করোনা মোকাবিলায় আফ্রিদি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার , ২৩ মার্চ, ২০২০ at ১২:০৫ অপরাহ্ণ
150

ক্রিকেট ছেড়েছেন তিনি বেশ কয়েকবছর আগেই। তবে নিয়মিতই খবরের শিরোনামে থাকেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক এবং বুমবুম খ্যাত শহিদ আফ্রিদি। পাকিস্তানের বেশিরভাগ সাবেক ক্রিকেটার যেখানে নেতিবাচক খবরেই শিরোনাম হন সেখানে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত শহীদ আফ্রিদি। যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে সবার আগে আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেন এ লেগস্পিনিং অলরাউন্ডার। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনেক আগেই চালু করেছেন শহিদ আফ্রিদি ফাউন্ডেশন। যেখান থেকে নিয়মিতই মানবতার সেবা করা হয়। বর্তমানে সারাবিশ্ব জর্জরিত প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের আক্রমণে। ব্যতিক্রম নয় আফ্রিদির দেশ পাকিস্তানও। সে দেশে এখনও পর্যন্ত ৬৪৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। এর মধ্যে মারা গিয়েছেন ৩ জন। আশংকাজনক অবস্থায় রয়েছেন আরও ৭ জন।
সারাদেশেই এখন বিরাজ করছে আতংক। জনজীবনে নেমে এসেছে বিপর্যয়। এমতাবস্থায় দেশের অসহায়-দুস্থ নাগরিকদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে আফ্রিদির ফাউন্ডেশন। সাধারণ মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি ছাড়াও উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতীব জরুরি জিনিসপত্রও সরবরাহ করছে আফ্রিদি ফাউন্ডেশন। এ বিষয়ে খোদ শহীদ আফ্রিদি জানিয়েছেন নিজের ফাউন্ডেশনে এরই মধ্যে আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে সবিস্তারে এক বার্তা দিয়েছেন আফ্রিদি। তিনি তার বার্তায় বলেণ মহামারী কোভিড-১৯ এর এই সময়ে আমাদের সকলের দায়িত্ব একে অপরকে সাহায্য করা এবং অনগ্রসর মানুষদের কথা মাথায় রাখা। সচেতনতা সৃষ্টি, সতর্কতামূলক তথ্য দেয়ার মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর বিপক্ষে লড়ার জন্য আমি আমার কাজটা করে যাচ্ছি। শহিদ আফ্রিদি ফাউন্ডেশন এখন মন দিয়েছে তার স্বাস্থ্য বিষয়ক মিশনে। এরই মধ্যে অনেক জায়গায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানান নির্দেশনা দেয়া হছে। করোনাভাইরাসের উপসর্গ বা সন্দেহভাজনদের রাখার জন্য একটি আইসোলেশন ওয়ার্ডও খোলা হয়েছে। আমাদের ফাউন্ডেশন ‘নটআউট থাকার আশা’ মিশনটি চালিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে আমরা জীবিকা হারানো প্রত্যেককে প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যাদি দিয়েছি। যাতে করে এ সময়টায় তারা টিকে থাকতে পারে। আমি সবাইকে অনুরোধ করবো নিজেদের যত্ন নিতে এবং বাড়িতেই নিরাপদ থাকতে।
করোনাভাইরাসের আতংকে কাঁপছে সারাবিশ্ব। চীনের উহান থেকে বিশ্বের প্রায় ১৯০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসটি। আক্রান্তের সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়ে গেছে অনেক আগেই। মৃতের সংখ্যা ১৩ হাজারেরও বেশি। করোনার আতংকে এই মুহূর্তে ইউরোপের দেশগুলোর নাগরিকরা অনেকটাই গৃহবন্দী। এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশগুলোতেই ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসটি। করোনাভাইরাস মানব সংস্পর্শে ছড়ায় বলে চিকিৎসকরা সর্বসাধারণকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি স্বাভাবিক জীবনযাপনে বড় প্রভাব ফেলছে। এরই মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রির বাজারে অসামাঞ্জস্যতা দেখা দিয়েছে। যারা স্বল্প উপার্জনের মানুষ বা প্রতিদিনের উপার্জন নির্ভর তারা বড় বিপদে পড়ে গেছেন। এমন অবস্থায় এগিয়ে এলেন শহীদ আফ্রিদি।