কেঁচো সারে সুখের ছোঁয়া

বিজয় ধর,রাঙামাটি

রবিবার , ৭ এপ্রিল, ২০১৯ at ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
38

রাঙামাটি শহরের কেঁচো সার উৎপাদন এবং বিকিকিনি করে সংসারের হাল ধরেছেন গৃহিনী মারজাহান বেগম। চোখে মুখে তার নানান স্বপ্ন আর উচ্ছ্বাসে ভরপুর। স্বামীর আয়ে সংসারে চললেও ছেলেদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হিমসিম খেতে হয়। আর ছেলেদের লেখাপড়ার বাড়তি খরচের চাহিদা মেটাচ্ছেন কেঁচো সার বিক্রি করে। যে গৃহিনী এ কাজটি করে সংসারের চাকা ঘুরাচ্ছেন তিনি হলেন- মারজাহান বেগম। স্বামী সরকারি চাকরীজীবি। দু’ছেলে এবং স্বামী নিয়ে তাদের সংসার। বসবাস করেন- জেলা শহরের সিও অফিস এলাকায়। বড় আর ছোট ছেলে দু’জনে ঢাকার একটি সরকারী কলেজে লেখাপড়া করছেন।গৃহিনী মারজাহান বেগম বলেন, কেঁচো সার উৎপাদনের বিষয়টি তিনি টেলিভিশনের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তারপর স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণের অধিদপ্তরের সহযোগিতায় কেঁচো সার তৈরির প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।একটি বেসরকারী ব্যাংক থেকে গত বছর ১লাখ টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করেন কেঁচো সার উৎপাদন। গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি অবসর সময়ে কেঁচো সার বিক্রি করে বাড়তি টাকা আয় করেছেন। মারজাহান আরও জানান, প্রথমে তার বাড়ির পাশ্ববর্তী একটি স্থান নির্বাচন করে কেঁচো সার (বার্মিং কম্পোস্ট সার) উৎপাদন শুরু করেন। আর প্রতিমাসে আয় করছেন ২০হাজার টাকা।
তিনি বলেন কেঁচো সার উৎপাদনের জন্য প্রথমে কাঁচা গোবর, মুরগীর পঁচা বিষ্টা, বিষমুক্ত সবুজ লতা-পাতা, তরকারীর খোসা,ফলের খোসা এবং কলা গাছের কুচি দরকার হয়। বামির্ং কম্পোস্ট তৈরির মূল উপাদান অস্ট্রেলিয়ান এজোজিক কেঁচো সংগ্রহ করতে হবে। এ কেঁচোগুলো তিনি সংগ্রহ করেছেন-স্থানীয় একটি এনজিও সংস্থা থেকে। তার এ কাজে সহযোগিতা করছেন তার স্বামী। পাশাপাশি কাজের লোকও রাখা হয়েছে। এর আগে সিমেন্টের তৈরি রিং (গোলাকার), জায়গা এবং ঘর তৈরির জন্য টিন, বাশ, কাঠ, পেরেক লাগবে। অবশ্যই মেঝে পাকা হওয়া দরকার। মেঝে পাকা থাকলে পিপড়া কেচোঁর উপর আক্রমণ করতে পারবে না। কেচো উৎপাদনের স্থানটি অবশ্যই ছায়াযুক্ত স্থানে হতে হবে।
তিনি বলেন, নতুন অবস্থায় সার উৎপাদনের জন্য ৪৫দিনের সময় লাগে। এরপর প্রতিমাসে সার তোলা যাবে। অল্প পরিমাণ জায়গায় মাত্র ৫০ হাজার টাকা খরচ করে প্রতিমাসে ২০হাজার টাকা আয় করছেন। কেঁচো সার বিকিকিনি করে টানা-পোড়নের সংসারের দুঃখ এবার ঘুচে গেছে। স্বামী-সন্তান নিয়ে বেজায় সুখে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। বাকী টাকা দিয়ে নার্সারী, হাঁসের খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে বলে তিনি জানান ।কেঁচো সার ক্রয়ের ক্রেতা কারা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন স্থানীয় চাষীরা খুচরা এবং পাইকারী দামে বাড়ি থেকে সার কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বড় বড় সারের দোকানগুলো পাইকারী দামে বাড়িতে এসে সার সংগ্রহ করছে।তিনি বেকার যুবক-যুবতীদের এ চাষে উদ্বুদ্ধ হতে আহ্‌বান জানান
এ বিষয়ে রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া জানান , যে কোন বেকার যুবক অল্প জায়গায় স্বল্প টাকা দিয়ে কেঁচো সার উৎপাদন করতে পারে । অধিক ফসল উৎপাদনে এ সারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কেউ কেঁচো সার উৎপাদন করতে আগ্রহ প্রকাশ করলে স্থানীয় কৃষি বিভাগ তাকে সাহায্য করবে।

x