কৃষক পরিবারে আড়ি’র প্রচলন এখন আর নেই

মুহাম্মদ এরশাদ : চন্দনাইশ

সোমবার , ২০ জানুয়ারি, ২০২০ at ৫:২০ পূর্বাহ্ণ
26

“আড়ি” বেঁতের তৈরি একটি প্রাচীন বস্তু। প্রাচীনকাল থেকেই কৃষকদের ধান পরিমাপের একমাত্র বস্তু ছিল এই আড়ি। কৃষি প্রধান বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারে ধান ও চাউল পরিমাপের এ বস্তু দেখা গেলেও তা কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে কিছু কিছু কৃষি পরিবারে এখনো স্ব-যত্নে সংরক্ষণ করে রেখেছে আবহমান বাংলার এই বস্তুটি।
জানা যায়, কৃষকরা নতুন ধান ঘরে তোলার আগেই বিভিন্ন বাজার থেকে ধান পরিমাপের আড়িসহ অন্যান্য উপকরণ কিনে আনতো। বর্তমানে ডিজিটাল পরিমাপক যন্ত্র আবিষ্কৃত হওয়ায় সেই আড়ি’র কদর একেবারে নেই বললেই চলে। আড়ির ব্যবহার না থাকায় এখন বেঁত শিল্পীরা আড়ি আর তৈরি করেন না। সেই সময় কৃষকরা আড়ি মেপে নতুন ধান বস্তায় ভরে গোলা ভর্তি করলেও এখন চিত্র চোখে পড়ে না।
চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া এলাকার সত্তরোর্ধ ধানচাষি সিরাজুল ইসলাম বলেন, তখনকার দিনে তারা আড়ি মেপে ধান বিক্রি করতেন। যুগের চাহিদার কারণে তারা এখন ডিজিটাল পরিমাপ যন্ত্রে ধান মেপে বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সে সময় আড়ি ছাড়াও সেরি ও পাইয়ামালার প্রচলন ছিল। এসব বস্তু ঘরের সৌভাগ্যের প্রসূতি হিসেবেও বিবেচনা করা হতো। যে গৃহস্থ পরিবারে এসব বস্তু না থাকে তাদের বদনাম হতো। আড়ি ও সেরি তৈরি হতো বেঁত দিয়ে এবং পাইয়ামালা তৈরি হতো নারকেলের কোসা দিয়ে। কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে যাওয়ায় বর্তমান প্রজন্ম আড়ি, সেরি ও পাইয়ামালা কি জিনিস তা চিনে না। তারা পরিচিত হচ্ছে আধুনিক পরিমাপক যন্ত্রের সাথে। এছাড়া সেরি ও পাইয়ামালা গ্রামীণ গৃহস্থবাড়ির ধান, চাল, কুড়া ও বিভিন্ন জাতের বীজ পরিমাপের বস্তু ছিল।
সাতকানিয়ার কালিয়াইশের প্রবীণ কৃষক নুরুল হক জানান, মাত্র ১০ বছর আগেও সিংহভাগ ধান চাষী ধান পরিমাপের প্রধান বস্তু হিসেবে আড়ি ব্যবহার করতো। আধুনিক পরিমাপক যন্ত্র আবিষ্কার হওয়ার পর থেকে আড়ি’র ব্যবহার আস্তে আস্তে কমে আসতে থাকে। তবে প্রয়োজনের তাগিদে অনেকে আড়ি, সেরি ও পাইয়ামালার পরিবর্তে টিনের কোটাকে পরিমাপক হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে।
সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার মরহুম ফজল করিম সওদাগরের বাড়িতে দেখা যায়, পাকা ঘরের চাঁদের কোণায় একটি পুরনো আড়ি পড়ে রয়েছে। এসময় পরিবারের সদস্যদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানায়, এটি তাদের বাপ-দাদার আমলে ব্যবহৃত হতো। এখন ব্যবহৃত হয় না। তবে বাপ-দাদার স্মৃতি হিসেবে তারা এখনো এটি সংরক্ষণে রেখেছেন।