কক্সবাজারে এক রাতেই বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৩

কক্সবাজার প্রতিনিধি

শনিবার , ২৩ মার্চ, ২০১৯ at ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ
166

কক্সবাজার শহরতলীর খুরুশকুল ও টেকনাফে গতকাল শুক্রবার পুলিশের সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই ইয়াবা কারবারি ও এক ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন- কক্সবাজার শহরের খুরুশকুল ব্রিজ এলাকার মো. হোসেনের ছেলে ও নিকেল বাহিনীর প্রধান নিকেলের ভাই ছিনতাইকারী কোরবান আলী এবং টেকনাফ সদরের নাজিরপাড়ার আজাহার মিয়ার ছেলে ইয়াবা কারবারী নূর মোহাম্মদ প্রকাশ মংগ্রী (৪০) ও টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়ার আব্দুর শুক্কুরের ছেলে নুরুল আমিন (৩৫)।
পুলিশের দাবি, এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় টেকনাফে পুলিশের সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) সনজিব, কনস্টেবল আল আমিন, শরিফুল ইসলাম, আরশেদুল ও সাব্বির এবং খুরুশকুলে এসআই রিয়াদসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এনিয়ে গত বছরের ৪ মে থেকে সারাদেশে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানে কক্সবাজার জেলায় ৬৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮ জন রোহিঙ্গাসহ টেকনাফে ৪৮ জন এবং উখিয়ায় ২ জন নিহত হয়েছেন।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ আজাদীকে জানান, গোপন সংবাদ ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) ভোররাতে টেকনাফের রাজারছড়া এলাকায় ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধারে যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াবা কারবারিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে ইয়াবা কারবারিরা পিছু হটলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই ইয়াবা কারবারির মরদেহ, ২০ হাজার পিস ইয়াবা ও ২০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ দুটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি নুর মোহাম্মদ ও নুরুল আমিনের বলে শনাক্ত করা হয়।
ওসি জানান, নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে মাদক, হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা, সাংবাদিকের ওপর হামলা, মানি লন্ডারিং, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০টি মামলা রয়েছে। আর নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে হত্যা, মানি লন্ডারিং, বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩টি মামলা রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙের মেডিকেল অফিসার ডা. শোভন দাশ বলেন, নুর মোহাম্মদের শরীরের তিনটি ও নুরুল আমিনের শরীরে চারটি গুলির জখম দেখা গেছে। এদিকে কক্সবাজার শহরের খুরুশকুল ব্রিজ এলাকায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পর্যটক হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও চিহ্নিত ছিনতাইকারী মো. কোরবান আলী (২৫) নিহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও সাত রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের দাবি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চলাকালে ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিয়াদসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
কক্সবাজার ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ন কবীর আজাদীকে জানান, খুরুশকুল ব্রিজ এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে এমন খবর পেয়ে ডিবি পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে ছিনতাইকারীরা। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এবং অস্ত্রসহ কোরবানকে আটক করে পুলিশ। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। কোরবান কক্সবাজার শহরের নিকেল বাহিনীর প্রধান নিকেলের ভাই। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্রসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে। ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর কক্সবাজারের জাম্বুর মোড় এলাকায় পর্যটক আবু তাহের সাগরকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে কোরবান। নিহত পর্যটক সাগর ফেনীর সোনাগাজী থানার মংগলগান্ধী গ্রামের শফিউল্লাহর ছেলে। জানা যায়, সারাদেশে মাদক কারবারী রয়েছে তিন হাজার জনেরও বেশি। যার মধ্যে কক্সবাজার জেলার মাদক কারবারী ১ হাজার ১৫১ জন। এরমধ্যে ৯শ জনের বেশিই টেকনাফের। তালিকাভুক্ত এসব ইয়াবা কারবারীর মধ্যে গডফাদারসহ ১০২ জন ইয়াবা কারবারী গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে আত্মসমর্পন করেন। বর্তমানে তারা জেল হাজতে রয়েছেন। পাশাপাশি চিহ্নিত ইয়াবা কারবারীদের সম্পদ জব্দ করার জন্য আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে সিআইডি। ইতোমধ্যে কয়েকজন ইয়াবা কারবারীর সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কিন্তু ইয়াবা পাচার মোটেও থামেনি। এখনও প্রায় প্রতিদিনই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাদক উদ্ধার হচ্ছে। এবিষয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন আজাদীকে বলেন, মাদক কারবারীদের আমরা আহবান জানাচ্ছি, এখনো সুযোগ আছে, আপনারা মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। এ প্রসঙ্গে সাবেক সাংসদ ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, অনেক ইয়াবা কারবারী অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জনের পর মাদক ব্যবসা ছেড়ে ভিন্ন পেশায় চলে গেছে। আর নতুন নতুন মাদক কারবারী তৈরি হয়েছে। অনেক ইয়াবা কারবারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকায় নেই। ফলে ইয়াবা কারবার বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

x