করোনাভাইরাস নিয়ে আতংক নয়, সতর্কতা চাই

মঙ্গলবার , ১০ মার্চ, ২০২০ at ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ
87

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস নিয়ে আতংকিত না হয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরকারের এই পরিস্থিতি মোকাবেলার সামর্থ্য রয়েছে। তিনি বলেন, দয়া করে করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য সতর্কতামূলক পদক্ষেপের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। একই সাথে করোনাভাইরাস সম্পর্কে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ হিসাবে উপস্থিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এই বিষয়টি চব্বিশ ঘণ্টা পর্যবক্ষেণ করছি এবং এক্ষেত্রে যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে বর্তমানে অনেক দেশই অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে। করোনাভাইরাস ঠেকাতে হাসপাতালের চিকিৎসকরা, জীবাণু প্রতিরোধী বিশেষ পোশাক, মুখোশ, চশমা আর দস্তানা পরে কাজ করেন।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং এতে কয়েকশ মানুষের প্রাণহানির খবরের পর ছোঁয়াচে এই রোগটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যা সত্যিই উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট বা আইইডিসিআর-এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা মনে করছেন মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এবং সেটাকে তিনি অধিক মাত্রায় প্রচার প্রচারণা সচেতন করার চেষ্টার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের প্রচার-প্রচারণা মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি, মানুষের মনের মধ্যে একটুখানি আতঙ্কও সৃষ্টি করে ফেলেছে।’ আবার মানুষ সঠিকভাবে সচেতন হচ্ছে কি না কিংবা আতঙ্কিত হয়ে ভুল পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে।
আশার কথা সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় জোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে চট্টগ্রামেও। দৈনিক আজাদীতে গতকাল প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, বিআইটিআইডিসহ নগরের কয়েকটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইসোলেশন বেড (পৃথকীকরণ শয্যা) প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়েছে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য প্রশাসন। নগরীর তিনটি সরকারি হাসপাতালে ১৪টি আইসোলেশন বেড আগেই প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়েছিল সিভিল সার্জন কার্যালয়। এর মধ্যে চমেক হাসপাতাল ও বিআইটিআইডিতে ৫টি করে এবং জেনারেল হাসপাতালে ৪টি। তবে এখন আরো কয়েকটি হাসপাতাল যুক্ত করে নগরীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে সব মিলিয়ে সাড়ে তিনশ আইসোলেশন বেড প্রস্তুতের নির্দেশনা সম্বলিত প্রস্তাবনা দিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও চসিক জেনারেল হাসপাতালে একশ করে দুইশটি এবং ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি, সিআরবির রেলওয়ে হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালে ৫০টি করে দেড়শসহ মোট সাড়ে তিনশ আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখার প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। এদিকে, নগরীর বাইরে প্রতি জেলায় একশটি করে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলায় আরো ১১০০ আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখার নির্দেশনাও দিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর। তবে এখন সব হাসপাতালে কিছু সংখ্যক বেড প্রস্তুতের প্রস্তাবনা দেয়া হলেও পরবর্তীতে নগরীর এক বা একাধিক হাসপাতাল করোনা রোগীদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন। যেখানে শুধুই করোনা রোগীদের রাখা হবে। আর এক্ষেত্রে বিআইটিআইডি হাসপাতালই বেছে নেয়া হতে পারে বলে জানান তিনি। এর বাইরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ৮টি কেবিনে ১৬টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমেদ। এখন রোগী এলেই ভর্তির জন্য হাসপাতাল প্রস্তুত বলে জানান তিনি। অবশ্য সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও এই আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখার বিষয়ে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তবে করোনাভাইরাসের কোনো মোক্ষম চিকিৎসা নেই। এর প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে লাগবে কমপক্ষে চার মাস, অ্যান্টিবডি তৈরি করতে লাগবে দেড় বছর, প্রচলিত কোনো টিকা বা ওষুধ (যেমন ইনফ্লুয়েঞ্জা বা এইচআইভির ক্ষেত্রে) আন্দাজে ব্যবহারে কুফল থাকতে পারে আরও বেশি। এ জন্য প্রয়োজন সতর্কতা।
করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সার্বিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে দ্রুত জনসাধারণকে জানাতে হবে। ভাইরাস সম্পর্কে মসজিদ, মন্দির, স্কুল, কলেজ, এনজিও এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অতি জরুরি তথ্যের প্রচার দরকার। সরকার এবং বেসরকারি খাতের, এমনকি সাধারণ মানুষের আরও কী কী করার আছে, তা-ও জানাতে হবে। প্রয়োজনে সাহায্য নিতে হবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ দেশি-বিদেশিদের।