কার্গো বিমানে পেঁয়াজ আসছে কাল-পরশুর মধ্যে : প্রধানমন্ত্রী

রবিবার , ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ at ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ
261

পেঁয়াজের সঙ্কট সামাল দিতে সরকার কার্গো বিমানযোগে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ নিয়ে আসছে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে বক্তব্যে চলমান পেঁয়াজ সঙ্কট নিয়ে জনগণকে অভয় দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন পেঁয়াজ নিয়ে একটা সমস্যা চলছে। এই সমস্যা যাতে না থাকে সেজন্য কার্গো ভাড়া করে আমরা এখন পেঁয়াজ আনা শুরু করেছি। আগামী কাল-পরশুর মধ্যে বিমানে পেঁয়াজ আসা শুরু হবে। এখন পেঁয়াজ বিমানেও উঠে গেছে, কাজেই আর চিন্তা নাই। সেই ব্যবস্থাও আমরা করে দিচ্ছি।
দেশে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে তিনি বলেন, সব দেশে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এটা ঠিক। কিন্তু আমাদের দেশে কেন কী কারণে এতটা অস্বাভাবিকভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে আমি ঠিক জানি
না। এখন আমরা বিমানের কার্গোতে করে পেঁয়াজ আমদানি করে নিয়ে আসছি। আমরা দেখতে চাই এই ধরনের চক্রান্তের সঙ্গে কেউ জড়িত আছে কিনা। স্বাভাবিকভাবে আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় অনেক পণ্যের উৎপাদন বাড়ে বা উৎপাদন কমে। যেহেতু পেঁয়াজটা বেশি দিন রাখা যায় না। কেউ যদি এখন দাম বাড়িয়ে দু পয়সা কামাতে চান, তাদের এটাও মনে রাখতে হবে যে, পেঁয়াজ তো পচেও যাবে। পচা পেঁয়াজও শুকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাহলে এভাবে মানুষকে কষ্ট দেওয়া কেন? খবর বিডিনিউজের।
শেখ হাসিনা বলেন, যতই আমরা এগিয়ে যাই, মানুষ যখন ভালো থাকে, একটা না একটা ইস্যু তৈরি করে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার একটা চেষ্টা শুরু হয়। সবাইকে অনুরোধ করব, এভাবে চেষ্টা না করে এর পেছনে কারণটা কী সেটা খতিয়ে দেখা। অবশ্য ইন্ডিয়াতেও পেঁয়াজের দাম অনেক। সেখানে তারা একশ রুপিতে প্রতিকেজি পেঁয়াজ কিনছে। শুধু একটা স্টেটে দাম কম। তারা তাদের পেঁয়াজ বাইরে যেতে দেয় না। সার্বিকভাবে সেখানেও দাম বেশি। আমরা যেখান থেকে কিনছি সেখান থেকেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের আরো নির্মোহ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, একজন রাজনীতিকের জীবনে কী পেলাম না পেলাম সেটা বড় কথা না, কতটুকু মানুষের জন্য করতে পারলাম, মানুষকে দিতে পারলাম সেটাই বড় কথা। সেই চিন্তা নিয়ে রাজনীতি করলে সেই রাজনীতি কখনও ধংস হয় না।
‘শুদ্ধি অভিযান’ অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা এই দেশ থেকে মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি দূর করতে চাই। এর বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে, সেই অভিযান আমরা অব্যাহত রাখব। কারণ বাংলাদেশের মানুষের জীবনের শান্তি, নিরাপত্তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেই উন্নতি সম্ভব।
অসৎ পথে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বিরিয়ানি খাওয়ার চেয়ে সৎ পথে নুন ভাত খাওয়া অনেক মর্যাদার, অনেক ভালো। এ কথা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কেন দুর্নীতি করে চুরি করে টাকা বানাতে হবে, কেন? সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি অসদুপায়ে অর্থ উপার্জন করে সেইটা দিয়ে আবার বিলাসবহুল জীবন-যাপন করা, ওটা দিয়ে ফুটানি ঠাটারি করা এদেশের মানুষ বরদাশত করবে না।
সৎ পথে চললে যে মাথা উঁচু করে চলা যায়, তার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে আমাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। এর মাঝে আবার আমেরিকায় জয়কে কিডন্যাপ করার জন্য এফবিআইয়ের একজন অফিসারকে হায়ার করে। টাকা দিয়ে কিনে ফেলে। আমি আমার পরিবার, আমার বোনের কী কী আছে, সেগুলো খোঁজা শুরু করে। খালেদা জিয়া তার দুই ছেলের দুর্নীতির প্রসঙ্গ চলে আসল। একমাত্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং তার বোন, একমাত্র আমাদের বিষয়ে কোথাও কোনো রকম কমিশন খাওয়া বা দুর্নীতির কোনো দৃষ্টান্ত তারা পায় নাই। কিন্তু যেই অফিসার তারা হায়ার করেছিল তার বিরুদ্ধে এফবিআই মামলা করে। সেই মামলা চালাতে গিয়ে বেরিয়ে আসল যে, তারা শুধু তাকে হায়ার করেনি। তারা দুজন লোক নিয়োগ করেছিল যে জয়কে কিডন্যাপ করে আমেরিকায় হত্যা করবে। কাজেই আপনারা বুঝতেই পারেন, তারা পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট হত্যা করেই থেমে থাকেনি, তাদের চক্রান্ত অনেক প্রসারিত। তারা খুঁজতে গেল আমাদের দুর্নীতি, ধরা পড়ল নিজেরাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুন দুর্নীতি মানি লন্ডারিংয়ে ব্যস্ত খালেদা জিয়া ও তার দল যেন কোনো দিন বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসতে না পরে তার জন্য জনগণকে সচেতন করতে হবে। এরা আসা মানেই মানুষের দুর্ভোগ, এরা ক্ষমতায় থাকা মানেই দেশকে একেবারে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া।
আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তিন মেয়াদের শাসনকালে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে নেতাকর্মীদেরকে এসব ভালো কাজ জনগণের কাছে প্রচার করার আহ্বানও জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা বার বার জনগণের ম্যান্ডেট পেয়ে ক্ষমতায় আসছি। রাষ্ট্র পরিচালনা করে আজকের বাংলাদেশ। যেখানে বিএনপির আমলে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ ভাগ, আজকে আমরা কমিয়ে এনেছি ২১ ভাগে। ইনশাআল্লাহ আমরা আরো কমিয়ে আনব। আজকে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করেছি। প্রায় দুই হাজার ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ ভাগে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি।

x