ধ এড়ফধৎফ, যিড় নবষরবাব রহ ফৎধরিহম ংশবঃপযবং. ও পধহ্থঃ ফড় ঃযধঃ. ও পধহ্থঃ ফৎধ িধ ংরহমষব ষরহব. গু ভরষসং ধৎব ধ শরহফ ড়ভ ঃযবংরং।’

তাঁর তৈরি প্রায় প্রতিটি ছবিই ছিল সমাজদর্পণ। দর্শককে টেনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন বারবার তাঁদেরই গল্পের সামনে। নির্মাণে নতুন ভাবনাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন, আর তাই হয়তো ২০০৪ সালে কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে চমকে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘আপনার নাম শ্রীজাত? আপনার একটি বই পড়ে ফোনটা করলাম। আপনি আমাকে চমকে দিয়েছেন। আসলে কী জানেন, ফর্ম নিয়ে নতুন ধরনের কাজ করলে আমার ভাল লাগে। আপনার এবইটাতে অনেক জায়গায় ঝুঁকি নেওয়া আছে। এক্সপেরিমেন্ট আছে। নতুনত্ব আছে। আমি কবিতা খুব নিয়মিত পড়ি। কারও লেখা ভাল লাগলে জানাই আর কী। এই যেমন আপনাকে জানালাম। ভাল থাকবেন। আর হ্যাঁ, লেখা চালিয়ে যান’। তাঁর প্রতিটা সিনেমাই চিন্তার প্রগাঢ় প্রতিফলন এবং খুব সহজেই এগুলোর মাধ্যমে তাঁর সমসাময়িক চলচ্চিত্র নির্মাতাদের (যেমন সত্যজিৎ, ঋত্বিক ঘটক) থেকে তাঁকে আলাদা করে ফেলা যায়। সত্যজিৎকে অবশ্য রাজনীতি বিমুখ বলা যেতেই পারে আর ১৯৭৭ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘যুক্তি তক্ক আর গপ্প’ এর আগ পর্যন্ত ঋত্বিকও এর থেকে দূরে ছিলেন। এমন বলতে চাইছি না যে রাজনৈতিক সিনেমা বানানোটাই একজন পরিচালকের মুখ্য কাজ। কিন্তু, পারিপার্শ্বিক ঘটনাপ্রবাহ মনের মধ্যে যে দ্যোতনা তৈরি করে তা ফুটিয়ে তোলাইতো একজন শিল্পীর প্রকৃত লক্ষ্য। তাঁর কলকাতা ট্রিলজি অর্থাৎ ইন্টারভিউ (১৯৭১), ক্যালকাটা ৭১ (১৯৭২) এবং পদাতিক (১৯৭৩) ছবি তিনটির মাধ্যমে তিনি তৎকালীন কলকাতার অস্থির অবস্থাকে তুলে ধরেছিলেন।

আবার চলচ্চিত্রে কোন ছবিটা সমকালীন হবে, এই ব্যাপারে মৃণাল সেনের একটা সুস্পষ্ট চিন্তাধারা ছিল। কেবলমাত্র ঘটমান সামাজিক বা অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে ছবি করলেই সেটা সমকালীন ছবি হবে, এটা নয়। তিনি এ বিষয়ে একটা উদাহরণ টেনেছেন তাঁর একটা নিবন্ধে; লিখেছেন, ‘‘ ‘অ্যান্ড্রক্লিস্‌ ও সিংহের গল্প আজকের নয় গল্পটি প্রাচীন ও অতিপরিচিত। সেই গল্পটি নিয়ে বার্নার্ড শ একটি নাটক লিখলেন। নাম অহফৎড়পষবং ধহফ খরড়হ. নাটকটি যখন জার্মানির কোথাও মঞ্চস্থ হয় খুব সম্ভবত বার্লিনেই। তখন এক ডাকসাইটে রাজপুরুষ অভিনয় দেখতে দেখতে এতই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন যে নাটক শেষ হওয়ার আগে এক সময় তিনি হল থেকে বেরিয়ে যান। শ’ শুনে আশ্বস্ত হয়েছিলেন, বলেছিলেন যাক ভদ্রলোক তা হলে আমাকে বুঝতে পেরেছেন। শাসকের নোংরা অস্বাস্থ্যকর চেহারাটা দেখানোই নাট্যকারের উদ্দেশ্য। এখানে এসেই গোটা কাহিনীটা একটা তাৎপর্য পেল। সঙ্গে সঙ্গে রাজ প্রতিনিধি নিজেকে দেখতে পেলেন শাসনযন্ত্রের রূপটি তার চোখের সামনে ভেসে উঠলো। সে মঞ্চে এতগুলো লোকের সামনে তাকে বিদ্রূপ করতে লাগলো এবং শেষপর্যন্ত ভয়ে রাগে ও লজ্জায় ভদ্রলোক পালিয়ে বাঁচলেন এবং এ যুগের নাট্যকার শ’ আশ্বস্ত হলেন। পুরানো কোনও গল্প আজকের মানুষকে আজকের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে আজকের কথা ভাবিয়ে তুলতে পারে। আজকের বাস্তব জীবনের সঙ্গে একটা যোগসূত্র খুঁজে বার করে দিতে পারে তবে সেটা হবে সমকালীন।’’ অথচ, তিনিই আবার এক সাক্ষাৎকারে ‘পথের পাঁচালী’ সত্যজিতের শ্রেষ্ঠ ছবি বলে ভাবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, নাহ্‌, সত্যজিৎএর শ্রেষ্ঠ ছবি আমার মতে, ‘অপরাজিত’ এটা এমন একটা ছবি, যা প্রমাণ করে সমকালীনতা মোটেও সেই পিরিয়ডের উপর নির্ভও করে না, বরং এটিচ্যুডের উপর নির্ভর করে।

