কথাশিল্পী সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

নেছার আহমদ

শুক্রবার , ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৮:৪১ পূর্বাহ্ণ
100

প্রগতিশীল, মানবতাবাদী, লক্ষ্যাভিমুখী এবং তীক্ষ্ণ শানিত সমাজ চেতনার অধিকারী লেখক হিসেবে যিনি বাংলা ভাষাভাষি সকলের নিকট পরিচিত ছিলেন তিনি হলেন, সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ ও একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্নের আকাংখার উদগ্রীব এক মহান লেখকের নাম বলতে যা বুঝায় ঠিক তাই ছিলেন “লাল সালু” খ্যাত কালজয়ী উপন্যাসের লেখক সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ।
সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ ১৯২২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম শহরের শুলকবহর মৌজায় জন্মগ্রহণ করেন। কারো কারো মতে তিনি ১৫ আগষ্ট ১৯২২ সালে চট্টগ্রামের ষোলশহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ। তিনি সে সময়কার ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট ছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তিনি জেলা প্রসাশকের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মা ছিলেন চট্টগ্রামের বিখ্যাত সাব জজ আব্দুল খালেক সাহেবের কন্যা এ নেশা খাতুন ওরফে নাসিমা। খানবাহাদুর সিরাজুল ইসলাম ও ব্যাংকার নুরুল ইসলাম ছিলেন ওয়ালী উল্লাহর মামা। তিনি ছিলেন চার ভাই তিন বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। ছোট বেলাই ওয়ালী উল্লাহ তাঁর মাকে হারান। পিতা সরকারি চাকুরে হওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর শৈশব কাল অতিবাহিত হয়। তিনি ১৯৩৯ সালে কুড়িগ্রাম স্কুল হতে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। অতঃপর ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজে ভর্তি হন। ঢাকা কলেজের হোষ্টেলে ওয়ালী উল্লাহর রুমমেট ছিলেন সাম্যবাদী দলের প্রধান নেতা মোহাম্মদ তোয়াহা। ১৯৪৫ সালে ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজ হতে ডিসটিংশন পেয়ে বি.এ পাস করেন, অতঃপর তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম. এ. ক্লাশে ভর্তি হন। কিন্তু সাহিত্য চর্চায় একান্তভাবে মনোনিবেশ করার ফলে তাঁর এম. এ. পড়া এখানেই ইতি ঘটে। কারো কারো মতে তিনি ১৯৪৩ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডিসটিংশন সহ বি.এ পাস করেন এবং পরবর্তীতে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে এম. এ. তে ভর্তি হন। এম. এ পড়ার সময়ই ১৯৪৫ সালে তাঁর পিতৃ বিয়োগ ঘটে। ফলে তাঁকে জীবন জিবীকার প্রয়োজনে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে হয়।
স্কুলজীবন হতে ওয়ালী উল্লাহ নিয়মিত সাহিত্য চর্চা করতেন। “ভোরের আলো” নামক একটি হাতে লেখা সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনার মধ্য দিয়ে তাঁর লেখার জগতে প্রবেশ। ঢাকা কলেজে পড়ার সময় কলেজ ম্যাগাজিনে তাঁর রচিত “হঠাৎ আলোর ঝলকানি” নামক একটি ছোট গল্প প্রকাশিত হলে তিনি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি কলিকাতা কমরেড পাবলিশার্স নামে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। সেখান হতে “কন্টেস্পরারী” নামক একটি ইংরেজী সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করেন। কিন্তু এটি বেশী দিন টিকিয়ে রাখা তাঁর দ্বারা সম্ভব হয়নি। ফলে ওয়ালী উল্লাহ ১৯৪৫ সালে কলিকাতার বিখ্যাত ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা ঝঃধঃবসবহ (ষ্ট্যাটম্যান) এ সাবএডিটর পদে যোগ দেন। সে সময় কলিকাতার প্রায় বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা যেমন- চতুরঙ্গ, পূর্বাশা, পরিচয়, মাসিক মোহাম্মদী, বুলবুল, সওগাত, অবনি, দৈনিক স্বাধীনতা প্রভৃতি নামকরা পত্রিকায় তাঁর লেখা গল্প নিয়মিত প্রকাশিত হয় এবং বাংলার স্বার্থক ও প্রতিভাধর গল্প লেখক হিসেবে সুনাম অর্জন করেন।
