কিডনি রোগের চিকিৎসায় আরো ভর্তুকি দরকার

শনিবার , ১৪ মার্চ, ২০২০ at ৫:০০ পূর্বাহ্ণ
85

বিশ্ব কিডনি দিবস পালিত হয়েছে গত ১২ মার্চ। প্রতিবছর মার্চের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার দিবসটি পালিত হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিশ্ব কিডনি দিবস পালিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল- ‘সুস্থ কিডনি, সর্বত্র সবার জন্য’।
কিডনি রোগের ভয়াবহতা ক্রমাগত বেড়েই চলছে। কিডনি অকেজো রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল যা ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের প্রায় শতকরা ৩ ভাগ কিডনি রোগের চিকিৎসা, ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংযোজন ক্ষেত্রে ব্যয় হয়। কাজেই এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগ শনাক্ত করা; যাতে কিডনি রোগ না হতে পারে সেই উদ্দেশ্যে ও লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রতি বছর কিডনি দিবস পালন করা হয়।
জানা যায়, বিশ্বে বর্তমানে ৮৫০ মিলিয়ন মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন মানুষ দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত ও ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন মানুষ আকস্মিক কিডনি রোগে মারা যায়। দেশে প্রায় ৪০ হাজার রোগী দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এ কথা উল্লেখ না করলেই চলে যে মানব দেহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হচ্ছে কিডনি। পৃথিবীতে মানবজাতি যেসব প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে তার মধ্যে কিডনি রোগ অন্যতম। এই কিডনি রোগ খুব নীরবে শরীরের ক্ষতি করে। খুব জটিল অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত লক্ষণগুলো ভালোভাবে প্রকাশও পায় না। তাই কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো আগে থেকেই জেনে রাখা জরুরি।
কিডনি ফাউন্ডেশন নামের একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপ থেকে পাওয়া পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ কোন না কোনভাবে কিডনি রোগে ভুগছে। আর আক্রান্তদের মধ্যে ৪০ হাজারের কিডনি পুরোপুরি অকেজো হচ্ছে প্রতিবছর। এ ধরনের রোগীর জন্য মাত্র দু’রকম চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। হয় ডায়ালাইসিস অর্থাৎ যন্ত্রের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে কিডনির কাজ করানো নতুবা কিডনি প্রতিস্থাপন। কিন্তু এই দুই ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতিই ব্যয়বহুল। ডায়াবেটিস থাকলে সেটিও একটা পর্যায়ে গিয়ে কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে ডায়াবেটিক হাসপাতালে কিডনি রোগের চিকিৎসার জন্য বড় ইউনিট রয়েছে।
কিডনি রোগ মানবজাতির পঞ্চম মৃত্যুর কারণ। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, নিম্ন আয়ের দেশে শতকরা ৮০ ভাগ কিডনি রোগী কিডনি ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংযোজন থেকে বঞ্চিত। কেননা এটি ব্যয়বহুল। তাছাড়া, ডায়ালাইসিসের ব্যয় সরকারিভাবে নির্ধারিত হয় না। সরকারি হাসপাতালগুলোতে যত খরচ হয়, তার চেয়ে বেশি খরচ হয় বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে। হাসপাতালগুলো নিজেদের মতো করে তা নির্ধারণ করে থাকে ব্যয়। কিডনি অকেজো হওয়া একজন রোগীকে সপ্তাহে দুই বা তিনবার পর্যন্ত ডায়ালাইসিস করাতে হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, কিডনির চিকিৎসা বিস্তারে কমিউনিটি হাসপাতালগুলোকে কাজে লাগানো যেতে পারে। লাভজনক সেন্টারগুলোতো এটা চিন্তাও করে না যে, একজন রোগীকে কত কম খরচে চিকিৎসা দেওয়া যাবে। অলাভজনক যেসব সেন্টার আছে, সেগুলো খুবই অপ্রতুল। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা- এমন সাত আটটা শহরে কিছু কিছু ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা আছে এবং সেটা একেবারে নগণ্য। গ্রাম পর্যায়ে এখন এটা চিন্তা করা খুব দুষ্কর। তবে একটা অবকাঠামো আছে, সেটা হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক। এই কমিউনিটি ক্লিনিকে যদি উদ্যোগ নেওয়া যায়, তাহলে কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস এবং উচ্চরক্তচাপ- এসব রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
যদিও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, সারাদেশে সরকারি হাসপাতালগুলোতে কিডনির চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসার ইউনিট করা এবং চিকিৎসা ব্যয় কমিয়ে আনার ব্যাপারে বিভিন্ন পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসকরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অপ্রতুলতার কথাও তুলে ধরছেন। বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টানোর বিষয়ে চিকিৎসকদের সন্দেহ রয়েছে।
শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ রোগে আক্রান্তদের একসময় সম্পূর্ণ কিডনি বিকল হয়ে যায়। তখন ডায়ালাইসিস বা কিডনি সংযোজন ছাড়া বাঁচার উপায় থাকে না। যেহেতু এ রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল, তাই এ ক্ষেত্রে সরকারের ভর্তুকির দাবি জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।