কর্মব্যস্ত জীবনে কেনাকাটায় সমাধান ‘সুপারশপ’

বৃহস্পতিবার , ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৪:০১ পূর্বাহ্ণ
167

সময় যতই গড়িয়ে যাচ্ছে, ততই মানুষের চাহিদার পরিবর্তন ঘটছে। কর্মব্যস্ততার সাথে বাড়ছে ক্রয় ক্ষমতা ও ভোগ বিলাসিতার মাত্রা। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে ঝামেলা কমিয়ে দিয়েছে সুপারশপ। বাজার করার সহজ সমাধান হয়ে উঠেছে একসময়ের অভিজাতশ্রেণির এসব দোকানগুলো।
সুঁইসুতা থেকে জামা-কাপড়, তরিতরকারি থেকে মাছ-মাংস, শুকনো খাবার, ফল-ফলাদি, গৃহস্থালি পণ্য, ইলেক্ট্রনিঙ পণ্য সবই মিলছে একই ছাদের নীচে। উচ্চবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের কাছেও সমানভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সুপারশপ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগরায়নের সংস্কৃতি ও মাথাপিছু আয় বেড়ে যাওয়ায় দেশে সুপারশপগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশে ২০০১ সালে সর্বপ্রথম এই ব্যবসার সূচনা করে আগোরা। এরপর থেকে স্বপ্ন, মীনাবাজার, ইউনিমার্ট, নন্দনসহ প্রায় ২০টির মতো প্রতিষ্ঠান সুপারশপ ব্যবসায়ে যুক্ত হয়। চট্টগ্রামে সর্বাগ্রে এ ব্যবসায় আসে খুলশী মার্ট। চট্টগ্রামের অভিজাতদের এলাকা হিসেবে খ্যাত খুলশীতে ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে জনপ্রিয় এ সুপারশপটির। এরপর ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামে যুক্ত হন আগোরা, মীনাবাজার ও স্বপ্ন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের উদ্যোক্তারা আগ্রহী হন এ ব্যবসায়ে যুক্ত হতে। ফলে নগরীতে নতুন করে ব্যবসায়ে যুক্ত হয় বাস্কেট ও গ্রোসার। বন্দরনগরীতে সর্বশেষ সংযোজন ঘটে সুপারশপ “শপিং ব্যাগ” এর। চট্টগ্রামে স্বপ্ন’র দুটি আউটলেট রয়েছে।
আইডিএলসির এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, তিন বছর আগেও সারাদেশে সুপারশপ এর বাজার ছিল দেড় হাজার কোটি টাকার মতো। দ্রুত নগরায়নের ফলে আগামী ২০২১ সালে এই শিল্পের বাজার আরও ১৫ গুণ বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের উপরে। দেশের মধ্যবিত্ত ও ধনী শ্রেণির সংখ্যাও প্রায় দুই কোটি ছাড়িয়েছে। ফলে সুপারশপ ব্যবসায় আরো উন্নতি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রামের প্রথম সুপারশপ খুলশী মার্ট’র ফ্লোর ম্যানেজার মো. তানজিল হোসেন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘খুলশী মার্ট চট্টগ্রামের প্রথম সুপারশপ। জনপ্রিয়তাও বেশি। এখন নতুন নতুন গ্রাহকরা যুক্ত হচ্ছে। সর্বশেষ ঈদেও খুলশী মার্টে হাজারের অধিক নতুন পরিবার যুক্ত হয়েছেন। মূলত গুণগত মানের কারণে সচেতন ভোক্তারা সুপারশপমুখী হচ্ছেন। লোকাল মার্কেটে কাঁচা বাজার করতে গেলে ফরমালিনের ঝুঁকি থাকে, ওজনে কম পাওয়া যায়। কিন্তু সুপারশপগুলো এক্ষেত্রে ভিন্ন। গুণগত মান ও দামের পাশাপাশি মনোরম পরিবেশে সব ধরণের পণ্য একই ছাদের নীচে পাওয়া যায় বলে দিন দিন সুপারশপমুখী হচ্ছেন ক্রেতারা।’
তিনি বলেন, ‘খুলশী মার্ট আগামী ফেব্রুয়ারিতে ১৪ বছরে পা দেবে। চট্টগ্রামে প্রথম সুপারশপ হওয়ার কারণে অসংখ্য গ্রাহকের সাথে আমাদের বন্ধন তৈরি হয়েছে। মানুষের আস্থা অর্জনের কারণেই ক্রেতারা এখনো খুলশী মার্টকে বেছে নিচ্ছেন। নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান বাজারে এসেছে। প্রতিযোগিতার মধ্যেও ব্যবসায়ে আমরা অন্য অনেকের চেয়ে এখনো ভাল অবস্থানে রয়েছি।’
