কথাসাহিত্যিক মুনসি প্রেমচাঁদ : সমাজ জাগরণের অন্যতম অগ্রদূত

বুধবার , ৩১ জুলাই, ২০১৯ at ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
16

হিন্দি সাহিত্যে স্বনামখ্যাত ও শীর্ষস্থানীয় কথা সাহিত্যিক মুনসি প্রেমচাঁদ। উপন্যাস, গল্প, নাটক, নিবন্ধ, শিশু সাহিত্য, জীবনী, সম্পাদনা – এমনি বহুমুখী ক্ষেত্রে তাঁর সৃষ্টি সার্থকভাবে রূপায়িত হয়েছে। সমাজ সংস্কারক হিসেবেও তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণ্য। আজ মুনসি প্রেমচাঁদের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী।
বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন এই ব্যক্তিত্বের জন্ম ১৮৮০ সালের ৩১ জুলাই বারাণসীর একটি গ্রামে। শৈশবেই একজন মৌলবির কাছে উর্দু ও ফারসি ভাষা শেখেন তিনি। বই পড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহের বশে স্কুল জীবনেই বহু উর্দু রচনা এবং পুরাণের উর্দু অনুবাদ অধ্যয়ন করেন। তাঁর সাহিত্য জীবনের সূচনা বারাণসীর একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় ‘অলিভার ক্রমওয়েল’ নামের একটি রচনা প্রকাশের মাধ্যমে। এই পত্রিকাতেই তাঁর প্রথম উপন্যাস ধারাবাহিকভাবে ছাপা হয়। প্রায় চৌত্রিশ বছরের লেখক জীবনে মুনসি প্রেমচাঁদ চৌদ্দটি উপন্যাস, প্রায় তিনশ ছোট গল্প, তিনটি নাটক, দশটি অনুবাদ এবং বেশ কিছু শিশুতোষ গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর লেখক জীবনের সূচনা উর্দুতে। পরবর্তীসময়ে হিন্দিতে সাহিত্য রচনা করলেও উর্দু লেখার চর্চাও চালিয়ে যান। কর্মজীবনে সরকারি চাকরি, অধ্যাপনা, ছাপাখানার ব্যবসা করেছেন, সম্পাদনা করেছেন পত্রিকা। তাঁর সম্পাদকীয় ও নিবন্ধগুলোতে নিজস্ব নীতি নিষ্ঠা, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, আদর্শবাদ, সামাজিক কুসংস্কার অন্ধবিশ্বাস ও প্রথার বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি চাকরির সুবাদে তাঁকে শহর ও গ্রামের নানা অঞ্চলে ঘুরতে হয়েছে, সুযোগ হয়েছে নানা প্রকৃতির মানুষের সান্নিধ্যে আসবার। আর এই জীবন অভিজ্ঞতা চিত্রিত হয়েছে তাঁর বিভিন্ন লেখায়। গান্ধীজীর অসহযোগ আন্দোলনে সাড়া দিয়ে তিনি সরকারি চাকরিতে ইস্তফা দিয়েছিলেন।
প্রেমচাঁদের উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহের মধ্যে রয়েছে: ‘প্রেমা’, ‘বরদান’, ‘সেবাসদন’, ‘রঙ্গভূমি’, ‘কায়াকল্প’, ‘গুপ্তধন’ প্রভৃতি। উর্দুতে রবীন্দ্রনাথের কিছু গল্পও অনুবাদ করেন তিনি। প্রেমচাঁদ ছিলেন গণজাগরণের লেখক। জনকল্যাণ ও গণজাগরণের লক্ষ্যাভিসারী ছিলেন তিনি। তিনি বিশ্বাস করতেন সংখ্যাগরিষ্ঠ দরিদ্র জনগণের উত্থানের সঙ্গেই সম্পৃক্ত দেশের সত্যিকারের স্বাধীনতা। ১৯৩৬ সালের ৮ অক্টোবর মুনসি প্রেমচাঁদ প্রয়াত হন।

x