কর্ণফুলী গ্যাসের সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রশংসাযোগ্য

শুক্রবার , ২৯ মার্চ, ২০১৯ at ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ
153

চট্টগ্রাম শুধু বাণিজ্যিক রাজধানী নয়, জাতীয় অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। অথচ চাহিদার অর্ধেক গ্যাসও পাচ্ছিল না সেই চট্টগ্রাম। গ্যাস সংকটের কারণে শুধুমাত্র শিল্প কলকারখানা নয়, বাসাবাড়ির লোকজনের জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। গ্যাস সংকট অতি জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় সমস্যাটি শুধুমাত্র গৃহিণীদের নয়, বস্তুত সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতিই পড়েছে সংকটের মুখে। জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম যে কোনো বিবেচনায় গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। তাই বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহকৃত গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্যাসের চাপ বাড়ানো, উৎপাদন, সংযোগ, সুষম বণ্টন ও বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার মাধ্যমে চট্টগ্রামে গ্যাসের সংকট দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছে দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নেতৃবৃন্দ। এরই মধ্যে গত ২৫ মার্চ দৈনিক আজাদীতে ‘সক্ষমতা দ্বিগুণ হচ্ছে কর্ণফুলী গ্যাসের, ৪০০ কোটি টাকায় চলছে আপগ্রেডেশন কাজ’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদটি চট্টগ্রামবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও স্বস্তির। সংবাদে বলা হয়েছে, প্রায় চারশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা দ্বিগুণ উন্নীত হচ্ছে। গ্যাসের প্রবাহ বাড়ানোর জন্য ৭টি ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন বা ডিআরএস-এর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। চট্টগ্রামের গ্যাসের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নেটওয়ার্ক আপগ্রেডেশন প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে গুছিয়ে আনা হয়েছে। সিভিল ওয়ার্ক শেষ করা হয়েছে। বিদেশ থেকে আনা যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজও শেষ পর্যায়ে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও আগামী জুনের মধ্যে নগরীর লো প্রেসারের সব লাইনে পর্যাপ্ত গ্যাস প্রবাহ শুরু হবে। রান্নাঘরের চুলা না জ্বলার অবস্থা থেকে চট্টগ্রামের আবাসিক গ্রাহকদের মুক্তি মিলবে। আবাসিকের পাশাপাশি শিল্প গ্রাহকরাও উপকৃত হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সন্নিহিত অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান কেজিডিসিএল আওতায় ছয় লাখেরও বেশি গ্রাহক রয়েছে। এরমধ্যে শুধু আবাসিক গ্রাহক রয়েছে ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৯৮৩জন। শিল্প গ্রাহক রয়েছে ১ হাজার ৫৫জন। চট্টগ্রামের আবাসিক ও শিল্পখাতে গড়ে ৪৫০মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। দৈনিক পাঁচশ’ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ দেয়ার জন্য মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত ৯২ কিলোমিটার ৩০ ইঞ্চি এবং আনোয়ারা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের ৩০ কিলোমিটার পাইপ লাইন নির্মাণ করা হয়। কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে এ লাইন আনোয়ারা হয়ে ফৌজদারহাট সিজিএসকে সংযুক্ত করেছে। ইতোমধ্যে এলএনজি প্রবাহ শুরু হয়েছে।
আনন্দের কথা এই যে, ‘গ্যাস প্রবাহ বাড়ানোর জন্য নাসিরাবাদ, কালুরঘাট, ইপিজেড, পতেঙ্গা, আন্দরকিল্লা, বাকলিয়া ও টাইগারপাসস্থ সাতটি ডিআরএস এর বর্তমান সক্ষমতা ১৫-২৫ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করা হচ্ছে।’
এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, জ্বালানি গ্যাস সংকটে দীর্ঘ দিন ধরে নাকাল চট্টগ্রাম নগরবাসী। গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেয় নগরে। গ্যাস-সংকট শিল্পোৎপাদন যেমন ব্যাহত করছে তেমন জনজীবনে সৃষ্টি করছে অস্বস্তি। বছরের বিভিন্ন সময়ে এলাকার কোথাও কোথাও কমবেশি গ্যাস সংকট থাকলেও মাঝে মাঝে এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। নগরবাসীর এই দুর্ভোগ – বলা যায় স্থায়ীভাবে রূপ নিয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় অনেক সময় ধরে গ্যাস সরবরাহ থাকে না। ফলে বাসাবাড়িতে রান্নাই বন্ধ হওয়ার উপক্রম। হোটেল থেকে খাবার কিনে বাসায় নিতে হয় অনেক পরিবারকে। তাই আমরা মনে করি, গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। গৃহস্থালি বা আবাসিক কাজে প্রাকৃতিক গ্যাস নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় করণীয়। গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে আবাসিক কাজে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন স্বাভাবিক কারণেই। আবাসিক গ্যাস ব্যবহারকারীরা স্বল্প গ্যাস ব্যবহার করে থাকেন এবং অতি প্রয়োজনীয়, বিশেষ করে খাবার প্রস্তুতের কাজে এ গ্যাস ব্যবহার হয়ে থাকে। সুতরাং এ সরবরাহ কোনোক্রমেই ব্যাহত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ অবস্থায় কর্ণফুলীর সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত খুবই সময়োপযোগী ও তাৎপর্যবহ।

x