সে সময়কালে অর্থাৎ ১৯৪৪ সালে সঞ্জয় ভট্টাচার্য্যের প্রকাশনা সংস্থা পূর্বাশা লিঃ হতে তাঁর প্রথম গল্প গ্রন্থ “নয়ন তারা” প্রকাশিত হয়।
১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ ষ্ট্যাটম্যান পত্রিকার চাকুরি ছেড়ে দিয়ে পাকিস্তান চলে আসেন। রেডিও পাকিস্তানে যোগদান করেন। রেডিও পাকিস্তানে যোগদান করে ঢাকার দায়িত্ব পান। ১৯৫০ সালে ঢাকা হতে রেডিও পাকিস্তান করাচি কেন্দ্রে বদলী হন এবং বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৮ সালে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস “লাল সালু” প্রকাশিত হয়। ১৯৫১ সালের ১২ মে নয়াদিল্লীতে পাকিস্তান দূতাবাসে প্রেস এ্যাটাসি পদে যোগদান করেন। এরপর ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে অষ্ট্রেলিয়ার রাজধানী সিউনীতে বদলী হন। সেখানে তিনি ১৯৫৪ সালের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। ১৯৫৬ সালের জানুয়ারি মাসে পাকিস্তান সরকার ওয়ালী উল্লাকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তথ্য পরিচালক হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় পাঠান। পরবর্তীতে এ পদটি বিলুপ্ত হলে তাঁকে সেখানকার দূতাবাসের প্রেস এ্যাটাচী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। সেখানে তিনি ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। এরপর লন্ডনে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে প্রেস এ্যাটাচি ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত পশ্চিম জার্মানীর বনে ফার্ষ্ট সেক্রেটারীর মর্যাদায় প্রেস এ্যাটাচি ছিলেন। ১৯৬১ সালে তিনি প্যারিসে বদলী হন। সেখানে তিনি ১৯৬৭ সালের আগষ্ট মাস পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। সে সময় ১৯৫৫ সালের ৩ অক্টোবর এক ফরাসি মহিলাকে বিয়ে করে জীবন সঙ্গীনি হিসেবে গ্রহণ করে নেন। বিয়ে হয় করাচিতে। স্ত্রীর নাম ছিল “ অ্যানি মারি লুই রোজিতা মার্সেল লিবো” বিয়ের আগেই তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নাম রাখেন আজিজা মোসাম্মৎ নাসরিন।
১৯৬৭ সালের ৮ আগষ্ট ওয়ালী উল্লাহ ইউনোস্কোতে “প্রোগ্রাম স্পেশালিষ্ট” হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলনের সময় বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে কাজ করার অপরাধে তাঁর চাকরি চলে যায়। কারো মতে ১৯৭০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত একাজে নিয়োজিত ছিলেন এবং এসময় তাঁর চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এ চাকরির পর তিনি আর পাকিস্তান দূতাবাসে ঢুকেননি।
১৯৭১ এর মার্চ মাসে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম শুরু হলে তিনি প্যারিসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে জনমত গঠনে নিজেকে নিয়োজিত করেন। সে সময়ে চাকরি হারানোর ফলে তিনি অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েন। তবুও তিনি ভেঙ্গে পড়েননি। পাকিস্তান সরকার তাঁকে ইসলামাবাদে বদলি করার শর্তে চাকরি ফেরত দিতে চেয়েছিল, কিন্তু ওয়ালী উল্লাহ তাঁদের সে প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন।