এই শিল্প মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা অজর্ন করতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে সুপারশপ ‘বাস্কেট’ এর ফ্লোর ম্যানেজার আতিক উদ্দীন দস্তগীর দৈনিক আজাদীকে বলেন, চেনশপগুলো ২০০০ সালের পর থেকে সুপারশপগুলো বাজারে এসেছে। একই জায়গা সবকিছু কিনতে অভ্যস্ত লোকজনের কাছে সুপারশপগুলো জনপ্রিয়। মূল কথা হচ্ছে, পণ্যের গুণগত মান, সঠিক ওজন, ন্যায্য মূল্যের কারণেই সুপারশপগুলো ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। তাছাড়া পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসাথে স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটার সুযোগ থাকার কারণেই সুপারশপ দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।’
বাস্কেট এর উৎকর্ষতার বিষয়ে তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ২২ মে যাত্রা করেছে আন্তর্জাতিক মানের সুপারশপ ‘বাস্কেট’। আমাদের প্রত্যকটি রো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে তিনটি ট্রলি সহজে আসা-যাওয়া করতে পারে। স্বাচ্ছন্দ্যের কারণে গ্রাহক দিন দিন বাড়ছে বলে যোগ করেন এ কর্মকর্তা
তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের নামীদামী স্কুলগুলোর ছোট্ট শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আসেন। নগর সভ্যতার যান্ত্রিকতার কারণে বাচ্চারা প্রকৃতিকে সহজে অনুধাবন করতে পারে না। এখানে ছোট্ট শিক্ষার্থীরা ফল-ফলাদির পরিচয় জানতে পারে। ছোট্ট বাচ্ছাদের এ ধরণের সেবাগুলো দিতেও আমাদের আনন্দ লাগে।’
সুপারশপ ‘শপিং ব্যাগ’ এর জেনারেল ম্যানেজার মানজারুল ইসলাম রিগান দৈনিক আজাদীকে বলেন, একসময়ে মানুষের ধারণা ছিল সুপারশপে পণ্যের দাম বেশি হয়। যে কারণে চট্টগ্রামে তেমন সাড়া ছিল না। কিন্তু গত ৫-৭ বছরে খুচরা কেনাকাটার জন্য সুপারশপগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। একসময়ে সুপারশপ মানেই ছিল উচ্চবিত্তদের কেনাকাটার স্থান। সময় পাল্টেছে। এখন উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্তরাও সুপারশপে আসছে কেনাকাটা করতে।’
তিনি বলেন, এখন নগরজীবন খুববেশি কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘুরে ঘুরে বাজার করার এতো সময় এখন মানুষের হাতে নেই। বর্তমান সময়ে বাসার বাজারগুলো মহিলারাই বেশি করেন। একই ছাদের নীচে সবকিছু পাওয়ার কারণে দিনের পর দিন সুপারশপগুলো জনপ্রিয় হচ্ছে।
চট্টগ্রামে সুপারশপগুলোর মধ্যে ‘শপিং ব্যাগ’ই সবচেয়ে বড় দাবি করে তিনি বলেন, ‘গ্রাহক চাহিদার কারণেই এখন নতুন নতুন সুপারশপ বাজারে আসছে। আজকের দিন পর্যন্ত শপিং ব্যাগই চট্টগ্রামে সবচেয়ে বড় সুপারশপ। চারটি ফ্লোরে ৩৫ হাজার বর্গফুট জায়গা নিয়ে আমাদের সুপারশপের অবস্থান। একটি ফ্লোর রয়েছে শুধুমাত্র কাঁচাবাজারের জন্য। কেনাকাটায় গ্রাহকদের মনস্তাত্বিক স্বকীয়তা আনার জন্য কাঁচাবাজারকে আলাদা করা হয়েছে। ‘শপিং ব্যাগ’র কাঁচা পণ্যের ফরমালিনমুক্ত। এজন্য একজন কেমিস্ট রাখা হয়েছে। পরীক্ষায় কেমিস্টের ছাড়পত্র পাওয়ার পরই কাঁচা সবজি, ফলমূল ডিসপ্লেতে তোলা হয়। তাছাড়া অন্য ফ্লোরগুলোতে কাপড়চোপড় থেকে প্রসাধন সব ধরণের পণ্যই পাওয়া যায়।’

x