কেরানীহাট কাঁচাবাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

সাতকানিয়া প্রতিনিধি

শুক্রবার , ১২ এপ্রিল, ২০১৯ at ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ
57

সাতকানিয়ার কেরানীহাট কাঁচাবাজারে অবৈধ ও বিশৃঙ্খলভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন ও সাতকানিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপঙ্কর তঞ্চঙ্গ্যা। তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত জায়গায় নুতনভাবে শেড নির্মাণ করে দেয়া হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কেরানীহাট কাঁচাবাজারে কিছু লোক সরকারী জায়গায় বিশৃঙ্খলভাবে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা করে আসছিল। আবার সংঘবদ্ধ এক চক্র কাঁচাবাজারের জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছে। বাজারের জায়গা এভাবে অবৈধ দখল হয়ে যাওয়ায় হাটের দিন খুচরা সবজি বিক্রেতা ও এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত মালামাল বিক্রির জন্য বসতে পারে না। বাজারের ইজারাদার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির কিছু নেতৃবৃন্দ বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানান। এরই ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন কিছুদিন আগে বাজার পরিদর্শন করে অবৈধ এবং বিশৃঙ্খলভাবে দখল করে থাকা দোকানদারদের সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। একইসাথে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উঠে না গেলে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথা জানান। এরই অংশ হিসাবে গতকাল অভিযান চালিয়ে দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন ও সাতকানিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপঙ্কর তঞ্চঙ্গ্যা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলম, কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির আহমদ, হাটের ইজারাদার ও উত্তর সাতকানিয়া যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ওচমান আলী ও ঢেমশা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত।
কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল জলিল জানান, বিশৃঙ্খলভাবে কিছু দোকান গড়ে উঠায় বাজারের জায়গা নষ্ট হওয়ার বিষয়টি সত্য। উচ্ছেদ অভিযানের ফলে আমাদের সাময়িক সমস্যা হয়েছে। তারপরও উদ্ধারকৃত জায়গায় সরকারিভাবে শেড নির্মাণ করে দিলে ব্যবসায়ীদের লাভ হবে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন জানান, কেরানীহাট কাঁচাবাজারে সরকারি জায়গা দখল করে নিজেদের ইচ্ছামতো বিশৃঙ্খলভাবে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা করে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ দোকান নির্মাণ করে অন্য ব্যবসায়ীর নিকট ভাড়া দিয়েছে। এখন যত্রতত্র বিশৃঙ্খলভাবে গড়ে উঠা স্থাপনাগুলো গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আর যেগুলো আছে সেগুলো তারা নিজ দায়িত্ব সরিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এরপর আমরা বাজারটি উঁচু করার পাশাপাশি একপাশে শেড নির্মাণের ব্যবস্থা করবো আর অন্য পাশে সপ্তাহিক হাটের দিন আসা সবজি বিক্রেতারা বসার জন্য উম্মুক্ত করে রাখা হবে। ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব কাজ সম্পন্ন করবো।

x