কর্ণফুলী নদীর অস্তিত্ব সংকটে

বৃহস্পতিবার , ৩১ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ
55

কর্ণফুলী নদী চট্টগ্রামের অস্তিত্বও প্রাণ। কর্ণফুলী নদী বাঁচলে, বাঁচবো আমরা, বেঁচে থাকবে চট্টগ্রাম। কর্ণফুলী নদী আজ বিপর্যস্ত। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সচল রাখতে হলে কর্ণফুলীকে সচল রাখতে হবে। কর্ণফুলী নদী রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কর্ণফুলী নদীতে বিশাল এলাকা জুড়ে জেগে ওঠেছে বড় বড় চর। দেখতে অনেকটা সৈকত কিংবা খেলার মাঠের মত ধু-ধু বালুচর। আশঙ্কাজনকভাবে মোহনার গভীরতাও হ্রাস পেয়েছে। জোয়ারের সময় এসব চর ডুবে থাকলেও ভাটার সময় স্পষ্ট দেখা যায়। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের আশঙ্কা। অন্যদিকে দেখা যায় কর্ণফুলী নদীর দু’পাড় দখল করে বেপরোয়া চলছে ভরাট কাজ। নদী ভরাট করে তোলা হচ্ছে নানা ধরনের অবকাঠামো। চ্যানেল থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে নির্মাণ করা হচ্ছে বাড়ি, গুদাম, অফিস জেটিসহ নানা স্থাপনা। অবৈধ এসব স্থাপনা গভীর স্বাভাবিকগতিকে বাধাগ্রস্ত করায় ক্রমেই পলি জমে কর্ণফুলীতে চর জেগে ওঠেছে। প্রতি বছর শুল্ক মৌসুমে কর্ণফুলীর ন্যায় বাংলাদেশের অন্যান্য নদীর নাব্যতা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাওয়া থেকে রক্ষা করতে হলে সহসাই ড্রেজিং করতে হবে। নদী দূষণ হচ্ছে বর্জ্য, গৃহস্থালির আবর্জনা ও পয়:বর্জ্য। কর্ণফুলী নদী পাড়ের ১৩৩টি কারখানা এই দূষণের জন্য দায়ী। দখলদারদের তালিকায় রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান। নদী দূষণের কারণে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কর্ণফুলী নদী দখলের কারণে চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। শব্দ দূষণ, পরিবেশ দূষণ, পানি দূষণ, বায়ু দূষণ, নদী দূষণ নানা সমস্যায় আক্রান্ত চট্টগ্রামসহ সারাদেশ। আইন প্রতিরোধের কোন কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বাংলাদেশ আজ দূষণে বিশ্বের সকল দেশের শীর্ষে অবস্থান করেছে। প্রতিনিয়ত এ দেশে বিভিন্ন উপায়ে মাত্রাতিরিক্ত পরিবেশ দূষণের ফলে এর ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে মঠমহলে উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশে বিভিন্ন দূষণ মারাত্মক সমস্যা হিসেবে দেখা দিলেও জনগণেরও কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যথা নেই। যে আইন আছে বলেই তাও মেনে চলা হয় না এবং আইনের প্রয়োগ হয় না। দূষণের শিকার হয়ে মূল্য দিতে হচ্ছে দেশের অর্ধেক মানুষকে। তাই আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে হলে অবশ্যই কর্ণফুলী নদীকে বাঁচাতে হবে।
-এম.এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x