করোনাভাইরাস ঠেকাতে হুবেই প্রদেশ বিচ্ছিন্ন

আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়াতে

আজাদী অনলাইন

শুক্রবার , ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ at ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
147

চীনে নিউমোনিয়া সদৃশ নতুন করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে হুবেই প্রদেশের প্রায় ২ কোটি মানুষকে অন্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। উহানের সঙ্গে বিমান ও রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যাতায়াত বন্ধ রয়েছে বেশিরভাগ সড়কেও।

এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ এ পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছে চীন।

প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যাও ইতোমধ্যে আটশয়ের বেশি ছাড়িয়ে গেছে।

যারা মারা গেছে এবং আক্রান্তদের বেশিরভাগই উহান শহরের; হুবেই প্রদেশের এ রাজধানী থেকেই গত বছর নতুন এ করোনাভাইরাস উদ্ভূত হয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে।

চীনের বাইরে আরও ৭টি দেশে ভাইরাসটির অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও সেখানে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিডিনিউজ

বৃহস্পতিবার চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ২৫ জনের মৃত্যু এবং আরও ৮৩০ জনের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৭৭ জনের অবস্থা গুরুতর বলেও জানিয়েছে তারা।

সন্দেহভাজন আরও এক হাজার ৭২ জনের পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে।

চীনা নববর্ষের ছুটির মধ্যে দেশটির কোটি কোটি মানুষ একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যাতায়াত করলে সংক্রমণ হু হু করে বাড়তে পারে বলেও কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে।

শনিবার শুরু হচ্ছে চীনে লুনার নিউ ইয়ারের সপ্তাহব্যাপী ছুটি।

পরিস্থিতি সামলাতে উহান ও হুয়াংগাং শহরে গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বেইজিংয়ে সব বড় উৎসব ও মন্দিরের মধ্যে মেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, চলচ্চিত্র মুক্তি স্থগিত এবং পর্যটনপ্রিয় নিষিদ্ধ নগরী বন্ধ রয়েছে।

উহানের সর্বত্র ফেইসমাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে শহরটি একটি ভূতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা বিবিসিকে।

পরিস্থিতি নিয়ে জেনেভায় বৈঠকও করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

চীনে মারাত্মক আকার ধারণ করলেও অন্যান্য দেশে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৩ জনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়ায় পরিস্থিতিকে এখনই ‘বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

ডব্লিউএইচও-র প্রধান টেড্রস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস বলেছেন, ‘ভুল করবেন না। চীনে জরুরি অবস্থা সৃষ্টি করলেও এটি এখনই বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেনি তবে হয়ে উঠতে পারে।’

চীনের বাইরে থাইল্যান্ডেই সবচেয়ে বেশি চার জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান এবং দক্ষিণ কোরিয়াতেও।