কক্সবাজারে তিন প্রাচীন দীঘিকে ঘিরে ৩৬ কোটি টাকার সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প

আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার

শুক্রবার , ২৯ মার্চ, ২০১৯ at ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ
180

কক্সবাজার শহরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী তিন দীঘিকে ঘিরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ৩৬ কোটি টাকার সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প। শহরের লালদীঘি, গোলদীঘি ও বাজারঘাটাস্থ নাপিতা পুকুরকে কেন্দ্র করে এসব সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। সম্প্রতি এসব প্রকল্পের কার্যাদেশও প্রদান করা হয়েছে। তবে এসব পুকুরের পাড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অফিসসহ অসংখ্য প্রভাবশালী দখলদার থাকায় কবে নাগাদ এসব প্রকল্পের কাজ শুরু হবে তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে রয়েছে নানা সন্দেহ-সংশয়।
কউক সূত্র মতে, কক্সবাজার শহরকে একটি পরিকল্পিত পর্যটন নগরী হিসেবে গড়তেই শহরের লালদীঘি, গোলদীঘি ও বাজারঘাটাস্থ নাপিতা পুকুরকে কেন্দ্র করে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব পুকুর পুনঃখননসহ ভৌত সুযোগ সুবিধার উন্নয়ন ঘটিয়ে আধুনিক ও পর্যটনবান্ধব হিসাবে গড়ে তোলা হবে। ইতোমধ্যে সরকারিভাবে ই-টেন্ডারের মাধ্যমে ৩৬ কোটি টাকার তিনটি প্রকল্পের কার্যাদেশ তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে। ২০২০ সালের জুনের দিকে প্রকল্প তিনটির কাজ শেষ হবার কথা রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় পুকুর তিনটি ঘিরে সবুজ বেষ্টনী, সাইকেল স্ট্যান্ড, পুকুরের পাড় বাঁধাই, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, আলোকসজ্জা, বিদ্যুতায়ন, পয়:নিষ্কাশন ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে শহরের চিত্রই পাল্টে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে বর্তমানে লালদীঘির পূর্ব ও পশ্চিমপাড়ে দুটি মসজিদ, দক্ষিণপাড়ে আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি, জাসদ, ছাত্র ইউনিয়ন অফিসসহ একাধিক স্থাপনা রয়েছে। নাপিতা পুকুরও রয়েছে অবৈধ দখলে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন অনেকটা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন অনেকে। অবশ্য কউক চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ খুব শীঘ্রই পুকুরগুলো পুন:খননের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে বলে আশা করে বলেন, শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও দীঘি তিনটির আধুনিকায়নের স্বার্থেই দীঘি তিনটির আশপাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনাগুলো সরিয়ে বা সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করেই কাজ শুরু করা হবে। ইতোমধ্যে মসজিদ ও রাজনৈতিক দলের অফিসগুলো সমঝোতার মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে নিতে দায়িত্বশীলদের সাথে কয়েকবার বৈঠক হয়েছেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, কক্সবাজারকে সাজাতে কউক গঠনের পর তিন বছর পার করছি। প্রথম বছর পুরো জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো সনাক্ত করেছি। ২য় বছরে এগুলোর প্রকল্প তৈরি ও একনেকে অনুমোদনের জন্য সম্ভাব্য বাজেট চেয়ে মন্ত্রনালয়ে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে এবং কিছু কিছু প্রকল্প পাশও হয়েছে। অনুমোদন ও বাজেট পাওয়া প্রকল্পগুলোর কিছু কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। চলমান প্রকল্পের মাঝে রয়েছে কউকের বহুতল ভবণ। আর তিন পুষ্করিণী আধুনিকায়ন।
চলমান কাজগুলো যথাসময়ে শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি আরো বলেন, শহরের প্রধান সড়কসহ উপসড়কগুলো যানজটে নাকাল রাখছে স্থানীয় ও পর্যটকদের। এ থেকে মুক্তি পেতে, শহরের হলিডে মোড় থেকে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত দু’লেনের রাস্তার প্রস্তাবনা দেয়া আছে। বাজেট পাওয়া গেলেই কাজ শুরু হবে। এছাড়া রাস্তার প্রশস্ততা বাড়াতে জমি অধিগ্রহণের কাজও চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন কউক চেয়ারম্যান।

x