কাস্টমস নিলামে অংশ নেয়া যাবে ঘরে বসেই

ই-অকশন সফটওয়্যার উদ্বোধন কাল

জাহেদুল কবির

বুধবার , ৬ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ
286

চট্টগ্রাম কাস্টমসে আগামীকাল চালু হচ্ছে ই-অকশন (অনলাইন নিলাম) সফটওয়্যার। সংশ্লিষ্টরা জানান, নিলাম প্রক্রিয়া সহজ করে তোলা ও নিলামে অংশগ্রহণকারীদের হয়রানি দূর করাই ই-অকশনের মূল্য লক্ষ্য। বর্তমানে কাস্টমসে জব্দকৃত পণ্যের নিলাম ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেই হয়ে আসছে। প্রক্রিয়াটি জটিল ও সময় সাপেক্ষ। তবে ই-অকশন চালু হলে নিলামে অংশগ্রহণকারীরা কাস্টম হাউসে না গিয়ে ঘরে বসেই তারা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট উপস্থাপন করতে পারবেন।দেখতে পারবেন নিলামযোগ্য পণ্যের ক্যাটালগও। এ প্রক্রিয়ায় কম সময়ে নিলামে অংশ গ্রহণ করা যাবে ও কাজের স্বচ্ছতাও বৃদ্ধি পাবে। কাল সকাল ১০টায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সদস্য (কাস্টমস অডিট, মডারাইজেশন অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড) খন্দকার মো. আমিনুর রহমান সফটওয়্যারটি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, জব্দ পণ্য নিলামে তোলার ক্ষেত্রে কিছু আইনগত প্রক্রিয়া মানতে হয়। বাংলাদেশ কাস্টমস আইনে একটি নীতিমালা রয়েছে। কিছু কিছু পণ্য নিলামে তোলার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হয়। ই-অকশন চালু হলে নিলাম কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে যাবে। নিলামে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতাকে স্বচ্ছতার সাথে পণ্য বরাদ্দ দেয়া সম্ভব হবে। অনলাইনে কি পরিমাণ নিলাম হয়েছে এগুলোর রেকর্ডও থাকবে। আগের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কি পরিমাণ নিলাম সম্পন্ন হয়েছে তার কোনো তথ্য উপাত্ত কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত নেই বলে কর্মকর্তারা জানান।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে নিয়মিত নিলামে অংশহগ্রহণকারী ব্যবসায়ী ফজলুল আমিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, কাস্টমসে ই-অকশন চালু হচ্ছে, এটি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য খুশির খবর। বর্তমান ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হয়রানি বেশি। দেখা যায়, এক কাজের জন্য একাধিকবার নিলাম শাখায় যাওয়া-আসা করতে হয়। ই-অকশনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে গত মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে কার্নেট সুবিধায় আসা বিলাসবহুল গাড়িগুলো ই-অকশনে নিষ্পত্তি করার জন্য কাস্টমসকে চিঠি দেয় এনবিআর। ইতোমধ্যে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এসব গাড়ি ই-অকশনে দেয়ার প্রস্তুতিও শুরু করেছে। শুরু হয়েছে নতুন করে ইনভেন্ট্রি কার্যক্রম। দ্রুত এসব গাড়ি নিলামে উঠানো হবে বলে জানান নিলাম শাখার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মো. জিয়া উদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার ই-অকশন সফটওয়্যার উদ্বোধন হচ্ছে। আমরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। প্রথমদিকে ট্রায়াল বেসিস সফটওয়্যারটি দেখবো। পরবর্তীতে কোনো কারিগরি ত্রুটি পাওয়া গেলে সেইসব সমাধান করে পুরোদমে নিলামে চলে যাব। কার্নেট গাড়ি আগেও বিভিন্ন সময় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নিলামে তোলা হয়েছে। কিন্তু মূল্য পাওয়া না যাওয়ায় বিক্রি করতে পারিনি। তবে এবার ইনভেন্ট্রি শেষে ভালোভাবে প্রচার প্রচারণা করে নিলামে যাবো।
উল্লেখ্য, আমদানিকৃত পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে সরবরাহ নিতে হয়। এ সময়ের মধ্যে কোনো আমদানিকারক পণ্য সরবরাহ না নিলে তাকে নোটিশ দেয় কাস্টমস। নোটিশ দেয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এ পণ্য সরবরাহ না নিলে তা নিলামে তুলতে পারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এছাড়া মিথ্যা ঘোষণায় জব্দ পণ্যও নিলামে তোলা হয়। এসব নিলামযোগ্য কন্টেনার বন্দরে পড়ে থাকলে বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো চার্জ পায় না। আবার কাঁচা পণ্যের কন্টেনার ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হয়, এতে বিদ্যুতেরও অপচয় হয়। তাই দ্রুত নিলাম সম্পন্ন করা সম্ভব হলে বন্দরে কন্টেনার জট দূর হওয়ার পাশপাশি রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

x