কাতার-বাংলাদেশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও শক্তিশালী হবে

কাতারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীর ঢল

আকবর হোসেন বাচ্চু, দোহা (কাতার) থেকে

রবিবার , ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ৬:৫০ অপরাহ্ণ

কাতারের রাজধানী দোহার এক্সিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার (ডিইসিসি)তে বাংলাদেশী রপ্তানিমুখী শিল্পপণ্য নিয়ে প্রথমবার অনুষ্ঠিত হলো ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ শিল্পপণ্য প্রদর্শনী। সমাপনী দিনে বিভিন্ন দেশের অভিবাসীসহ প্রবাসী বাংলাদেশী দর্শনার্থীদের ঢল নামে প্রদর্শনীতে।

এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের কৃষি, ব্যাটারি, তার ও বিদ্যুৎ, সিমেন্ট, সিরামিক, তৈরি পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি, খাদ্য ও পানীয়, মৎস্য ও মাংস, আসবাবপত্র, চামড়া, আবাসন, প্লাস্টিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, জাহাজ নির্মাণ, বস্ত্র ও পাট, প্রসাধন এবং পর্যটন সেবাদাতা কোম্পানিগুলো তাদের পণ্য প্রদর্শন করে।

প্রদর্শনীর সফল আয়োজন দেখে কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ বলেন, ‘এতোদিন বিদেশীরা মনে করতো আমরা শুধু বিদেশে শ্রমিক রপ্তানি করি কিন্ত এখন থেকে তারা আমাদেরকে নতুন করে জানবে। এরকম প্রদর্শনীর মাধ্যমে কাতার-বাংলাদেশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও শক্তিশালী হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রায় ৪ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কাতারে কর্মরত। তারা এখানে বাংলাদেশী বাজার তৈরি করতে সাহায্য করবে। প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা নিজেদের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেছে।’

এর মাধ্যমে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং দেশে ব্যবসার নতুন দ্বার উন্মোচন হবে বলে মনে করেন প্রদর্শনীর উদ্যোক্তারা।

বিশ্বখ্যাত ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে বাংলাদেশ ফোরাম কাতার এবং কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে এ শিল্পপণ্য প্রদর্শনী আয়োজন করতে পেরে অনেক আনন্দিত আয়োজক কমিটি বাংলাদেশ ফোরাম কাতার।

আয়োজক কমিটির কর্মকর্তা ও স্থানীয় উদ্যোক্তা এমএ মুরাদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশী শিল্পপণ্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমাদের শিল্পপণ্যকে বিশ্বব্যাপী পরিচত করাতে পারবো।’

আয়োজক কমিটির সদস্য সামছুদ্দিন সুফি বলেন, “এরকম সফলভাবে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ শিল্পপণ্য প্রদর্শনী শেষ করতে পেরে আমরাও অনেক আনন্দিত।”

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম তেল ও গ্যাস সমৃদ্ধ দেশ কাতারে বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য রপ্তানি পণ্যের বাজার তৈরির লক্ষ্যে এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করা ওয়েল গ্রুপ-এর ডিরেক্টর সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে এসে এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে আমরা সবচেয়ে বড় সহযোগিতা পেয়েছি স্থানীয় প্রবাসী ভাইদের।’

কাতারের নারী উদ্যোক্তা শামীমা আক্তার বলেন, ‘এরকম একটি প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করা আমাদের জন্য একটা গৌরবের বিষয়।’

স্থানীয় প্রবাসী তরুণ উদ্যোক্তা শামস শাহিন বলেন, ‘কাতারে বাংলাদেশীদের মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করতে এরকম উদ্যোগ অনেক সহায়ক হবে।’

প্রদর্শনীতে বাংলাদেশী খাবার উপস্থাপন এবং বিশ্বরঙ-এর ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব শাহার অসাধারণ কোরিওগ্রাফিতে মনোমুগ্ধকর ফ্যাশন শো ও স্থানীয় চিরন্তন বাউল সংঘের পরিবেশনা বাউল সংগীত জমিয়ে তুলে পুরো আয়োজনকে।

গত ২৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শুরু হয়ে এই প্রদর্শনী চলে ৩০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত।

x