কক্সবাজার মহাসড়কে বন্যার পানি, যান চলাচল ব্যাহত

চন্দনাইশ প্রতিনিধি

সোমবার , ১৫ জুলাই, ২০১৯ at ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
50

অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় পুরো চন্দনাইশ উপজেলা এখন বন্যার পানিতে ভাসছে। ফলে উপজেলার পানিবন্দী মানুষ মানবেতর জীবন-যাপন করছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তাও পাচ্ছে না বানবাসী জনগণ।
এদিকে উপজেলার দক্ষিণ হাশিমপুর বড়পাড়া (কসাইপাড়া) এলাকায় চট্টগ্রাম-কঙবাজার মহাসড়কের উপর দিয়ে ২ ফুট উচ্চতায় বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গত ১৩ জুলাই সকাল থেকে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। চালকরা বলছেন সাতকানিয়ার কেরানীহাট অংশ কোন প্রকারে পার হতে পারলেও চন্দনাইশের কসাইপাড়া অংশ পার হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
৮ দিন ধরে পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর দিন যাপন করছে উপজেলার দেড় লক্ষাধিক মানুষ। গত ১১ ও ১২ জুলাই শঙ্খনদের পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করলে উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। ১২ জুলাই রাতের বেলা বন্যার পানি কিছুটা কমে আসলেও ১৩ জুলাই দুপুর থেকে পুনরায় বাড়তে থাকে বন্যার পানি। যা বর্তমানে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বন্যায় রূপ নিয়েছে। অনেকেই নিজস্ব বাড়ি-ঘর ফেলে নৌকায় করে আত্মীয়-স্বজন কিংবা সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিচ্ছে। স্মরণকালের সবচেয়ে এ ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার ৯০% বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে। এদিকে সরকারি ও নিজস্ব তহবিল থেকে ত্রাণ নিয়ে বন্যা দুর্গত এলাকায় ছুটছেন সরকারি কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা। এছাড়া স্থানীয় কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছে বন্যা দুর্গত এলাকায়। তবে তীব্র পানির স্রোতের কারণে প্রকৃত বানবাসীর কাছে ত্রাণ নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে এলাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ দোহাজারী বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবহেলার কারণে গত ১২ জুলাই রাত থেকে সাতকানিয়ার উত্তর কালিয়াইশসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, গতকাল ১৪ জুলাই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপর দিয়ে তীব্রগতিতে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় কোন ধরনের যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছিল না। চন্দনাইশের কসাইপাড়া অংশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে কিছু কিছু যানবাহন চলাচল করলেও তীব্র যানজট লেগে আছে মহাসড়কে। এতে সড়কের উভয় পাশে কমপক্ষে ২০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান বাস চালক রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সকাল থেকে বাগিচাহাট অংশে দাঁড়িয়ে আছি। বিকেল ৫টার পরও কসাইপাড়া অংশ অতিক্রম করা সম্ভব হয়নি।
কক্সবাজার থেকে গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা একটি মালবাহী ট্রাকের চালক আবদুল সালাম জানান, গত ১৩ জুলাই দিবাগত রাত ৪টার সময় কেরানীহাট পৌঁছেন। কেরানীহাট থেকে ছেড়ে আসার পর জ্যামে আটকে পড়েন। তিনি রাত ৪টা থেকে গতকাল ১৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সাড়ে ১১ ঘণ্টায় মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে বিওসি মোড় এলাকায় আসতে পেরেছেন। এভাবে শত শত যানবাহন মহাসড়কে আটকে আছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। মহাসড়কে তীব্র যানজট হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের পায়ে হেঁটেও গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়।
দোহাজারী সংবাদপত্র বিতানের স্বত্বাধিকারী মো. নুরুল আমিন বলেন, সংবাদপত্র বহনকারী গাড়িও ভোরে চট্টগ্রাম নগরী থেকে এসে বাগিচাহাট অংশে আটকে পড়ে। তীব্র স্রোতের কারণে হেঁটে গিয়েও পত্রিকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বিকেল ৪টা পর্যন্ত গতকাল ১৪ জুলাইয়ের সংবাদপত্র হাতে পাননি বলে জানান। বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। উপজেলার বানবাসী একটি পরিবারেও চুলায় আগুন জ্বালানো সম্ভব হয়নি। অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে হাজার হাজার পরিবারের সদস্যরা। সাতকানিয়ার কালিয়াইশ এলাকার অনেকেই অভিযোগ করেন সরকারি এবং ব্যক্তিগতভাবে যেসব ত্রাণ আসছে তা দুর্গত এলাকার প্রকৃত অসহায়রা পাচ্ছে না।
এদিকে যানবাহন চলাচল করতে না পারার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু পিকআপ চালক যাত্রীদের জিম্মি করে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে তিনগুণ বেশি ভাড়া আদায় করে নিচ্ছে। বিকেল ৪টার দিকে দোহাজারী সদরে দেখা যায়, দোহাজারী থেকে কেরানীহাটের নির্ধারিত ভাড়া ১৫ টাকা। কিন্তু অসাধু চালকরা প্রায় তিনগুণ বাড়তি টাকা আদায় করছে।
খরস্রোতা শঙ্খনদীর পানি উপচে তীব্রগতিতে চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার চাগাচর বারুদখানা, রায়জোয়ারা, দিয়াকুল, লালুটিয়া, বৈলতলী, বরমা এবং ধোপাছড়ি ইউনিয়ন দিয়ে গতকাল রবিবার পর্যন্ত তীব্র গতিতে পাহাড়ি ঢলের পানি লোকালয়ে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।
চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম বদরুদ্দোজা সাংবাদিকদের বলেন, অবিরাম বর্ষণের ফলে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার পানিবন্দী অসহায়দের মাঝে সরকারি ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও স্ব-স্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

x