‘কবিতার চরিত্র হতে চাই না’

মঙ্গলবার , ১০ মার্চ, ২০২০ at ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
106

সাদী কাউকাব। জন্ম চট্টগ্রামের মন্দাকিনী গ্রামে।
১৯৯০ সালে। আগ্রহের বিষয় কবিতা, মিউজিক ও
কথাসাহিত্য। এ বছরের অমর একুশে বইমেলায়
চন্দ্রবিন্দু প্রকাশনী থেকে এসেছে তার প্রথম
কবিতার বই ‘রন্ধ্রে রন্ধ্রে করি সঞ্চালন’।
তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নাজমুস সাকিব রহমান

বইমেলা উপলক্ষে আপনার বই এলো। বইমেলা শুরু হয়েছিল, শেষও হয়ে গেল। এটা নিয়ে একটা জোকস বলেন।

বইমেলা নিয়ে জোক করতে চাই না। আমি মেলায় স্বস্তি পাই না, তাও না। ব্যাপারটা সামগ্রিকতার। আমাদের এই হেভিটটা আছে, যেখানে সম্পৃক্ততা বা নির্ভরতা বেশি-তা নিয়ে স্থ্থূল রসিকতা করা। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, দশ বছরের জন্য বইমেলা বন্ধ থাকলে অনেক সম্ভাবনাময় লেখক হারিয়ে যাবেন।

আপনি নিজে যখন পড়েন, কী ধরনের কবিতা পড়তে পছন্দ করেন?

আমি এমন কবিতা পড়তে পছন্দ করি, যেখানে পাঠক হিসেবে অসহায়বোধ করবো। মানে যে কবিতা লেখার অক্ষমতা থাকবে আমার। পাঠক হিসেবে আমি কবিতার চরিত্র হতে চাই না। কাছ থেকে কবিতার চরিত্র বুঝতে চাই।

কীভাবে একটা কবিতা হয়?

একটা ভালো কবিতা যেখানে হয়, সেখানে আমি লিখতে বসি না। ইনফ্যাক্ট আমি কখনো লিখতে বসি না। আমার লক্ষ্য কবিতা। কবিতা সময়সাপেক্ষ হতে পারে, নাও পারে। আমার কবিতার বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠা থেকে দ্বিতীয় পৃষ্ঠার দূরত্ব সাত বছর।

আপনার বইটা উৎসর্গ করছেন শায়ান চৌধুরী অর্ণবকে। অর্ণবের অনেক গানের লিরিক রাজীব আশরাফের লেখা। উনার একটা বই এসেছে। বইটার নাম ধরেছি রহস্যবৃত মহাকাল।

অর্ণবকে বই উৎসর্গ করার কারণ মিউজিকের প্রতি আমার প্রেম। এই লোকটাকে তেরো বছরেরও অধিক সময় ধরে শুনি। হতে পারে মিউজিক আমাকে কবিতা লিখতে প্ররোচিত করে থাকবে। তবে তার গানের সাথে আমার কবিতার ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। আর রাজীব ভাই মনে হয় না নিজের জন্য গান লিখেছেন। তার লেখা গান অর্ণবকৃত প্যাটার্নেই বসানো। তবে কবি রাজীব আশরাফ বরাবরই আলাদা।

কবিতার পাঠকরা দেখতে কেমন?

আমার একটা কবিতা আছে বইতে, হাওয়াইমিঠাই। আমার কবিতা থেকেই বলবো, যারা কবিতার পাঠক তারা হাওয়াই মিঠাই ক্রেতাদের মত উদ্বায়ী। আপনি মিঠাইওয়ালাকে মনে করতে পারবেন। মিঠাইক্রেতাকে মনে করতে পারবেন না।

ভবিষ্যতের কবিতা কেমন হতে পারে?

এটা ভবিষ্যতের কবিতার উপর থাকুক। বর্তমানে অন্তর্জালে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের সক্রিয়তা বেড়ে গেছে। মানুষ সবসময়ই প্রতিযোগী। কবিতাও তার আওতাভুক্ত। প্রতিযোগিতা থেকে পৃথক স্বর বের করা কঠিন। তবে এটা বাদে কোনো কাজ দাঁড়াতে পারে না। ভবিষ্যতের কবিতাও সেদিকেই যাবে।

আপনার বইয়ের সমালোচনা করুন

আমার বইয়ের সমালোচনা করতে চাই না। আমার বোঝাপড়াই মূলত আমার কবিতা। বোঝাপড়া নিজের সাথে বাদানুবাদ পেরিয়ে সম্ভব হয় না।

এখন একটা বই এলে ইন্টারভিউ, নিউজ, ফেসবুক প্রমোশন এসব হয়ে যেতে হয়। আগে এটা ছিল না। এই যে নিজের ১২টা বাজানো, এটা কতটুকু এন্টারটেইনিং?

নিজের ১২টা বাজানো সবসময় এন্টারটেইনিং। আমি ছোটবেলায় নানুর বাড়িতে গেলে বারোটা বাজার জন্য অপেক্ষা করতাম। সেখানে পেন্ডুলামযুক্ত দেয়ালঘড়ি বারোটা বাজলেই সবচেয়ে বেশি সময় নিয়ে বেল বাজাতো। বাজনার সময় যত দীর্ঘ হয়, আনন্দও তত দীর্ঘ হয়।

একটা ঘোরের গল্প শুনবো

একটা ঘোরের গল্প হলো একটা ডিজাস্টার। ব্যক্তি বা ঘটনা, যা মূলত একটা অস্বস্তি। তাকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। দিনে গুরুত্ব পেলে রাতে গুরুত্ব হারায়। রাতে গুরুত্ব পেলে দিনে গুরুত্ব হারায়।