সুদূর প্রবাসে সর্বদা উচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করলেও তাঁর স্বদেশ প্রেমে কখনো কোন সময়ই ঘাটতি ছিলনা। ১৯৭১ সালে তিনি প্যারিসে বসেই আমাদের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভাবে অংশ গ্রহণ করেন। ফ্রান্স সরকার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও নোবেল প্রাইজ বিজয়ী ঔপন্যাসিক বিশ্বখ্যাত মনিষী “আন্দ্রে মালরো” ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের পক্ষে। ফলে তিনি সেখানে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের পক্ষে কাজ করার সুযোগ পান। আন্দ্রে মালরো সে সময় বলেছিলেন “তিনি বাঙালিদের জন্য যুদ্ধে যেতেও প্রস্তুত”। “আন্দ্রে মালরো এবং “জ্যাঁ পল সার্ত্রের” সাথে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রক্ষা করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনের বিশাল দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভারতের সর্বদলীয় নেতা জয় প্রকাশ নারায়নের নেতৃত্বে নয়াদিল্লীতে “ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঈড়হভবৎবহপব” (ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স) নামে বাংলাদেশের সমর্থনে একটি কমিটি গঠন করেন। এ কমিটির মূল লক্ষ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠন। এ কনফারেন্স যোগদানের জন্য নিমন্ত্রিতদের তালিকায় বহু বিশ্ব বরেণ্য শিল্পী ও রাজনীতিবিদের সাথে সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহর নামও ছিল। বাংলাদেশের ওপর পাকিস্তানী বর্বর হানাদার সৈন্যরা যে পাশবিক আক্রমণ চালিয়ে ছিল এবং যেভাবে নির্মম উপায়ে নির্যাতন চালানো হচ্ছিল বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান ছাত্র শিক্ষকদের যেভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তার সচিত্র খবর পেয়ে ওয়ালী উল্লাহ গভীরভাবে মর্মাহত ও বিচলিত হয়ে পড়েন। দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য এবং একটি স্বাধীন দেশের জন্য বিশ্ব জনমত গঠনে দিন রাত পরিশ্রম করেছেন ওয়ালী উল্লাহ।
এই মহান বীর, মুক্তিযোদ্ধা গল্পকার, সাহিত্যিক ও উপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহর প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত অনেক গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রয়েছে সে সবের মধ্যে হতে যেসব গ্রন্থের পরিচয় পাওয়া যায় তার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এখানে তুলে ধরছি : ১। নয়ন তারা- পূর্বাশা প্রকাশনী কলকাতা, প্রকাশ কাল-১৯৪৪ সাল। ২। দুই তীর- নওরোজ কিতাবিস্তান ঢাকা-১৯৬৫ সাল। ৩। গল্প সমগ্র – শুকসারী-কলকাতা- ১৯৭২ সাল। ৪। উপন্যাস- লালসালু” কমরেড পাবলিকার্স- কলকাতা-১৯৪৪ সাল। ৫। চাঁদের আমাবস্যা- নওরোজ কিতাবিস্তান-ঢাকা-১৯৬৪ সাল। ৬। কাঁদো নদী কাঁদো-নওরোজ কিতাবিস্তান-ঢাকা-১৯৬৮ সাল। ৭। নাটক- বহীপীর গ্রীন বুক হাউস-ঢাকা-১৯৬০ সাল। ৮। তরঙ্গ ভঙ্গ- বাংলা একাডেমী ঢাকা- ১৯৬৪ সাল। ৯। সুড়ঙ্গ- বাংলা একাডেমি ঢাকা-১৯৬৪ সাল। এখানে উল্লেখ্য বাংলা ভাষায় লিখিত সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহর যে সাড়া জাগানো উপন্যাস “লাল সালু” ইংরেজি, ফরাসী সহ পৃথিবীর অনেক ভাষায় অনুবাদ হয়ে প্রকাশিত হয়। তাঁর অপ্রকাশিত গ্রন্থগুলো হচ্ছে। ১। ঞযব ঁমষু ধংরধহং (দি আগলি এশিয়ান) (রাজনীতি সচেতন উপন্যাস সূলভ গ্রস্থ) এটি টমষু অসবৎরপধহং (আগলি আমেরিকানস) বইটির জবাবে লিখিত। ২। ঘড় অ সধৎধহঃধ (নো এ মারানাটা) (চাঁদের অমাবস্যার অনুবাদ)। ৩। ঐড় িফড়ংব ঙহব পড়ড়শ নবধহং. অহ অংরধহ ধফাবহঃঁৎব রহ ভৎধহপব (হাও ডাস ওয়ান কুক বিনস এন এশিয়ান এ্যাডভেনসার ইন ফ্রান্স) রসাত্মক রচনা)। ৪। ওজানে মৃত্যু (নাটক) প্রভৃতি পুস্তক সমূহ। তাঁর জীবনে তিনি তাঁর লেখায় স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন পুরস্কার ও উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। সে পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে- ক) ১৯৫৫ সালে কারো মতে ১৯৬১ সালে কথাশিল্পী সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ পি. ই. এন (চঊঘ) পুরস্কার পান “বহিপীর” নাটকের জন্য। খ) ১৯৬২ সালে কারো মতে ১৯৬১ সালে তিনি বাংলা উপন্যাসে বাংলা একাডেমী পুরস্কার পান। এবং ১৯৬৫ সালে তাঁর “দুই তীর” গল্প গ্রন্থের জন্য আদমজী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। এসব পুরস্কার ও সম্মাননা ছাড়াও তিনি ১৯৬৯ সালে সপরিবারে তিনি ঢাকায় আসলে ঢাকার সাহিত্যমহলে তিনি ব্যাপকভাবে সংবর্ধিত হন। সে সময় তিনি ঢাকায় প্রায় এক মাস সময়কাল অবস্থান করেন। এরপর ১৯৭০ সালে তিনি আরেকবার ঢাকায় আসেন। মৃত্যুকালে এ মহান মানবতাবাদী, মুক্তিযোদ্ধা মহান কথাশিল্পী বেকার ছিলেন। বাংলা সাহিত্যে বিভূতিভূষণ, তারাশঙ্কর ও মানিক বন্দেপাধ্যায়ের সাথে সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহর নাম শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী হিসাবে স্বর্ণাক্ষরে ইতিহাসে লেখা থাকবে। তাঁর অকাল মৃত্যু না হলে মহান মুক্তিযুদ্ধকে ভিত্তি করে হয়ত অনেক বড় মহৎ সৃষ্টি বাঙালিকে তথা প্রজন্মের সন্তানদের উপহার দিতে পারতেন। ব্যক্তিগত জীবনে সৈয়দ উয়ালী উল্লাহ রুপসী বাংলার কবি জীবনান্দ দাশের মতো মিতবাক, আত্মমূখী, বন্ধুবিরল, নির্জনতাপ্রিয় হলেও রাজনীতি সচেতন ছিলেন। ধর্মের আনুষ্ঠানিকতার প্রতি তাঁর কোন শ্রদ্ধাবোধ ছিলনা। তবে ঈশ্বরের অস্তিত্বে আস্থা বা অনাস্থা কোনটাই বোধ হয় তাঁর ছিলনা। যেমন ছিলনা সার্ত্রের। কিন্তু মানুষের আত্মশক্তিতে তাঁর আস্থা ছিল অসামান্য। তিনি বিশ্বাস করতেন মানুষের দুরবস্থার দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে। ঈশ্বর বা অন্য কোনো অলৌকিক শক্তির ঘাড়ে চাপানো অর্থহীন। তাই বলা যায় ওয়ালী উল্লাহর জীবন দর্শন ছিল সার্ত্রের অস্তিত্ববাদী দর্শণের নিকটবর্তী। যে দর্শনের শিকড় মানবতাবাদেরই প্রোথিত। (সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহর জীবন ও সাহিত্য পৃঃ ৫১ দ্রষ্টব্য)। এ অবস্থায় ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর ৪৯ বছর বয়সে প্যারিসের উপকন্ঠে নিজ ভিলায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, একপুত্র ও এক কন্যা রেখে যান। সৈয়দ আবুল মকসুদের মতে, “তাই মনে হয় তিনিও যেন মুক্তিযুদ্ধের একজন শহীদ সহযোদ্ধা। ্ত্ত্ত- সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহর মৃত্যু আমাদের সংগ্রামের একজন মৃতুঞ্জয় মুক্তি সেনারই মৃত্যু। (সূত্র ঃ সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহর জীবন ও সাহিত্য গ্রন্থ, দ্রষ্টব্য)
ধর্মান্ধ মৌলবাদের বিরুদ্ধেই ছিল এ মহান সাহিত্যিকের অবস্থান। যা তাঁর প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তুতে ফুটে উঠে। সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ একজন পথ প্রদর্শক। আমাদের সকলকে পথ চলার দিক নির্দেশনা তিনি তাঁর লেখায় দিয়ে গেছেন। এত্থেকে সমাজ, রাষ্ট্র বিশেষ করে দেশের সচেতন জনগণ উপকৃত হতে পারবে বলে আমি মনে করি।
সূত্র ঃ ১। আব্দুল হক চৌধুরী লিখিত বন্দর শহর চট্টগ্রাম। ২। সৈয়দ আবুল মকসুদ রচিত সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ জীবন ও সাহিত্য। ৩। আব্দুল মান্নান সৈয়দ লিখিত সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ পুস্তক দ্রষ্টব্য

x