কক্সবাজারে পর্যটকের আনাগোনা বাড়ছে  

আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার

বৃহস্পতিবার , ১০ জানুয়ারি, ২০১৯ at ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
108
রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত থাকায় ধীরে ধীরে পর্যটক বাড়ছে কক্সবাজারে। নির্বাচনের আগেপরে পক্ষকালের বেশি সময় ধরে পর্যটক শূন্য থাকার পর গত কয়েকদিন ধরে পর্যটক বাড়তে শুরু করে কক্সবাজারে। আজ বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) কক্সবাজারে ২০ হাজারের মতো পর্যটক অবস্থান করছেন বলে ধারণা হোটেল মালিকদের। আগামীকাল শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলেও ধারণা তাদের।
নির্বাচনী খরায় গত পক্ষকালেরও বেশি সময় ধরে প্রায় নিষ্প্রাণ কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে গত ২/৩ দিন ধরে ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরতে শুরু করে। সমুদ্র সৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। অনেকেই আসছেন পরিবারের শিশু-বুড়োসহ সকল সদস্যকে নিয়ে। পর্যটকদের আগমন বাড়ায় সাগরপাড়ের বন্ধ মার্কেট ও দোকানপাটগুলো খুলতে শুরু করেছে। আবাসিক হোটেলগুলোও জমে ওঠতে শুরু করেছে। তবে তা অন্যান্য বছরের তুলনায় খুব নগন্য বলে মনে করেন হোটেল ব্যবসায়ীরা।
সী-বীচ হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি নুরুল আবছারের  মতে, ‘নির্বাচনী খরা’য় কক্সবাজার পক্ষকালের বেশি সময় ধরে পর্যটক শূণ্য থাকার পর বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ ২০ হাজারের মতো পর্যটক কক্সবাজারে এসেছেন। যদিও অন্যান্য বছর এই সময়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক পর্যটক অবস্থান করতেন।
ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অভ কক্সবাজার (টোয়াক বাংলাদেশ)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে কক্সবাজারে পর্যটক বাড়তে শুরু করেছে।’ নির্বাচন নিয়ে মানুষের মনে যে চাপা আতংক ছিল তা ধীরে ধীরে কেটে যাওয়ায় কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি।
দীর্ঘ সময় পর্যটকশূন্য থাকার পর গত কয়েকদিন ধরে বনবিভাগের পিকনিক স্পটগুলোতেও পর্যটক বাড়তে শুরু করেছে বলে জানান কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর।
তিনি বলেন, ‘পর্যটক বাড়ার কারণে বনবিভাগের পিকনিক স্পটগুলোও জমে ওঠতে শুরু করেছে।’
প্রতি বছর দুই ঈদের ছুটিতে এবং খ্রিস্টীয় বছরের শেষ পক্ষকাল থেকে নতুন বছরের প্রথম পক্ষকাল পর্যন্ত কক্সবাজারে উপচে পড়া ভিড় থাকে। এসময় হোটেল-মোটেলে কক্ষ পাওয়া হয় দুষ্কর। বিশেষ করে বছরের শেষদিন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ঘটে রেকর্ডসংখ্যক মানুষের মিলনমেলা। পর্যটকদের ভিড়ে রাস্তাঘাটে দেখা যায় যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। বিপণীকেন্দ্রগুলোও সরগরম থাকে গভীর রাত পর্যন্ত। কিন্তু এবারই প্রথম সেই দৃশ্য দেখা গেল না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের পর্যটন গত পক্ষকালেরও বেশি সময় ধরে খরায় পুড়েছে বলে মনে করেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
তবে সেই ‘খরা’ কেটে নিয়ে ‘গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে’ কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প ধীরে ধীরে সিক্ত হয়ে ওঠছে বলে মনে করেন কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কবি আবুল কাসেম সিকদার।
তিনি আশা করেন, আগামীকাল শুক্রবার ও পরশু শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
শনিবার টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজে গত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক আগাম টিকেট বিক্রি হয়েছে বলে জানান কেয়ারি ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস-এর সহকারি মহা ব্যবস্থাপক এসএম আবু নোমান।
কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে কক্সবাজারে পর্যটকদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় টুরিস্ট পুলিশও পর্যটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও আশপাশের এলাকাগুলোতে নজরদারি ও টহল বাড়িয়েছে যাতে পর্যটকেরা নির্বিঘ্নে ও নিশ্চিন্তে ঘোরাঘুরি করতে পারে।’
x