কারা ছিলেন যাত্রী

বিধ্বস্ত প্লেনে ছিলেন রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১৩ শিক্ষার্থ

মঙ্গলবার , ১৩ মার্চ, ২০১৮ at ৩:৫৯ পূর্বাহ্ণ
886

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএসবাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটিতে মোট ৬৭জন যাত্রী ছিলেন। এরমধ্যে পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ ৩৭, নারী ২৮ এবং দুইজন শিশু। এছাড়া ক্রু ছিলেন ৪ জন।

এ প্লেনে করে সিলেটের জালালাবাদ রাগীবরাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১৩ শিক্ষার্থী দেশে ফিরছিলেন বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ আবেদ হোসেন বলেন, বিমানে তাদের ১৩ জন নেপালি শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে ১১ জন ছাত্রী। আর দুইজন ছাত্র। তারা এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরছিলেন। তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

এ প্লেনে স্বামীসহ ছিলেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষিকা ইমরানা কবির হাসি। ১৫ দিনের ছুটিতে তারা বেড়াতে যাচ্ছিলেন। তবে রুয়েট শিক্ষিকা ইমরানা কবির হাসি বর্তমানে নেপালের কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে এবং তার স্বামী রকিবুলকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় রুয়েট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রুয়েট জনসংযোগ দফতরের উপপরিচালক জিএম মর্তুজা বলেন, ইমরানা কবির হাসি রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক। তার বাড়ি টাঙ্গাইলে হলেও তিনি রাজশাহী মনানগরীর মোনাফের মোড় এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়ায় থাকেন। তার স্বামী রকিবুল একই বিভাগে ছাত্র ছিলেন। তিনি ঢাকায় চাকরি করেন।

বিমানটিতে সপরিবারে ছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর প্রোগ্রাম অফিসার সানজিদা হক বিপাশা। স্বামী রফিক জামান ও ছেলে অনিরুদ্ধও তার সঙ্গে ছিলেন বলে বিভিন্ন অনলাইন সংস্থার খবরে বলা হয়েছে। যদিও কোনো দায়িত্বশীল সূত্রে বিষয়টি জানা যায়নি। তবে স্বজনদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

এ বিমানে পরিকল্পনা বিভাগের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) দুই নারী কর্মকর্তার থাকার কথাটি নিশ্চিত করেছেন জিইডির সদস্য ড. সামসুল আলম। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা খোঁজখবর রাখছি। নেপাল দূতাবাসে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। সময় যতই বাড়ছে রাজধানীর বারিধারায় অবস্থিত ইউএস বাংলা এয়ার লাইন্সের অফিসে নেপালগামী বিমানে থাকা যাত্রীদের স্বজনদের ভিড়ও ততই বাড়ছে। তাদের কান্নায় অফিসের পরিবেশ যেন ভারি হয়ে উঠছে।

বিমানের যাত্রীদের মধ্যে গাজীপুরের নগরহাওলা গ্রামের একই পরিবারের পাঁচ সদস্য ছিলেন। বিমানে থাকা ফারুক আহমেদ প্রিয়কের (৩২) মা ফিরোজা বেগম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে দুর্ঘটনার পর এদের অবস্থার বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

এই ফ্লাইটের যাত্রীদের যে তালিকা পাওয়া গেছে তা হলতানিরা তানভীন শশী, পিয়াস, শেখ রাশেদ, কৃষ্ণ কুমার, উম্মে সালমা, আশনা সাকিয়া, অঞ্জলি শ্রেষ্ঠ, সারুনা শ্রেষ্ঠ, সৈয়দা কামরুন নাহার, হরিপ্রসাদ, দয়ারাম তহরাখার, বালকৃষ্ণ থাপা, শ্বেতা থাপা, কিশোর ত্রিপতি, আবাদেশ কুমার যাদব, অনিরুদ্ধ জামান, মো. নুরুজ্জামান, মো. রফিক জামান, রিয়ানা আব্দুল্লাহ, পয়বাল আহমেদ, সামরিন আহমেদ, জাকদ আলী, আলিফুজ্জামান, আলমুন নাহার, বিলকিস আরা, শিলা বাজগাইন, বেগম নুরুন্নাহার বিলকিস, আলজিনা বড়াল, চারু বড়াল, আকজারা বেগম, শাহীন বেপারী, শুভিন্দ্র সিং, বসঞ্জিত বহরা, সামিরা বায়ানজানকর, প্রবীণ চিত্রকর, নাজিয়া আফরিন চৌধুরী, সাজানা দেবখোজা, প্রিন্সি ধামি, গায়নি কুমারি গুরুং, রেজকানুল হক, মো. রকিবুল হাসান, মেহেদী হাসান, এমরানা কবির হাসি, কবির হোসাইন, দীনেশ হুমাগাইন, সানজিদা হক, হাসানন ইমাম, মো. নজরুল ইসলাম, শ্রেয়া জিলা, পূর্ণিমা লুনানি, মিলি মেহেরজান, নিগা মেহেরজান, সঞ্জয়া মেহেরজান, জেংমিং, আঁখি মনি, মেহনাজ বিন নাসির, কেসাব পান্ডে, প্রসন্না পান্ডে, বিনোদ পাউডাল, হরিশংকর পাউডাল, সঞ্জয় পাউডাল, এফএইচ প্রিয়ক, থামারা প্রিয় নৈইয়ি, মতিউর রহমান, এসএম মাহবুবুর রহমান, আশিষ রঞ্জিত।

x