কেটেছে খরা, পাঁচলাইশ অফিস এখন পাসপোর্টে ভরা

সবুর শুভ

বৃহস্পতিবার , ২৬ জুলাই, ২০১৮ at ৫:০৩ পূর্বাহ্ণ
886

তিন মাস ঢাকায় প্রিন্ট মেশিন নষ্ট থাকায় এতদিন পাসপোর্ট ‘খরা’ ছিল চট্টগ্রামে। ওই সময় নগরীর পাঁচলাইশ ও মনসুরাবাদ পাসপোর্ট অফিসের ১২ হাজার পাসপোর্ট আটকে যায় ঢাকায়। বর্তমানে পাসপোর্ট অফিস ‘ভরা’ ঢাকা থেকে প্রিন্ট হয়ে আসা পাসপোর্টে।

পাঁচলাইশ অফিসেই ৫ হাজার পাসপোর্ট পড়ে আছে। নিতে আসছেন না কেউ। এসব পাসপোর্ট গ্রহীতাদের মোবাইলে মেসেজ দিয়ে ইতোমধ্যে জানিয়েও দেয়া হয়েছে বলে জানালেন পাঁচলাইশ পাসর্পোট অফিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ আল আমিন মৃধা। দুইমাস ধরে পড়ে থাকা এসব পাসপোর্ট নেয়ার ব্যাপারে খুবই কম সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা। জানা গেছে, ২০০৯ সালে কেনা অধিদফতরের ৩টি প্রিন্টারে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় সম্প্রতি। নিয়মিত ত্রুটি সারাতে গিয়ে পাসপোর্ট ছাপানোর কাজটি বিলম্ব হয়। বারবার ত্রুটির কারণে প্রিন্টারগুলোর কার্যক্ষমতা কমে যায়। আগে প্রতিদিন ৩টি প্রিন্টারে ২৫ থেকে ৩০ হাজার পাসপোর্ট ছাপা হতো। গেল মার্চে ত্রুটি দেখা দেয়ার পর পাসপোর্ট প্রিন্ট একলাফে নেমে যায় সাড়ে তিন হাজারে। এ সাড়ে তিন হাজারকেই সারাদেশের পাসপোর্ট অফিসগুলো ভাগ করে পাঠানো হতো। এভাবে চলে এপ্রিল ও মে মাস পর্যন্ত। জুন মাসের গোড়াতে মেশিনগুলোর ত্রুটি সারানো হয়। পুরোদমে শুরু হয় পাসপোর্ট প্রিন্ট।

পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রিয় প্রিন্ট মেশিন গত একমাস থেকে পুরোদমে কাজ করছে। এ কারণে শুধু এ অফিসেই প্রতিদিন ঢাকা থেকে আসছে ১ হাজারেরও বেশি পাসপোর্ট। আর প্রতিদিন আবেদন পড়ছে তিনশ’ করে।

এ বিষয়ে উপপরিচালক মোহাম্মদ আল আমিন মৃধা বলেন, গত ১৯ জুলাই ঢাকায় জার্মানির একটি কোম্পানির সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে ইপাসপোর্ট চালুর ব্যাপারে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বর/জানুয়ারিতে আমরা ইপাসপোর্ট মানুষের হাতে তুলে দিতে পারবো।

তিনি পাসপোর্ট পড়ে থাকার বিষয়ে বলেন, আগে পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য মানুষ অপেক্ষায় থাকতেন। এখন মানুষের হাতে পাসপোর্ট তুলে দিতে আমরা বসে আছি। জানা গেছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা এমনকি বিশ্বের যে প্রান্ত থেকেই বাংলাদেশিরা পাসপোর্টের আবেদন করুক না কেন এগুলো প্রিন্ট হয় ঢাকার আগারগাঁওয়ে। বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের নিয়ম অনুযায়ী, একটি পাসপোর্ট সাধারণভাবে ইস্যু কিংবা রিইস্যু করতে ২১ দিন সময় লাগে আর জরুরি ভিত্তিতে ৭ দিন। প্রিন্ট জটিলতার কারণে একমাস আগেও চরম দুরাবস্থা ছিল দেশের পাসপোর্ট অফিসগুলোতে। পাসপোর্টের জন্য হাহাকার ছিল নগরীর দুই পাসপোর্ট অফিসে। এখন হয়েছে উল্টোটা। পাসপোর্ট এসেছে ঠিকই নিতে আসছেন না আবেদনকারীরা।

তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাসপোর্ট অফিসের সংখ্যা ৬৭টি। এর মধ্যে ৬৪টি জেলার ৬৪টি, ঢাকার উত্তরা ও কেরাণীগঞ্জে অতিরিক্ত ২টি ও চট্টগ্রামে দুইটি। এর মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৪টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ১১টি, তৃতীয় পর্যায়ে ১৯টিসহ ৩৪টি অফিস নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে ১৭টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১৭ টি জেলায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন পর্যন্ত আগের এক বছরে পাঁচলাইশ অফিসে পাসপোর্টের জন্য আবেদন পড়েছে ৯৭ হাজার ৬২৫ জনের আবেদন। এর মধ্যে জরুরি রয়েছে ১৯ হাজার ২৫ টি। বাকীগুলো সাধারন আবেদন।

এ সময়ের মধ্যে পাঁচলাইশ অফিস থেকে পাসপোর্ট বিতরণ হয়েছে ৯০ হাজার ৭৬৪ টি। রাজস্ব এসেছে ৩৯ কোটি ৫৮ লাখ ৬২ হাজার ৬২৯ টাকা। গতকাল পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, আলমারি ও পাসপোর্ট বই রাখার রুমে ভাঁজে ভাঁজে পড়ে আছে ঢাকা থেকে প্রিন্ট হয়ে আসা এসব পাসপোর্ট।

x