এই যে আজকের দিনে কম বাজেটের সিনেমা তৈরির হিড়িক এবং অনেক বড় বাজেটের সিনেমাকেও ঘোল খাইয়ে দিচ্ছে সামান্য বাজেটের সিনেমা, তা কিন্তু কেবল ইদানীং ঘটছে এমন নয়, এর পেছনে একটা ইতিহাস আছে। কারিগরি উন্নয়নের পাশাপাশি সিনেমা বলবার ভাষাতেও উন্নয়ন ঘটেছে, এটা সময়ের সাথে তাল মিলিয়েই সিনেমার মূল রসায়নের পরিবর্তন আনছে। সেন এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ‘‘যুদ্ধোত্তর যুগে দুটি ধারা ‘নিওরিয়েলিজম’ এবং ‘নিউওয়েভ’ বিশ্বের চলচ্চিত্রে বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল। নিওরিয়েলিজমের যেমন একটা সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি ছিল যেটা যুদ্ধের পরেই ইতালিতে এসেছিল, নিউওয়েভের সে রকম সামাজিক বা রাজনৈতিক ভিত্তি ছিল না। নিওরিয়েলিজম যেমন বিদ্রোহ, সামাজিক অব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোাহ এবং একই সঙ্গে সে সিনেমার প্রথাসিদ্ধ নিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। সেই সময় ইতালির স্টুডিওগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত। কোন ব্যাপারই না, এরকম ভাবনা নিয়ে স্টুডিও ছেড়ে ক্যামেরা হাতে রাস্তায় নেমে পড়লেন। বসতবাড়িতে শুটিং করলেন, সিনেমা তৈরি করলেন। নিউওয়েভও সেনের মতে একটা প্রতিবাদ এবং অনেকটা দাপটের সঙ্গে যাবতীয় নিয়ম ভেঙেই এরা এগিয়ে এলেন এবং বুঝিয়ে দিলেন সিনেমাটা কারও কুক্ষিগত নয়। হতে পারে না। নিউওয়েভ পরিচালকদের মধ্যে একমাত্র স্যাব্রল ছাড়া আর সবাই সিনেমার লোক নন, সাংবাদিক। তাই এঁদের কোনও মতাদর্শ ছিল না, ওঁরা তাই সিনেমার নিয়মগুলো ভাঙতে শুরু করলেন। এবং খুবই কম পয়সায় ছবি করতে আরম্ভ করলেন।’’ তিনি এই ধারাগুলোর যূথবদ্ধটা বুঝাতে গিয়ে বলেছিলেন, – ঈধষষ রঃ ওঃধষরধহ হবড়ৎবধষরংস ড়ৎ ঋৎবহপয হবিিধাব ড়ৎ ঈরহবসধ ড়ভ ইৎরঃধরহ. ঞযবু ধৎব ধষষ ষধনবষবফ নু ঃযব লড়ঁ.

কথাবার্তায় মৃণাল বরাবরই চাঁছাছোলা, তাঁর মধ্যে কোন ভান ছিল না। সত্যজিতের সাথে তাঁর খিটমিট লেগেই থাকতো। একবার গৌতম ঘোষ এক সাক্ষাৎকারে জানতে চাইলেন, আচ্ছা কখনও মনে হয়েছে আপনার যে সত্যজিৎ রায় পর্যায়ের প্রতিভার সমকালীন বড় পরিচালকের কাজ সম্পর্কে আরও দয়ালু হওয়া উচিত ছিল? কোথাও অন্তত পিঠ চাপড়ানির হাত রাখা যেত!

উত্তরে মৃণাল বললেন, যতদিন পর্যন্ত জানা আছে এ আমার চেয়ে উপরে উঠবে না, ততক্ষণ পিঠ চাপড়ানো যায়। যে মুহূর্তে আমি জানি, এ আমাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে, তখন আমি আর হাতটা তুলব না। বলে না, বেশি বড় হয়ে গেলে অনেক মুশকিল হয়।

অথচ, এই মৃণালকেই যখন আবার বলা হল, এখনও দেখা যাচ্ছে সত্যজিৎ এর উপর আপনার প্রচুর ক্ষোভ রয়েছে। উত্তরে বললেন, দেখুন, ওঁর সঙ্গে আমার নানা সময়ে বিতর্ক এক্সচেঞ্জ হয়েছে ঠিকই। কিন্তু এটা মানতেই হবে টোটালিটি নিয়ে সত্যজিত্‌ রায়ের ধারে কাছে কেউ নেই। ওঁর পাশে আমি নেহাত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলেছি। (পর পৃ. দ্র.)

x