কক্সবাজারে পৌর মেয়র ও সাংসদের সমালোচনার মুখে দুদকের উচ্ছেদ অভিযান

আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার

বুধবার , ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৯:৫৮ অপরাহ্ণ
568
কক্সবাজারে পাহাড় কাটা ও সরকারি জমি দখলের বিরুদ্ধে চালানো দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর নেতৃত্বাধীন অভিযান  সমালোচনা ও বিক্ষোভের মুখে পড়েছে। কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান দুদক-এর অভিযানকে বেআইনী বলে আখ্যা দিয়েছেন। একই অভিযোগ তুলে উচ্ছেদ বন্ধে আজ বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুদক-এর ঢাকাস্থ কার্যালয়ে দেখা করেছেন সাংসদ সাইমুম সরওয়ার  কমল।
কক্সবাজার শহরের ফাতেরঘোনায় গত ২৯ ও ৩০ তারিখ অভিয়ান চালিয়ে পাহাড়ী এলাকায় ও সরকারি খাস জমিতে  বসবাসকারী শতাধিক বাড়িঘর উচ্ছেদ করে। এনিয়ে উচ্ছেদের শিকার লোকজন পুনর্বাসনের দাবিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।
ঘটনার ২ দিন পর স্থানীয় সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল ক্ষতিগ্রস্তদের শান্তনা দিতে উচ্ছেদকৃত এলাকা পরিদর্শনে যান। এসময় এক সমাবেশে স্থানীয় সাংসদ দুদকের উচ্ছেদ অভিযানকে ‘বিনা নোটিসে চালানো বেআইনী’ বলে আখ্যায়িত করে উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানান।
এরই মাঝে গত ৪ ফেব্রুয়ারি শহরের জেলগেইট ও লারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো অর্ধশতাধিক বাড়িঘর উচ্ছেদ করা হয়। একইভাবে পরদিন সদর উপজেলার পিএমখালীতে অভিযান চালিয়েও বনভূমি থেকে শতাধিক বাড়িঘর উচ্ছেদ করে দুদক। এনিয়ে উচ্ছেদের শিকার জেলগেইট ও লারপাড়া এলাকার লোকজনও একইভাবে বিক্ষোভ শুরু করে। পাশাপাশি প্রশাসনসহ সরকারি দলের নেতাদের কাছেও ধর্ণা দিতে শুরু করে।
বিক্ষুব্ধ লোকজন বুধবার কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের সাথে দেখা করতে যান। এসময় দুদকের অভিযানকে তিনিও বেআইনী বলে আখ্যা দেন। সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল একই অভিযোগ তুলে উচ্ছেদ বন্ধে বুধবার দুদকের ঢাকাস্থ কার্যালয়ে মহা পরিচালকের সাথে সাক্ষাত করেন ।
দুদক ডিজির সাথে বৈঠকে যাচাই-বাছাই না করেই উচ্ছেদের অভিযোগ তুলে সাংসদ বলেন, ‘কক্সবাজারের ফাতেরঘোনা, জেল গেইট ও লারপাড়ায় যে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে তাতে প্রায় ৮০ ভাগ নিরপরাধ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যারা পাহাড় কেটেছে তাদের পক্ষে আমি নই। যারা ঝুঁকিপুর্ণ স্থানে বসবাস করছে তাদেরকেও নোটিশ সাপেক্ষে উচ্ছেদ করা যেতে পারে। কিন্তু ওই এলাকার অধিকাংশ মানুষ ৪০/৫০ বছর ধরে বসবাস করে আসছে।’
পরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংসদ কমল এ ধরনের খাস জমিতে বসবাসকারী কাউকে উচ্ছেদ না করে বরং তাদের নামেই জমিগুলো বন্দোবস্ত দেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান ।
তিনি বলেন, ‘জমিগুলো বসবাসরত মানুষের নামেই বন্দোবস্ত করা হবে। কোনো বিত্তবানকে হোটেল-মোটেল করার জন্য বরাদ্দ দেয়া হবে না।‘
এসময় তিনি কক্সবাজার শহর ও ঝিলংজাবাসীকে উচ্ছেদ আতংকে না ভোগার আহ্বান জানিয়ে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
তিনি আরো দাবি করেন, পুনর্বাসন ছাড়া কোনো বসতি উচ্ছেদ করা হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী তাকে জানিয়েছেন।
এদিকে এ বিষয়ে দুদক-এর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
x