কষ্ট শুধু পাবলিকের

ইকবাল হোসেন

মঙ্গলবার , ২২ অক্টোবর, ২০১৯ at ৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ
200

চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন। প্রতিদিনের ন্যায় কর্মস্থল আগ্রাবাদ যেতে সকাল ৯টায় বাসা থেকে বের হয়ে চান্দগাঁও আবাসিকের মুখে এসে দেখতে পান রাস্তায় কোনো বাস নেই। আগে থেকে অপেক্ষমাণ লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন রাস্তায় বাস-মিনিবাস চলাচল করছে না। এসময় বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালের দিক থেকে একটি টেম্পু আসলে হুমড়ি খেয়ে কয়েকজন উঠতে পারলেও তিনি উঠতে পারেননি। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, প্রতিদিন বাসা থেকে সকালে ৯টায় বের হয়ে সাড়ে নয়টা/পৌনে দশটার দিকে অফিসে পৌঁছি। আজকে দেখি হঠাৎ রোডে বাস, লেগুনা কিছুই নেই। এখন বাধ্য হয়ে উবার ডেকেছি।’ তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমাদের দোষ কী? রাস্তায় ফিটনেসবিহীন বাস নামানোর কারণে ম্যাজিস্ট্রেট মালিক শ্রমিককে কারাদণ্ড দিয়ে মহৎ কাজ করেছেন। রাস্তার লক্করঝক্কর গাড়িগুলো মালিকরা চালাতে দেন কেন? দোষ করবেন তারা, কিন্তু এতে কষ্ট পাবে পাবলিক।’ কামাল উদ্দিন নন; তার মতো আরো ৩০-৪০ জন অফিসগামী যাত্রী রয়েছেন পরিবহনের অপেক্ষায়। নগরীর বহদ্দারহাট মোড়ে কথা হয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আহমেদ জাকারিয়ার সাথে। তিনি বলেন, ‘আমরা যাত্রী। কোনো সময়েই চট্টগ্রাম মহানগরীর বাসগুলোতে ভালো সেবা পাওয়া যায় না। মেট্রো প্রভাতি কাউন্টার সার্ভিস করলেও তারা সকালে অফিসে যাওয়ার সময় দাঁড়িয়ে যাত্রী নেয়। চাহিদা থাকলেও দীর্ঘক্ষণ পর পর বাস ছাড়ে। এতে নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হওয়ার জন্য যাত্রীরা বাধ্য হয়েই দাঁড়িয়ে বাসে উঠেন। অথচ কাউন্টার সার্ভিস হওয়ার কারণে এমনিতে যাত্রীদের কাছ থেকে নিয়মের চাইতে বেশি ভাড়া নেয় মেট্রো প্রভাতি।
শুধু বহদ্দারহাট নয়, মুরাদপুর, ২নং গেইট, জিইসি মোড়, ওয়াসা মোড়, টাইপাস, দেওয়ান হাট মোড়, চৌমুহনী, আগ্রাবাদ পয়েন্টগুলোতে বিভিন্ন গন্তব্যের অসংখ্য মানুষের উপস্থিতি। নগরীর জিইসি মোড়ে সুদীপ্ত চাকমা নামের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিন বাসে করে সিএন্ডবি রাস্তার মাথা থেকে জিইসি মোড় অফিসে আসি। আজকে বাস না চলার কারণে বেশি ভাড়ায় সিএনজি করে আসতে হয়েছে।’
সকালের মতো বিকেলেও অফিস ফেরত লোকজনকে দুর্ভোগ মাড়িয়ে বাসায় ফিরতে হয়েছে। বিকেল সাড়ে চারটায় আগ্রাবাদ মোড়ে আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, ‘বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত সব মালিক-শ্রমিককে-তো কারাদণ্ড দেননি। ফিটনেসবিহীন বাসের মালিক-শ্রমিককে কারাদণ্ড দিয়ে ভালো কাজ করেছেন। এখনতো দেখি- চোরেরা চুরি করতে না পারলেও রাস্তায় ধর্মঘট ডেকে বসবে। একটি বাসে গ্লাস ভাঙা। ভাঙা গ্লাস নিয়ে বাসটি রাস্তায় নামে কেমনে? আসলে পুলিশ ঠিক থাকলে রাস্তায় বাসগুলোর দৌড়াত্ম কমে যেতো।’
একই কথা বললেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা জামাল হোসাইন। তিনি বলেন, ‘কোনো কিছু হলেই বাস মালিকরা গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেয়। বাসের মালিক-শ্রমিকরা অন্যায় করে। আবার গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিয়ে লোকজনকে জিম্মি করে দাবি আদায় করে। গণপরিবহনগুলো চাইলে-তো যখন তখন চালানো বন্ধ করে দিতে পারে না। এখন বিআরটিএর উচিত এসব বাসের রেজিস্ট্রেশন, রোড পারমিট বাতিল করে দেওয়া। তখন বাসগুলো নিয়ে মালিকরা যায় দেখা যাবে?’
প্রসঙ্গত, গত রোববার বহদ্দারহাট মোড়ে ফিটনেসবিহীন বাস চালানোর অপরাধে ১০নং রুটের একটি বাসের মালিক, চালক ও হেলপারকে কারাদণ্ড দেন বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত।

x