কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে

আজাদীকে ফজলে করিম এমপি

মীর আসলাম, রাউজান

বৃহস্পতিবার , ৩ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:৪১ পূর্বাহ্ণ
394

চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসন থেকে বিশাল ভোটের ব্যবধানে চতুর্থবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আজ শপথ নিচ্ছেন এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি। তিনি ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগে যোগ দিয়ে সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন। সেই সময় তিনি প্রথমবার নির্বাচন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটযুদ্ধে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কাছে হেরেছিলেন স্বল্প ভোটে। ওই নির্বাচনে তিনি হারলেও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সুবাদে এলাকায় উন্নয়ন কাজ করেছিলেন একশ’ ২১ কোটি টাকার। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে তিনি সেই সময় থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি নিজ দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে রাউজানকে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী দুর্গ হিসাবে গড়ে তুলতে সক্ষম হন। ২০০১ সালে দ্বিতীয়বার নির্বাচনে নেমে প্রথমবারের মত সাংসদ নির্বাচিত হন। তার মাধ্যমে ৭৫ পরবর্তী সময় থেকে আওয়ামীলীগের হাত ছাড়া হয়ে থাকা আসনটি পুনরুদ্ধার হয়। সেই থেকে তিনি পর পর সব নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাউজান থেকে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। ফজলে করিম চৌধুরীর বড় বিশেষত্ব হচ্ছে তিনি নিজ এলাকার মানুষের কল্যাণে সবকিছু করেছেন। তার ২৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে সপ্তাহে গড়ে দুই দিন রাউজানে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। চলাচলের পথে যেখানে সমস্যা দেখেছেন, সেই সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধান করেছেন। তিনি নিজের স্বপ্নের রঙে সাজিয়েছেন গ্রীণ,পিংক,ক্লিন নিজ উপজেলাকে রাউজান হিসাবে। বিগত সময়ে চারদিন পায়ে হেঁটে উপজেলার প্রতিটি গ্রামের মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য তিনশ’ টন ত্রাণ নিয়ে টেকনাফ যাওয়া, একঘন্টায় ৪ লাখ ৮৭ হাজার ফলদ,বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপন, জাতীয় শোক দিবসে
রাউজানে এক লাখ মানুষের জন্য মেজবান দেয়া, গত দু’বছর ধরে প্রতিদিন ১৮২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল ফিডিং চালু রাখার মত ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করে দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ফজলে করিম চৌধুরী। চতুর্থবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আগামীতে রাউজানবাসীর জন্য কি চমক নিয়ে আসছেন তাঁর কাছে এমন প্রশ্ন করা হয় দৈনিক আজাদীর পক্ষ থেকে। গত মঙ্গলবার তাঁর চট্টগ্রাম নগরীর বাসভবনে তিনি উক্ত প্রশ্নের জবাব দেন। এর আগে তিনি বলেন- বিগত ২৩ বছর ধরে রাউজানের মাটি ও মানুষের জন্য তার ত্যাগের কথা, রাউজানকে নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা। তিনি বলেন- আমি যে স্বপ্ন দেখি তা বাস্তবায়ন করি,আমার হাতে যাদুর কাঠি অথবা আলাদিনের চেরাগ থাকলে রাউজানকে সোনার মোড়কে ঢেকে দিয়ে অতৃপ্ত মনটির তৃপ্তি মেটাতাম। আমার স্বপ্ন ও ত্যাগ রাউজানের মাটি ও মানুষের জন্য। আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়টুকু রাউজানবাসীর জন্য উৎসর্গ করেছি। রাউজানকে মনের রঙে সাজিয়ে দেশের মধ্যে ক্লিন,গ্রীণ,পিংক উপজেলার মর্যাদায় আসীন করেছি। এবার আমার প্রথম পদক্ষেপ হবে- রাউজানকে