কর্ণফুলীর উচ্ছেদ বন্ধ হয়নি, শ্লথ হয়েছে

বন্দর ভবনে মতবিনিময় সভায় নৌ প্রতিমন্ত্রী একাধিক সিবিএ নেতার উপস্থিতিতে ক্ষোভ

আজাদী প্রতিবেদন

মঙ্গলবার , ২১ মে, ২০১৯ at ৩:২০ পূর্বাহ্ণ
274

কর্ণফুলীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ বন্ধ হয়নি, কিছুটা শ্লথ হয়েছে। এই অভিযান আবারো শুরু হবে। গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, কর্ণফুলীসহ দেশের পাঁচ নদীর দখল ও দূষণ বন্ধের জন্য খসড়া মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। খসড়া মহাপরিকল্পনাটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল সূতিকাগার চট্টগ্রাম বন্দরের গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বন্দর সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বন্দর কর্তৃপক্ষ যদি সেই কাজ এগিয়ে নিতে পারে, তাহলেই আমাদের প্রশান্তি। তিনি বলেন, বন্দরে চেইন অব কমান্ড থাকতে হবে। মতবিনিময় সভায় সিবিএ নেতাদের ব্যাপক হারে উপস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি অনুষ্ঠানে সিবিএ নেতাদের সবাইকে থাকতে হবে কেন? সভাপতি সম্পাদক থাকবেন। তারা সবার পক্ষে কথা বলবেন। আবার বৈঠকের বিষয়গুলোও তারা সবাইকে জানাবেন। তিনি বলেন , এরই মধ্যে আমার কাছে অনেক দাবি-দাওয়া দেওয়া হয়েছে। আমি সেগুলো বিবেচনা করছি।’
মন্ত্রী বলেন, বন্দরের কর্মীরা আমাদের সম্পদ। চট্টগ্রাম বন্দরের কায়িক পরিশ্রমটা আপনারাই করেন। আপনারাই হচ্ছেন বন্দরের প্রাণ। মূল কায়িক শ্রমটা আপনারা দেন। কর্মকর্তারা আদেশ দেন, কাগজে কলমে কাজ করেন। সুতরাং আপনাদের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। এ লক্ষ্যে সবাইকে কাজ করতে হবে। এসডিজির লক্ষ্য ২০৩০ সালের আগেই আমরা পূর্ণ করবো। দেশের প্রতি দায়িত্ব আছে, এটা মনে রাখলে আমরা লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবো।
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, কর্ণফুলী, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গাসহ পাঁচটি নদীর দখল ও দূষণরোখে খসড়া মাস্টারপ্ল্যান তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলেই এটি প্রকাশ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে ছিলেন। এজন্য খসড়া মাস্টারপ্ল্যান তৈরি থাকলেও উপস্থাপন করতে পারিনি। আশা করছি, দুয়েক দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দেবেন।
কর্ণফুলী নদী থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাস্টারপ্ল্যান করার জন্য অভিযান কিছুটা শ্লথ দেখা গেছে। এটা বন্ধ হয়নি। উচ্ছেদ অভিযান চলবে।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বে-টার্মিনালের কার্যক্রম থেমে নেই, যদিও দৃশ্যমান হয়নি এখনো। ১৩২ বছরের পথচলা বন্দরের। আমরা বিশ্বের ১০০ বন্দরের তালিকায় এসেছি। আমাদের লক্ষ্য শীর্ষ অবস্থানে যাওয়া। এটি প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য। চট্টগ্রাম বন্দর ভালোভাবে চলছে। ভাবনার কিছু নেই। পর্যায়ক্রমে সব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হবে।
মতবিনিময় সভা শেষে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি, কন্টেনার ইয়ার্ড, নির্মানাধীন প্রকল্প পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) ও বে-টার্মিনাল ঘুরে দেখেন। এ সময় হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজসহ বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

x