কলাতলীতে হারিয়ে যাচ্ছে মেরিন ড্রাইভের গৌরব

নিত্য যানজট, কয়েক মিনিটের পথ অতিক্রম করতে ঘণ্টা পার

আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার

শনিবার , ২৬ অক্টোবর, ২০১৯ at ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
240

হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কঙবাজার-টেকনাফ সমুদ্র তীরবর্তী মেরিন ড্রাইভ সড়কের গৌরব যেন হারিয়ে যাচ্ছে কলাতলীতে। শহরের সাথে মেরিন ড্রাইভের একমাত্র সংযোগকারী সড়কটি অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় এ সড়কে তীব্র যানজটের কবলে প্রতিনিয়ত নাকাল হচ্ছেন পর্যটকসহ হাজার হাজার স্থানীয় বাসিন্দা।
কলাতলীর উপর দিয়ে চলে যাওয়া মাত্র ১.৩ কি.মি. দীর্ঘ এই সংযোগ সড়কটির প্রায় অর্ধেক অংশই এত সংকীর্ণ যে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও এনজিও কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত দুটি জীপ গাড়ি পাশাপাশি চলতে পারে না। এ কারণে ট্রাফিক পুলিশ কিছুক্ষণ একপাশে, আর কিছুক্ষণ অন্যপাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখেন। এছাড়া সড়কে কোনো অবৈধ পার্কিং অথবা কোনো মিনিবাস ঢুকলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যায় ‘জ্যাম ক্লিয়ার’ করেত। আর কোনো বড় বাস অথবা ট্রাক ঢুকলে তো কথাই নেই!
কঙবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্রের তীর ধরে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভের উদ্বোধন হয় ২০১৭ সালের ৬ মে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সড়কটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তবে ১৯৯১-৯২ সালে সড়ক প্রকল্পটি গ্রহণের পর তখন থেকেই নির্মাণ কাজ শুরু হয় মেরিন ড্রাইভের। কিন্তু কলাতলী থেকে বেইলি হ্যাচারি মোড় পর্যন্ত সড়কটির প্রায় ১৩শ মিটার ১৯৯৯-২০০০ সালে সমুদ্রে বিলীন হয়ে গেলে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০০৫-০৬ সালে কলাতলী গ্রামের সংকীর্ণ সড়কটিকে সামান্য প্রশস্ত করে মেরিন ড্রাইভের সাথে সংযুক্ত করে দেয়া হয়। পরে এ সড়কটি কঙবাজার পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হলে তারা চলতি বছর ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাড়ে ৬ মাস যান চলাচল বন্ধ রেখে সংস্কার করে। তবে সংস্কারকালে আগের সড়কটি প্রশস্ত না করে উল্টো সড়কের এক পাশে ড্রেন নির্মাণ করে। ফলে সড়কটির কিছু অংশের প্রশস্ততা ১২ ফুটেরও নিচে নেমে যায়। এতে ২টি জীপ বা মাইক্রোবাস চলাচলও দুরূহ হয়ে উঠে।
পৌরসভার এ সড়কটি দিয়েই শহর থেকে মেরিন ড্রাইভে যাতায়াত করতে হয়। শহরের একাংশ, রামুর হিমছড়ি ও পেঁচারদ্বীপ এলাকার বাসিন্দাদের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম মেরিন ড্রাইভ। এছাড়া উখিয়া ও টেকনাফের একাংশের বাসিন্দারাসহ প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এ পথে চলাচল করে। শরণার্থী মিশনের সাথে জড়িত দেশি-বিদেশি কয়েক হাজার কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনী নিয়মিত মেরিন ড্রাইভ ব্যবহার করে।
এত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পরেও সড়কটি প্রশস্ত না করায় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মেরিন ড্রাইভের গৌরব কলাতলীতে এসেই চুরমার হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা নাসিম আনোয়ার। তিনি বলেন, বিকালে শহরের কলাতলী মোড় থেকে দরিয়ানগরে আড়াই কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে সোয়া ঘণ্টা লেগেছে। অথচ পথটি মাত্র কয়েক মিনিটের। এভাবে টানা ট্রাফিক জ্যামে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়লে কক্সবাজারের প্রতি পর্যটকদের বিরক্তির উদ্রেক ঘটবে।
কলাতলী সড়কে কোনো যানবাহন থামলে অথবা অবৈধভাবে পার্কিং করলে ট্রাফিক জ্যামের সূত্রপাত হয় বলে জানান ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কলাতলীর বাসিন্দা এসএম কিবরিয়া খান। তিনি জানান, মডার্ন হ্যাচারি থেকে স্যুইট সাদাফ হোটেল পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যামের ঘটনা ঘটে। এছাড়া মেম্বারঘাটা থেকে বড় মসজিদ মোড় ও নাসিম মেম্বার ঘাটা এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি ট্রাফিক জ্যামের ঘটনা ঘটে। এসব এলাকায় সড়কটি অপেক্ষাকৃত অনেক সংকীর্ণ।
বিগত কয়েক বছরে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি শহরের সাথে মেরিন ড্রাইভের একমাত্র সংযোগ সড়কটি সংস্কারকালে আরো সংকীর্ণ করে ফেলায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ ‘আমরা কক্সবাজারবাসী’ সংগঠনের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিন। তিনি জনস্বার্থে যেকোনো মূল্যে এ সড়কটি প্রশস্ত করার পাশাপাশি কলাতলীর বিধ্বস্ত মেরিন ড্রাইভটি শীঘ্রই পনর্নির্মাণ কাজ শুরুরও দাবি জানান।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, কলাতলী এলাকার বাসিন্দারা ড্রেনের জন্য জমি ছাড়েননি। আবার ড্রেন ছাড়া রাস্তা নির্মাণেও বাধা দিয়েছেন তারা। ফলে ড্রেনের কারণে রাস্তার প্রশস্ততা প্রায় ৫ ফুট কমে গেছে। তবে ড্রেনের উপর স্ল্যাব স্থাপন করা হলে পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হবে আশা করে তিনি বলেন, এখন স্ল্যাব নির্মাণ কাজ চলছে। আশা করি আগামী এক মাসের মধ্যে একাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

x