বেকারমুক্ত করা। যেই রাউজান হবে দক্ষ জনশক্তি তৈরির উপজেলা। তিনি বলেন- দেশ বিদেশে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা প্রচুর। এ বিষয়টি মাথায় রেখে রাউজানে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে কারিগরি মহাবিদ্যালয়, চুয়েটকে ঘিরে করা হচ্ছে আইটি পার্ক, পাহাড়তলীতে আইটি ভিলেজ করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার দক্ষ জনশক্তি বের হবে। রাউজানে করা হচ্ছে বিসিক শিল্পাঞ্চল। এখানে কমপক্ষে ৫০ থেকে ৭০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আমাদের জনশক্তির চাহিদা মিটিয়ে এই রাউজানে হবে দেশ বিদেশের অনেক মানুষের কর্মসংস্থান। আমাদের সন্তানদের আর যেতে হবে না বিদেশে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে টাকা রোজগার করতে। নিজের বাড়ি থেকে ভাত খেয়ে নিজ কর্মস্থলে গিয়ে এর চাইতে বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারবে। তিনি বলেন- রাঙামাটি-রাউজান সড়ক চার লেন প্রকল্প, ইকোপার্ক প্রকল্প, ট্রমা সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প, বিদ্যুৎ সাবস্টেশন নির্মাণ প্রকল্প,দক্ষিণ রাউজান ফায়ার সার্ভিস স্টেশন প্রকল্প, নতুন থানা স্থাপন, খাদ্য গুদাম,শিশু কিশোর সংশোধনাগার প্রকল্প, হাফেজ বজলুর রহমান সড়ক,মাওলানা দোস্ত মোহাম্মদ সড়ক, গহিরা অদুদিয়া সড়ক উন্নয়নের মত হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু হবে। মোহরা জানালী হাট থেকে চুয়েট পর্যন্ত রেল লাইন করা হবে। এটি পর্যায়ক্রমে সমপ্রসারিত করা হবে কাপ্তাই পর্যন্ত। রাউজানের মানুষ যারা চাকরির জন্য শহরে বাসায় থাকতে হচ্ছে রেল লাইন হলে তারা বাড়ি থেকে সহজে আসা যাওয়া করতে পারবে। শহরের সকল সুযোগ সুবিধা আগেই রাউজানবাসীর জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন- এ নির্বাচনে রাউজানের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে কেন্দ্রে গিয়ে নৌকায় ভোট দিয়েছেন। আমার পক্ষে গণরায় দিয়ে আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে শক্তি যোগিয়েছেন। দরকার এখন রাউজানবাসীর শান্তি। ভোট দেয়ার সময় যেভাবে আমার নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ছিল, এখন থেকে সেই ঐক্য বজায় রাখতে হবে উন্নয়নের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে। তিনি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য গণমাধ্যম কর্মীদের ভুমিকার প্রশংসা করেন। নির্বাচনে যারা কষ্ট করে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন এবং নৌকাকে বিজয়ী করতে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন তিনি তাদেরকে ধন্যবাদ জানান।
রাউজানবাসীর প্রত্যাশা :
রাউজানের সচেতন মানুষ মনে করেন- নৌকার পক্ষে রাউজানের মানুষের এ গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে সাংসদ এবিএম ফজলে করিমের মেধা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। তিনি রাউজানে নতুন ধারার রাজনীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আওয়ামী লীগের জন্য বয়ে আনা এ সাফল্যের স্বীকৃতির জন্য তিনি এখন অপেক্ষায় আছেন। যারা জাতীয় ও মাঠের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা সমালোচনায় সরব থাকেন, তাদের মতে নতুন মন্ত্রী সভায় থাকছেন রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। তার মত কর্মতৎপর মানুষকে এবার বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা মন্ত্রী সভায় নিশ্চিত স্থান দেবেন। প্রধানমন্ত্রী চাইবেন, এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপির মত শিক্ষিত, মেধাবী, যোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্যকে আরো উচ্চতায় নিয়ে যেতে।

x